চৌগাছার বাঘার বিলের মাছ মরা নিয়ে চলছে নানা ফন্দি

0

স্টাফ রির্পোটার, (যশোর): যশোরের চৌগাছায় একটি বিলের মরা মাছ নিয়ে চলছে নানা ধরনের ফন্দি ।

তবে মাছ চাষির দাবি স্থানীয়রা শক্রতা করে বিলের পানিতে বিষ কিংবা গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে তার লাখ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি সাধন করেছে।

অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন মাছ চাষি নিজে পরিকল্পিত ভাবে কিছু মাছ মেরে তা স্থানীয়দের ঘাড়ে চাপানোর পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা ঋণ থেকে মুক্তি পেতে এই ফাঁদ পেতেছেন।

জানাগেছে, যশোরের চৌগাছার লস্কারপুর গ্রামের মাছ চাষী আবুল কাশেম বিভিন্ন এলাকাতে খাল বিল লিজ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বানিজ্যিক ভাবে মাছ করে আসছেন। এমনই একটি বিল হচ্ছে স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বাঘার বিল।

প্রায় ৪০ বিঘা জলাকার তিনি স্থানীয়দের নিকট হতে বিঘা প্রতি বছরে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন। এই বিলে বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছসহ পাঙ্গাস ও দেশী হরেক রকমের মাছ আছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে ভ্যপসা গরম শুরু হয়। আবহাওয়ায় অনেকটা গুমোট। এই অস্থায় বিলের সিলভার কার্প মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। এরপর রুই কাতলা মাছও মরতে থাকে। মাছ চাষি আবুল কাশেমের দাবি কে বা কারা শত্রæতা বশতঃ বিলে বিষ অথবা গ্যাস ট্রাবলেট দিয়ে মাছ মেরে ফেলেছে।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিন বিলে যেয়ে দেখা যায়, বিলের সমস্ত পানিতে মরা মাছ ভেসে রয়েছে। স্থানীয় শিশু কিশোর ওই মরা মাছ সংগ্রহ করছেন। এ সময় কথা হয় মাছ চাষি আবুল কাশেমের সাথে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করা হয়।

আর খরা মৌসুমে ৭০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ হয়। মুলত ৭০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করি। বিল নিয়ে কতিপয় ব্যক্তির সাথে বিরোধ চলছে। আমি ধারনা করছি ওই শ্রেণির মানুষ গুলো আমার ক্ষতি করতে পারে। গত দ্ ুতিন দিনে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে তিনি জানান।

এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আবুল কাশেম একজন নাম করা মাছ চাষি, কিন্তু তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত রয়েছে। এক দিকে ঋণগ্রস্ত অন্য দিকে বিল এলাকার স্থানীয়দেও সাথে কিছুটা বিরোধ চলছে। তিনি পরিকল্পিত ভাবে কিছু মাছ মেরে এক ঢিলে দুই পাখি মারার ফাঁদ পেতেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়রা আরো জানান, যদি কেউ বিষ কিংবা টেবলেট দিয়ে মাছ মারতে চাই তাহলে ঝাকেঝাকে মাছ মরে ভেসে উঠবে। কিন্তু সেটি হয়নি। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রথমে সিলভার কার্প পরে রুই কাতলা মাছ মরছে। প্রথম দিকে যখন সিলভার কার্প মাছ মারা যেতে থাকে তখন আবুল কাশেম চুন ও এক ধরনের বিষ পানিতে প্রয়োগ করে, যাতে পানি পরিস্কার হয় এবং মাছ মরা কমে যায়।

ধারনা করা হচ্ছে তার ওই বিষের পরিমান বেশি হওয়ায় প্রতি দিনই কম বেশি মাছ মারা যাচ্ছে। এই মারা যাওয়াকে সে পুঁজি করে বড় কোন স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। তবে এ সবই স্থানীয়দের মনগড়া বক্তব্য বলে দাবি করেন মাছ চাষি আবুল কাশেম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here