জীবননগরে আলু চাষে লোকশান গুনছে কৃষকরা

0

চাষী রমজান, জীবননগর : গত বছর শেষের দিকে বাজারে আলুর দাম ভালো থাকায় এবছর আলুর আবাদ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল চুয়াডাঙ্গা জীবননগরের আলু চাষীরা।

অন্যের জমি চড়া দামে বড়গা নিয়ে অনেকেই করেছেন আলুর আবাদ, বাজার দর ভাল হওয়ায় সাভাবিকের চেয়েও অনেক বেসি জমিতে আলুর আবাদ করেছে জীবননগরের কৃষকরা কিন্তু বর্তমান বাজার দর নিমুখো হওয়ায় রিতিমত বিপাকে পড়েছে এই এলাকার চাষীরা।

সিজনের শুরুতে প্রতিকেজি আলু ৫০/৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমান বাজার দর নেমে ১০থেকে সাড়ে ১০টাকায় দাড়িয়েছে। আলুর পরবর্তি জমিতে বোরো মৌসুমের (ইরি) ধান রোপন করার জন্য অনেকেই লোকশান জেনেও আলু বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আর এধরনের কৃষকের দুর্বলতাকে পুজি করে এক শ্রেনীর অসাধু আলু ব্যাবসায়ী ইচ্ছা মতো দাম হাকিয়ে কিনছে কৃষকের কষ্টে ফলানো ফসল আলু।

কৃষক বলছে এবছর বীজ,সার,লেবারখরচ,সেচ ও জমি ভাড়া দিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করতে ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে আর বিক্রি হচ্ছে ৩০থেকে ৩১ হাজার টাকা। উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক চাষী রমজান বলেন আমি এবছর আমার ৯বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি ফলনও ভাল হয়েছে কিন্তু ক্রেতা সংকট ও ভাল বাজার দর না পাওয়ায় লোকশান গুনতে হচ্ছে যা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। উপজেলার মিনাজপুর গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দীন বলেন আমার ১০বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি ফলনো ভাল হয়েছে কিন্তু বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকশানের আতংকে আছি।

জীবননগর উপজেলার মাধপখালি কৃষক সংগঠনের সভাপতি রাজেদুল ইসলাম বলেন, উচ্চ মুল্যে বীজ ক্রয় করে আলুর আবাদ করে বিক্রির সময় সঠিক মুল্য পাচ্ছেনা কৃষকরা এবং গত দুমাস আগে আলুর বাজার দর ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় দাড়ালে বাজার নিয়ন্ত্রন রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নানান পদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখা গেলেও কৃষকের লোকশানের বেলায় বাজার নিয়ন্ত্রনে সরকারের নেই তেমন উদ্দ্যোগ। জীবননগর বাজারের বিশিষ্ট আলু ব্যবসায়ী আড়ৎদার মতিয়ার রহমান বলেন লাল আলু ১১ থেকে সাড়ে ১৩টাকা বিক্রি হচ্ছে আর সাদা আলু ১০ টাকায় পাইকাড়ি বিক্রি হচ্ছে এবং খুরচা বাজারে ২০ থেকে ২২টাকা বিক্রি।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে গত বছর উপজেলার ৮’শ ৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হলেও এবছরে বেড়ে দাড়িয়েছে ১২’শ ২৮ হেক্টরে যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here