চীনা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন ইমরান?

0
286

বার্তাবিডি২৪.কম ডেস্ক নিউজ::২৮ জুলাই ২০১৮,
পাকিস্তানের নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়েছেন ইমরান খান। এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারলেও কারো কারো সমর্থন নিয়ে আনায়াসেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন:

তবে তার ক্ষমতা প্রাপ্তি নিয়ে নানা হিসাব বিবেচনা করা হচ্ছে। পাকিস্তান এখন ভূ-রাজনৈতিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়ার মতো পরাশক্তির কাছে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর চীনের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক বেশ শিথিল হবে। কারণ তার পূর্বসূরি নওয়াজ শরিফ ছিলেন কট্টরভাবে চীনপন্থী। আর ইমরান যেহেতু প্রবলভাবে নওয়াজবিরোধী তাই তিনি তার নেয়া প্রকল্পগুলো বাতিল করে দিতে পারেন।
এ নিয়ে বিশ্লেষকেরা নানামুখী কথা বলছেন। কেউ কেউ বলছেন, ইমরান খানের নির্বাচনী জয়ের পর পাকিস্তান সম্ভবত চীনা জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর কয়েকটি সম্পর্কে মূল্যায়ন করবে। তবে তারা হয়তো পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার হিসেবে বেইজিংয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

বিরোধী দলগুলো জালিয়াতির অভিযোগ করলেও বৃহস্পতিবার ইমরানের পিটিআই জয় ঘোষণা করে।
জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা বলেছেন, তার দেশ চীনের দুর্নীতি দমন ও দারিদ্র্য দূরিকরণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইমরান খানের অন্যতম অভিযোগ ছিল চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহী পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) বিরুদ্ধে দুর্নীতি।
ইমরানের দীর্ঘ দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ চীনা তহবিল পুষ্ট জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগে গত মাসে তিনি কারাবন্দি হয়েছেন।
ইমরান খানের দল প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও তারা বলছেন, তাদের টার্গেট ছিলেন নওয়াজ শরিফ, চীন নয়।
ইমরান খান তার বিজয় বক্তৃতায় বলেন, অর্থনৈতিক করিডোরটির পাকিস্তানে বিনিয়োগ আনার ‘বিপুল সম্ভাবনা’ রয়েছে।

চীনা সহায়তার ৬২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি পাকিস্তানকে ঋণের জালে বেঁধে ফেলবে। গত মার্চে আইএমএফ পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক অবস্থা ঝুঁকি মুখে থাকার কথা জানিয় হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।
জার্মান মার্শাল ফান্ডে চীন-পাকিস্তান সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু স্মল বলেন, করিডোরের সাথে থাকা আরো কিছু প্রকল্প, যেমন করাচি থেকে লাহোর পর্যন্ত বিস্তৃত ৮ বিলিয়ন ডলারের উত্তর-দক্ষিণ রেলওয়ে আধুনিকায়ক প্রকল্পটি স্থগিত করা হতে পারে। তবে নতুন আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত আবার তা চালু হতে পারে।
হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নওবাহার শরিফ বলেন, ইমরান খান প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতার আহ্বান জানাতে পারেন। তিনি তার লোকরঞ্জক দৃষ্টিকোণ জোরালো করে গরিবদের জন্য আরো সুবিধা হয়, এমন দাবি জানাতে পারেন।

তিনি বলেন, ইমরান খান এসব ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। তিনি বলতে পারেন, আমরা বিস্তারিত জানতে চাই। আমরা এ নিয়ে কথা বলতে চাই।
তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে য পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা সামলাতে পারবে চীন। তবে মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর চেয়ে পাকিস্তান অনেক দুর্বল দরকষাকষির স্থানে থাকবে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া চীনা অনেক প্রকল্প স্থগিত করে দিয়েছে। কাণ মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের অর্থনীতি অনেকাংশে চীনের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, সিপিইসি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি বাতিল করা যায় না বা রাতারাতি এ থেকে সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।
আইএমএফ রিপোর্ট অনুযায়ী, সিপিইসির মিশ্র অবস্থা রয়েছে। এটি যেমন বহু কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আনবে, একইভাবে তা দেশকে ঋণের জালে আটকে ফেলতে পারে।

পরিস্থিতি জটিল হতে পারে এ কারণে যে এ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা ঋণ পরিশোধের জন্য চীনেই ফেরত যাবে।
তবে ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাকিস্তান রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক দু ইয়োকাঙ বলেন, ইমরান খানকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। তিনি কিছু সংখ্যক প্রকল্পের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, তবে সিপিইসির সার্বিক সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, এমনটা হবে না।
তিনি বলেন, কঠিন সময়ে পাকিস্তানকে সহায়তা করবে চীন। তবে চূড়ান্তভাবে পাকিস্তানকে তার নিজের ওপরই ভরসা রাখতে হবে।

শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সিরিসেনা-বিক্রমাসিঙ্গে সরকার শুরুতে চেয়েছিল চীনা প্রকল্পগুলো বাতিল করতে। বিশেষ করে হাম্বানতোতা বন্দরটি চীনকে না দিতে চেয়েছিল। কিন্তু চীনা বিনিয়োগ দেশটিতে এত প্রবলভাবে ছিল এবং চীনাদের হাতে এত অর্থ ছিল যে তাদের পক্ষে না করা আর সম্ভব হয়নি। পরিণতিতে চীনাদের তাদের গ্রহণ করতেই হয়েছে। ইমরানের পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও এমনই হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।