বাঘ শুমারি শেষ মে মাসে, প্রতিবেদন আগামী বছর

0
350

বি এম রকিব হাসান(খুলনা) অফিস: ২৯ জুলাই ২০১৮:

পৃথিবী বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা গণনায় সুন্দরবনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় শুমারি। ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে এ শুমারির মাঠ পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে মে মাসে। কিন্তু দুই মাসেও শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। যে কারণে সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, আগামী বছরের প্রথম দিকে ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনার কথা বলছেন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বন উজাড় ও বাঘ হত্যাসহ নানা কারণে সুন্দরবনে বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এ অবস্থার মধ্যেই আজ রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে খুলনায়।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনে তৃতীয় দফায় ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে বাঘ গণনা বা পরিবীক্ষণ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। সুন্দরবনের খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জের দুটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ৪৭৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় করা হয় এই মনিটরিং। ২৩৯টি পয়েন্টে গাছ বা খুঁটির সঙ্গে ৬৭০টি ক্যামেরা বসিয়ে এ বাঘ মনিটরিং করা হয়।

এর আগে প্রথম দফায় ২০১৩ সালে সুন্দরবনের ২৬ শতাংশ এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে বাঘ শুমারি হয়েছিল। ওই সময় বাঘের উপস্থিতি বেশি- এমন এলাকা বেছে নেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হয়।

২০১৫ সালের মার্চে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। এর আগে ২০০৪ সালের এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ৪৪০টি। এর মধ্যে পুরুষ ১২১টি, স্ত্রী ২৯৮টি এবং বাচ্চা রয়েছে ২১টি। তবে, সর্বশেষ সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা, অবস্থান ও গতিপ্রকৃতি জানতে আবারো মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করে বন বিভাগ।

সূত্র জানান, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে থাইল্যান্ডের হুয়ানে অনুষ্ঠিত হয় টাইগার রেঞ্জ দেশসমূহের ‘এশিয়া মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স’। এখান থেকে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় যে, প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হবে। ওই সাল থেকে এ দিবসটি পালিত হয়। সম্মেলনে বাঘ সংরক্ষণে নয় দফা পরিকল্পনা গৃহিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে বাঘের সংখা দ্বিগুণ করা।

সূত্র জানিয়েছে, বন উজাড় ও শিকারীদের হাতে বাঘ হত্যার ঘটনায় এ প্রাণী বিপন্নের পথে। সুন্দরবনে বাঘের খাবারের ৮০ শতাংশ আসে হরিণ থেকে। চোরা শিকারীরা হরিণ নিধন করে তার সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বাঘকে খেতে দেয়। হরিণের মাংস খেয়ে বাঘ অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার পর হত্যা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বের ১৩টি দেশে বাঘের অস্তিত্ব বজায় রয়েছে। এ ১৩টি বাঘ সমৃদ্ধ দেশকে বলা হয় ‘টাইগার রেঞ্জ কান্ট্রি’। বাঘসমৃদ্ধ দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, বার্মা, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ভুটান, লাওস, নেপাল এবং রাশিয়া। বাঘের নয়টি উপ-প্রজাতির মধ্যে বালিনীজ, জাভানীজ ও কাস্পিয়ান টাইগার বিশ্ব থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বেঙ্গল, সাইবেরিয়ান, সুমাত্রান, সাউথ চায়না ও ইন্দো চায়না উপ-প্রজাতি টিকে আছে। সারা বিশ্বে লক্ষাধিক বাঘ ছিল। ২০১৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বাঘের সংখ্যা চার হাজার। আর সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। বিশ্বের ১৩টি দেশের মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম।

বন বিভাগের সূত্র জানান, ২০১৬ সালে দাতা সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে বাঘ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যামেরার সাহায্যে বাঘ গণনা শুরু হয়। খুলনা বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ প্রথম দফায় এ প্রকল্পকে জনবল ও ৭০টি ডিজিটাল ক্যামেরা সরবরাহ করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আবার সুন্দরবনের তিনটি অভয়ারণ্য এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনার কাজ শুরু হয়। যা মে মাসে সম্পন্ন হয়। এখনো তার ফলাফল পাওয়া যায়নি।

বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মদিনুল আহসান বলেন, ‘বাঘ শুমারির অংশ হিসেবে ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। এর প্রতিবেদন তৈরি করতে সময়ের প্রয়োজন। তবে বাঘের সংখ্যা কমতে না বাড়তে পারে, তা বলা যাচ্ছে না। আগামী বছরের প্রথম দিকে ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।’

বাঘ প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মোজাহিদ বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। বাঘের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে সরকার।
তিনি ধারণা দেন, বাঘের সংখ্যা বাড়তে পারে।

খুলনা সার্কেলের উপ-বন সংরক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আগের চেয়ে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বাঘ গণনা করা হয়েছে। তবে, প্রতিবেদন প্রকাশ না হলে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল-আল-মামুন বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশ না হলে এর সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা মুশকিল।