বাগমারার বাসুপাড়ায় পুকুর খননে জলাবদ্ধতায় ইউএনও’র দফতরে ক্ষতির অভিযোগ

0

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় অবৈধ ও অপরিকল্পিত যত্রতত্র পুকুর খননে জলাবদ্ধতায় চলতি মওসুমের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি দাবি করে বাসুপাড়া ইউনিয়নের কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (১৫সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক কৃষক পাঁচ শতাধিক কৃষককের স্বাক্ষরিত ক্ষতির পরিমান উল্লেখ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার লিখিত দাবি করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহমেদ অভিযোগ গ্রহণ ও ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনে আইন শৃংখলাবাহিনীর সহযোগীতা নিয়ে কর্যক্রম পরিচালনা করতে বলেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের নন্দনপুর, বালানগর, দেউলিয়া, সগুনা গ্রামের মধ্য দিয়ে গোপালপুর হয়ে পানি প্রবাহের দাঁড়া (ক্যানেল) ফকিরনী নদীতে পড়েছে। যুগ যুগ ধরে গণিপুর ইউনিয়নের পুড়াকয়া, মাধাইমুড়ি, আক্কেলপুর ও বাসুপাড়া ইউনিয়নের নন্দনপুর, বালানগর, সগুনা, গোপালপুর মোহম্মাদপুর সহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন নিয়ে ১৫/১৬টি গ্রামের নীচু এলাকার পানি এই পথে প্রবাহিত হয়। সম্প্রতি প্রভাবশালী মহল সগুনা গ্রামের নিকট রাস্তার উপর কালভাট, পোড়াকোয়া গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত রাস্তার উপর ব্রিজ, বালানগর রাস্তার উপরের ব্রিজসহ কয়েকট ব্রিজ-কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়ে মাছচাষ করায় পানি প্রবাহের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়েছে।

কৃষকরা জানান, গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দাঁড়াতে অন্তত ১৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে করে পানি প্রবাহের জায়গা বন্ধ হয়ে আশে পাশের জমিতে বর্ষায় উড়তি ফসল মরিচ, বেগুন, পটলসহ পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি সন্মুখীন হয়েছেন তারা। অভিযোগকারী বাসুপাড়া ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের কৃষক, মসলেম উদ্দিন, জহুরুল, আবুল কাশেম, খলিল উদ্দিন, সাহেব আলী, সাকিম ও বালানগর গ্রামের আলতাফ হোসেন, ময়েন উদ্দিন, আকবর আলী জানান, পানি প্রবাহের জায়গা জুড়ে গত কয়েক বছর ধরে পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা তৈরী হয়ে ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এবারে অতি বৃষ্টির কারণে এই ক্ষতির পরিমান আরো বেড়ে গেছে বলে তারা দাবি করেন। টানা বর্ষনে খাল-বিল ও পুকুর পরিপূর্ণ হয়ে পানি নামার অব্যবস্থাপনায় বৃষ্টিতে নিম্ন অঞ্চলের ধান ও পাট, পানবরজ, মরিচ, শাক-শবজির ক্ষেত তলিয়ে বছর বছর কৃষককের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফসলি জমিতে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে মোহম্মাদপুর, সগুনা, দ্বীপনগর, নন্দনপু, মাধাইমুড়ি, বালানগরসহ উপজেলার শত শত বিঘার বেশী ভাগ জমি অকেজো হয়ে পড়ে থাকছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here