মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃস্টি আকর্ষণ প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছেদ অভিযান !

0

আলিফ হোসেন,তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জামায়াত-বিএনপিপ্রীতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এদিকে প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃস্টি আকর্ষণ এবং স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসকের(ডিসি) জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তাদের অভিযোগ বাজারের সিংহভাগ ব্যবসায়ী আওয়ামী মতাদর্শী হতদরিদ্র উচ্ছেদ অভিযানে এসব ব্যবসায়ী অর্থ উপার্জনের পথ হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ওদিকে জামায়াত-বিএনপি নেতাদের ঘর উচ্ছেদ না করে গোপণে লীজ দেয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ব্যবসায়ীদের মনে নানা প্রশ্ন ও মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

কেউ কেউ বলছে পৌর নির্বাচনের আগে গোপণে জামায়াত-বিএনপি নেতাদের লীজ দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান করে স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে আঘাত করা হয়েছে।
তারা বলেন, প্রকৃত পক্ষে সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারের জন্যই যদি উচ্ছেদ অভিযান তবে গোপণে হাটের জায়গা জামায়াত-বিএনপির নেতাদের লীজ দিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ কেনো ? লীজ দেয়া হলে সকলকেই দেয়া হোক।

স্থানীয়রা জানান, জামায়াত-বিএনপির নেতাসহ কয়েকজন প্রভাবশালী অবৈধভাবে বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান নির্মাণ ও কয়েক লাখ টাকা জামানত নিয়ে ভাড়া দিয়েছে,কেউ নিজেই ব্যবসা করছে, এমনকি এসব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ভুমি অফিস মামলাও করেছে।কিন্ত্ত রহস্যজনক কারণে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় ও জামায়াত-বিএনপির নেতাদের গোপণে লীজ দেয়ায় ব্যবসায়ীদের মনে এসব প্রশ্ন ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সৃস্টির পাশাপাশি উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এদের কেউ কেউ আবার এই ঘটনাকে
প্রশাসনের জামায়াত-বিএনপিপ্রীতি বলে অবহিত করেছে।

অন্যদিকে বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে কেউ কেউ পক্ষপাতিত্বের কথাও বলছে। ব্যবসায়ীরা বলছে,বাজারের অবৈধ ঘর উচ্ছেদ হলেও রহস্যজনক কারণে কয়েকটি ঘর উচ্ছেদ করা হয়নি। ফলে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকের ঘর উচ্ছেদ করা হলেও রহস্যজনক কারনে জামায়াত-বিএনপির নেতাদের ঘর উচ্ছেদ করা হয়নি। এমনকি একদিকে যখন উচ্ছেদ অভিযান চলছে, অন্যদিকে একই সময়ে জামায়াত-বিএনপির নেতাদের ঘর উচ্ছেদ না করে

গোপণে রাতারাতি ইজারা দেয়া হয়েছে।এমনকি তাদের ঘর রক্ষায় কতিপয় কর্মকর্তা বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করছে বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছে। সুত্র জানায়, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছে, এমন হবে কেনো যদি ইজারা দেয়া হয় তাহলে সকলকে দেয়া হোক। কিন্ত্ত তা না করে অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হলেও জামায়াত-বিএনপির নেতাদের ইজারা দেয়া হলো কি বিবেচনায়।

এটা কি হিরক রাজার দেশ না কি এসব দেখার কেউ নাই। এনিয়ে গোল্লাপাড়া বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন দোকানঘর ভাংচুর শুরু করেছিলো, বনিক সমিতির পক্ষ থেকে এসব দোকান সরিয়ে নেয়ার জন্য সময় নেয়া হয়েছে ২/১দিনের মধ্যেই সকল দোকান সরিয়ে নেয়া সম্পূর্ন হবে। তবে, তিনি ৪টি দোকান না ভাঙ্গায় এবং একক ভাবে হাটের সরকারী জায়গা লীজ দেয়ার বিষয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন যদি সরকারী জায়গা লীজ দিয়ে থাকেন তাহলে সবাইকে দেয়া হলো না কেনো ? কেনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এসব দোকানঘর ভেঙ্গে বেকার করে দেয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো ?

এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন বেকার হয়ে পড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশাসনের রহস্যজনক ভুমিকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে গোল্লাপাড়া বাজার বনিক সমিতির সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান পাপুল সরকার বিষ্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, প্রশাসনের খামখেয়ালী পনার কারনে বাজারের কয়েকশ দরিদ্র শ্রেনীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে গেলো। তিনি বলেন, লীজ দেয়া হলে সবাইকে দেয়া উচিৎ ছিলো তা না করে প্রশাসন রহস্যজনক কারনে চিহিৃত জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের ৪টি দোকানঘর একক ভাবে লীজ কি ভাবে দেয়া হলো ?

তিনি এবিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here