রাজশাহী পেঁয়াজের বাজার আগুন মনিটরিংয়ে প্রশাসন

0

তারেক মাহমুদ,রাজশাহী :
ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার খবরে দেশে পেঁয়াজের বাজারে তিব্র অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এরই জেরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নগরীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিতে ৯০ টাকা। যা গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যাতেও ছিলো ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। মঙ্গলবার নগরীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা।

আর টিসিবি-কর্তৃক গাড়িতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাজশাহী নগরী থেকে জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। রাজশাহী নগরী থেকে জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
এদিকে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ ও বাজার মনিটরিংয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে জেলা প্রশাসন থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধে খবর চাউর হওয়ার পরপরই অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সরবরাহ ঠিক থাকার পরও বাড়তি মুনাফার জন্য দাম বাড়িয়েছে চক্রটি। মঙ্গলবার নগরীর আড়ৎ ও জেলার হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজ মণ প্রতি বিক্রি হয়েছে ২৮শ থেকে ৩২শ টাকায়। জেলার হাটগুলোতে সোমবার মণ প্রতি বিক্রি হয়েছে ২৪-২৫শ টাকায়। আমদানি বন্ধ হওয়ায় এখন হাটের বড় বড় মোকামে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা।

বেলা ১২ টায় নগরীর সাহেববাজার ও মাস্টারপাড়া ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৯০ টাকা। আর আধা পচা পেঁয়াজ ৭০ টাকা। ইন্ডিয়ান বড় পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজিতে। মোকামের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, খুচরা ব্যবসায়ী যে আগে এক বস্তা কিনতো- তিনি আজ চার থেকে পাঁচ বস্তা পেঁয়াজ কিনেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, যে ক্রেতা আগে এক দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতো সিংহভাগ ক্রেতা আজ চার থেকে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনছে। অন্যদিকে বড় বড় অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ গুদামে রেখে দিয়েছেন।

সাহেববাজার, মাস্টারপাড়া বাজারের আড়তদার আবুল কালাম আজাদ জানান, পাইকারিভাবে তারা আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে। আর ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করেছেন।

তিনি জানান, হঠাৎ করেই টিভিতে খবর পায় ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ আসা বন্ধ হচ্ছে। তারপরেই পেঁয়াজের দাম বাড়লো। শুধু আমাদের মত আড়ৎদারদের দোষ দিলে হবে না। অনেক ছোট বিক্রেতা ক্রেতা চাহিদার তিনগুন বেশি পেঁয়াজ কিনেছে। আমরাও বেশি দামে কেনায় ওই মাফিক বিক্রি করছি।

মাস্টারপাড়ার আড়ৎদার মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্সের মালিক মো. মিটুন জানান, আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই দেশি পেঁয়াজ পাইকারি রেটে বিক্রি করেছি ৭৫ টাকা। আর ভারতের ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। অন্যদিনের চেয়ে আজকের চাহিদাও অনেক বেশি। আমার কাছে যে খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন পেঁয়াজ কিনতো তারা অন্যদিনের চেয়ে দুই তিন গুণ বেশি পেঁয়াজ কিনেছে। আমরা বেশি দামে কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে গৃহিনী আলেয়া বেগম কাঁচা সবজি কিনে পেঁয়াজের বাজারে এসে চিন্তায় পড়ে গেছেন! তিনি জানান, গত রোববার বাজার করতে এসে পেঁয়াজ কিনি। আজও কিনবো কিন্তু একলাফে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা বেশি! ভাবছি দাম আরো বাড়তে পারে- তাই তিন কেজি পেঁয়াজ কিনে নিলাম।

সিদ্দিক আলী নামের আরেক ক্রেতা জানান, এমনিতেই সকল জিনিসের দাম বেড়েছে। তার উপর এমনভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়লে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। সরকারি ভাবে যদি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয় তবে আমাদের জন্য ভালো হবে।
রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মুহাম্মদ শরিফুল হক জানান, পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ ও বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) বিকেল পাঁচটায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জরুরি মিটিং করা হয়েছে।

দেশি জাতের পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেজি প্রতি ৬০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হবে ৫০ টাকা কেজি। আগামীকাল (বুধবার) থেকে জেলার সকল উপজেলা ও নগরীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি এর বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার

আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ভারতের পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করার সংবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবারও পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই এক লাফে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ কেজিতে ১৮ টাকা, পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের দামও কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে গেছে। এতে পেঁয়াজের দাম আবারও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা। টিসিবি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি না করলে লাগাম ধরে রাখা যাবে না।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সোমবার সকালে তহাবাজারে দেশি র্পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল কেজি প্রতি ৬০ টাকা, কিন্তু দুপুরে তা বেড়ে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, পরে তা বেড়ে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও পরবর্তীতে হঠাৎ বাজার থেকে উধাও হয়ে হয়ে যায় বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। ক্রেতারা পেঁয়াজের জন্য হন্য হয়ে খুঁজতে থাকলেও দোকানদাররা বলে পেঁয়াজ আর নেই। এদিকে নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে ভারতীয় পের্ঁয়াজ কেজি প্রতি ৬৫ টাকা এবং দেশি পের্ঁয়াজ ৭৫ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ করেই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তবে সরবরাহ না থাকায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি যা তাতে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ভারত রফতানি বন্ধ করার পর বাজারে যতটুকু সরবরাহ আছে মঙ্গলবার পেঁয়াজ কেনার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ অবস্থা চললে বাজারে পেঁয়াজের এক ধরনের কৃত্রিম সংকট দেখা দিতে পারে। এতে আবারও গত বছরের মতো অবস্থা হবে কিনা বলা যাচ্ছে না।

এদিকে বাজার করতে আসা আরিফ হোসেন ও নাজমা বেগম জানান, গত বছর এসময় কেজি প্রতি পেঁয়াজের ৮০/১০০ টাকা দরে ক্রয় করতে হয়েছিল।

এবারও দাম বেড়ে যাওয়ায় এখনই লাগাম টেনে না ধরলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তারা আরো জানান, ভারতের পেঁয়াজ নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে কেজি প্রতি ৬০/৬৫ টাকা ও দেশি পের্ঁয়াজ কেজি প্রতি ৭৫ টাকা দরে বিক্রি করছিল। এ পরিস্থিতিতে টিসিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু না করলে দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম তাজকির উজ জামান জানান, পের্ঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কমিটি তদারকিতে মাঠে নামবে। গুরুদাসপুরে ৫০ টাকার পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি

আমাদের গুরুদাসপুর প্রতিনিধি জানান, নাটোরের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ৫০ টাকা কেজির পেঁয়াজ একদিনে একলাফে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাবাজারের অনেক দোকানে পেঁয়াজ নেই। ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসার গুজবে হুড়োহুড়ি করে অনেকে ৫ থেকে ১০ কেজি করে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাবনা ও তাহেরপুর মোকামে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। আবার ক্রেতারাও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পেঁয়াজ কেনায় এ বিড়ম্বনা ঘটছে। পেঁয়াজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। অনেকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ভারত পেঁয়াজ না দিলে তাদেরকে ইলিশ দেয়া বন্ধ করে দিন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তমাল হোসেন বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কেউ কারসাজি করলে তাদের বিরদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here