তানোরে আমণখেতে পচন রোগ  দিশেহারা কৃষক

0

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে বোরো মৌসুমে ধান ও খড়ের বাম্পার ফলন এবং ভাল দাম পেয়েছেন কৃষক। ফলে চলতি মৌসুমে বেশ আগ্রহ নিয়ে কৃষকরা আমণ চাষ শুরু করেন। আমণের ভরা মৌসুমে পুরো মাঠ এখন সবুজের সমাহার। আমণের শুরু থেকে এবার অতি বৃষ্টি হয়েছে উঁচু-নিচু জমিতে বেশি বৃষ্টি পেয়ে খুশি হয়েছিল কৃষকেরা। তাদের মনে অনেক স্বপ্ন ও   আশা জেগে উঠেছিল ধান নিয়ে। সবই ঠিকঠাক ছিল। কিন্ত মাঝামাঝি সময়ে  আমনখেতে পচন রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়াই কৃষকের সেই স্বপ্ন উবে যেতে বসেছে। আমণখেতে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পচন দমন করতে পারছে না কৃষকেরা। এতে হাহাকার শুরু হয়েছে কৃষকদের মধ্যে। আমণখেতে পচন দুর করতে না পেরে আমনের ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।এদিকে স্থানীয় কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে থেকে কৃষকেরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, অধিকাংশ সময় তারা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে তেমন কোনো পরামর্শ না পেয়ে কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে অনুমান নির্ভর হয়ে উচ্চ মুল্যর কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্খিত ফল পাচ্ছেন না। অধিকাংশ সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত  ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেন না বলেও কৃষকদের অভিযোগ।

রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বলছে, এবার পচনসহ নানা ধরনের ব্যাধি ধরেছে আমন ক্ষেতে। একাধিক বার কীটনাশক প্রয়োগ করেও ফল মিলছেনা। তাছাড়া বাজারে ভেজার কীটনাশকে সয়লাব বাজার। কৃষকেরা চিনতে পারছেনা। এতে কীটনাশক বেশি খরচ করে আমন উৎপাদন খরচ বেশি পড়ছে। খীটনাশক কেনে আর্থি ভাবে প্রতারিত হচ্ছে কৃষক। ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কাও আছে।

তবে,মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আমনে পচন ও রোগ বালাইকে এবার অতি বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমকে দায়ী করছেন। সেসাথে মাঠ এবার গুটি স্বর্না ও একান্ন জাতে ধান বেশি চাষ হওয়ার এটাও একটা কারণ বলে মনে করছেন তারা।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টর এবং তানোর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় তিন হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বেশি আমন চাষাবাদ হয়েছে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার পাঁচন্দর স্কুলপাড়া গ্রামের বিধবা হানুফা বেওয়া। দুই প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে নিয়ে তার সংসার। সংসারে আয়ের কোন উৎস নেই তার। স্বামীর রেখে যাওয়া মাত্র এক বিঘা জমি তার শেষ সম্বল। চলতি মৌসুমে তিনি একান্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। শুরুতে ভাল ছিল। কিন্ত মাঝামাঝি সময়ে এসে তার আমনখেতে গোড়াতে ব্যাপক ভাবে পচন ধরেছে। শীষ না ফোটতেই গোড়া থেকে শুকনো খড়ের মত হয়ে গেছে। একাধিবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পচন দুর করতে পারেনি। ফলে তার আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।অন্যদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি ইউপির মোত্তাজাপুর গ্রামের কৃষক জোনায়েত আলী। তিনি এবার ১৩ বিঘা জমিতে একান্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। তার ১৩ বিঘা জমিতেই পচন ধরেছে। দুইবার পচনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজ হয়নি। একই গ্রামের আরো অর্ধশত কৃষকের একই অবস্থা। আমনখেত নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পচন নিয়ে শুধু তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের বিধবা হানুফা বেওয়া ও গাদাগাড়ী উপজেলার মোত্তাজাপুর গ্রামের কৃষক জোনায়েত আলী দিশেহারা তা নয়। চলতি মৌসুমে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজার হাজার কৃষক আমণখেতে গোড়া পচন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে চরম দুঃসচিন্তায় রয়েছে। কারণ অন্য পোকার আক্রমণ কীটনাশক প্রয়োগে সারলেও পচন সারছে না। যার ফলে আমন নিয়ে অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের কৃষকরা।

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমশের আলী, আমনে পচনসহ রোগ ব্যাধির কথা শিকার করে বলেন, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি হয়েছে। অনেক নিচু জমিতে পানি বেশি জমে থাকায় পচন ধরেছে । এছাড়া মাঝে মধ্যে ভ্যাসপা গরমেও এমটা হয়ে থাকে। তবে পচন খুব বেশি আমণখেতে ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি বলেন, কৃষকদের ক্ষেতে সরেজমিন গিয়ে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।তিনি আরো বলেন, কৃষকদের আমণখেত দেখে ভাল মানের কীটনাশক  প্রয়োগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।কিন্ত কৃষকেরা কীটনাশক কিনতে গিয়ে ডিলারদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক কিনছেন। এতে নিম্নমানের কীটনাশক স্প্রে করে ভাল ফল পাচ্ছেন না। এব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিয়মিত আমণখেত পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমণখেত নিয়ে কৃষকদের হতাশ হবার কোনো কারণ নাই।এব্যাপারে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম  বলেন, গত শনিবার ডিডি স্যারসহ আমরা বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের আমনখেত পরিদর্শন করছি। আমনে রোগ বালাই প্রতিরোধের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here