তিন সিটির ভোটার: প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছেনা : রিজভী

0
280

বার্তাবিডি২৪.কম নিউজ,২৮ জুলাই ২০১৮,

তিন সিটিতে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে তিন সিটির ভোটারদের মাঝে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জনগণ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছেনা।

আজ শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সমালোচনা করে সরকার প্রধানের উদ্দেশ বলেন, আপনি ক্ষমতা দখল করে দখলদার প্রধানমন্ত্রী হয়ে জনগণের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। আপনার ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়, আপনার ক্ষমতার উৎস অন্য কোথাও।

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

রিজভী বলেন, ১/১১ এর সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পাঁচটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে। আর আপনার বিরুদ্ধে দিয়েছিল পনেরটি। আপনার বক্তব্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা যদি সত্য হয়, তাহলে আপনারটা মিথ্যা হবে কেনো? আপনার সব মামলা মিলিয়ে তো আপনার একশো বছরের বেশী জেল হবার কথা। কিন্তু এত অনাচার, রক্তপাত, মানুষ খুন, ক্রসফায়ারে নির্বিচারে হত্যা, বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাসহ দেশের নানা শ্রেণী-পেশাসহ মুক্ত চিন্তার মানুষরা গুম হয়েছে আপনার সরকারের দ্বারা, আর সেই সরকারের প্রধান আপনি।

রিজভী অভিযোগ করেন, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট প্রার্থী এবং সমর্থক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান এক চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের মতোই আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে বিরোধী দলের ভোটার ও পোলিং এজেন্ট শুন্য করার এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে তিন সিটি কর্পোরেশনে একপেশে নির্বাচন করার ডিজাইনারের কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন। নির্বাচন কমিশন যে সরকারের হাতের মুঠোয় সেই প্রমান নিজেরাই রেখে যাচ্ছে, যেমন তিন সিটিতে তফশীল ঘোষনার পর বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার না করার প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নিয়েছিল ইসি। কিন্তু পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে কমিশন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে গ্রেফতার না করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও সেটিকে অমান্য করে পুলিশ লাগাতার গ্রেফতার করছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের। ধানের শীষের প্রার্থীর উঠোন বৈঠক ও সভাও ভেঙ্গে দিচ্ছে পুলিশ। গত পরশু রাত থেকে বিএনপি নেতা জুলহাস উদ্দিন মাসুদ, আব্দুল মান্নান, নাসির আহমেদ, শ্রমিক দল নেতা নুরু মিয়া ও ৩০ নং ওয়ার্ডের ছাত্রদল যুবদল সভাপতিসহ প্রায় ৩০ জনের মতো নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, ভোটের আগের দিন প্রিজাইডিং অফিসারদের দিয়ে ভোট কেটে সেটি লুকিয়ে রাখা হবে হেড মাস্টার অথবা এ্যাসিসটেন্ট হেড মাস্টারের রুমে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। নৌকা মার্কার প্রার্থী জোর করে বিজয়ী হওয়ার জন্য হাজার হাজার লোককে সিটি এলাকায় ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও অন্যান্য আবাসস্থল দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগের লোকেরা।

রিজভী জানান, সিলেট সিটি নির্বাচনেও রাজশাহী ও বরিশালের মতোই চিত্র। নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মধ্যে কোনো আনন্দ উচ্ছাস নেই, ভোটারদের মনে একটা থমথমে ভাব বিরাজ করছে। পরশু রাতেও বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে, গ্রেফতারও করেছে কয়েকজনকে। আর ইতোমধ্যে মামলা দিয়ে কয়েকশ নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়েছে।

সিলেটেও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বা হয়রানী না করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও পুলিশ সেটি অমান্য করে ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে: জনগণ প্রশাসন ও ইসির ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। যদি সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে তাহলে বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মতো ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দেবে। আমি দলের পক্ষ থেকে তিন সিটিতে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও তাদেরকে হেনস্তা করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে যেসব নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।