ইউএনও’র কর্মচারি আরিফের শেষ রক্ষা হলো না

0

আলিফ হোসেন,তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের (অফিস সহায়ক) পিয়ন আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।অনেক দেন দরবার, কেচ্ছা-কাহিনী ও নাটক করেও আরিফের শেষ রক্ষা হলো না। তবে তার ঘনিষ্ঠ দুই সহচর আরিফকে বাঁচাতে এখানো বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার করছে গ্রামবাসী এদেরও শাস্তির দাবি তুলেছে।

এ ঘটনায় চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভিকটিম বাদি হয়ে দুই জনকে আসামি করে তানোর থানায় মামলা করেন মামলা নম্বর- ৩ /১৪৪। তানোর ইউএনও অফিসের পিয়ন আরিফ হোসেন (৩২) ও ভিকটিমের স্বামীকে আসামি করা হয়েছে। তানোর উপজেলা বিএনপির (সাবেক) সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং তানোর পৌর এলাকার রায়তান বড়শো মহল্লার মৃত আব্দুর রহিম মোল্লার পুত্র আরিফ হোসেন। উপজেলার তালন্দ ইউপির নারায়ণপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে তবে, মামলার পর পরই তারা গ্রেফতার এড়াতে গাঁ ঢাকা দিয়েছে।

এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃস্টি হয়েছে, আরিফের দৃস্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করে এলাকাবাসি সংশ্লিস্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায় আরিফের ঘনিষ্ঠ দুই সহচর ভিকটিমকে মামলা তুলে নিয়ে আপোষ-মিমাংসার জন্য নানা প্রলোভন দিয়েও মামলা প্রত্যাহারে ব্যর্থ হয়ে নানা ধরণের হুমকি-ধামকি দিয়েছে।

তবে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেস্টা আপোষ যোগ্য অপরাধ নয় বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কতিপয় কর্মকর্তা আরিফের পক্ষ নিয়ে ভিকটিমকে দোষারোপ ও প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে ধাঁমাচাঁপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস আগে আরিফ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে

ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সেই সুত্রে তার বাড়িতে আরিফের প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া শুরু হয়। সম্প্রতি গত ৫ সেপ্টেম্বর মদ পান করে মদ্যপ অবস্থায় আরিফ ওই নারীর বাড়িতে যায় এবং তার স্বামী না থাকার সুযোগে আরিফ ওই নারীকে ধর্ষণের চেস্টা করে।

এ সময় চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আরিফ কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে, সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার কাছে থাকা ইউএনও অফিসের এক গোছা চাবি ফেলে যায়।
ভিকটিম বিষয়টি ওই রাতেই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করেন এবং পরদিন সকালে ওই চাবি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুনানি হয়। এতে আরিফের পক্ষ নিয়ে উল্টো ভিকটিমকে দোষারোপ ও ভৎসনা করা হয়।

ফলে ন্যায় বিচার পাবার আশায় থানায় মামলা করেছেন।

এদিকে গ্রামবাসি জানান, আরিফ কি এমন টাকার মালিক যে অপরিচিত একজন নারীকে টাকা ধার দিবে আর সেই টাকা ফেরত দেবার নামে তাকে ফাঁসানো হবে, যার প্রতি তার এমন ধারণা তাকে টাকা ধার দিবেন কেনো এটা বিশ্বাস যোগ্য নয়, সে বাঁচার জন্য এসব নাটক করছে। তারা আরো ভিকটিমের স্বামী মাদকাসক্ত সে আরিফকে সহায়তা করেছে। এবিষয়ে আরিফ হোসেন জানান, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

ওই নারীর স্বামী তার বন্ধু। সেই সূত্রে ওই বাড়িতে মাঝে মধ্যে যান তিনি। বেশ কিছুদিন আগে তার কাছে থেকে টাকা ধার নেয় ওই নারী, সেই টাকা ফেরৎ দেবার কথা বলে তাকে বাড়িতে ডেকে ফাঁসানো হয়েছে। এক জন অপরিচিত ও যার প্রতি তার এমন ধারণা তাকে তিনি টাকা ধার দিবেন কেনো এমন প্রশ্নের কোনো সদোত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন আরিফ।

এব্যাপারে ভিকটিম ওই নারী জানান, আরিফের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। এমনিতেই মাঝে মধ্যে তার বাড়িতে আসতো। তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাতে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে আরিফ, ফলে বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে।

এনিয়ে তানোর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আরিফের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here