২০০ কলেজে নির্বাচনকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প

0
321

বার্তাবিডি২৪.কম ডেস্ক নিউজ:২৯ জুলাই ২০১৮,
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে দারিদ্র্য বিমোচন উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের ২০০ সরকারি কলেজে অবকাঠামো সুবিধা বাড়াতে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প শিগগিরই অনুমোদন দিতে যাচ্ছে।

সরকারি কলেজগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। ২০১৭ সালে একনেক থেকে শর্তসাপেক্ষে ফেরত আসার পর ব্যয় ১১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় বলে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবে দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, এক হাজার ৮০৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৭ সালের মার্চের একনেকে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়। কিন্তু একনেক বেশ কিছু নিদের্শনা দিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। একনেকের শর্ত পালন করতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৭৯২ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় প্রস্তাব দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়Ñ যা উপস্থাপিত ব্যয়ের চেয়ে ১১০ শতাংশ বা এক হাজার ৯৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বেশি। পরে পিইসি সভায় প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত পরিপত্রের আলোকে ডিপিপিতে খরচ কমিয়ে ২ হাজার ৫১১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা করা হয়। এ ব্যয়ও ৭০৫ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বা ৩৯ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দেশে সরকারি কলেজগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি যুবসমাজের আগ্রহ কম। এ প্রবণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে দেশের উদ্ভাবনী ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে লোপ পাওয়ার সাথে সাথে গবেষণার মানও নি¤œ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অবকাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাদির সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণার সুযোগ বাড়বে। একই সাথে শিক্ষকদের সক্ষমতাও বাড়বে।

এ দিকে বাংলাদেশে শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার তুলনায় বিজ্ঞান শাখায় ১১ দশমিক ১২ শতাংশ পরীক্ষার্থী কম। এ পরিস্থিতিতে দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দ্রুত সময়ের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তাই দেশের ২০০টি সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বর্তমান প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, ১৭৬টি সরকারি কলেজে একটি করে ছয়তলা ভবন নির্মাণ, এসব একাডেমিক ভবনে শিক্ষকদের জন্য কক্ষ, ক্লাসরুম, আইটি ল্যাব কাম ল্যাংগুয়েজ রুম, মাল্টিপারপাস হল, কমন রুম নির্মাণ। ১৮টি সরকারি কলেজে বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও ছয়টি কলেজে অ্যাকাডেমিক ভবনের সংস্কার। ৪৭টি সরকারি কলেজে ১৬৪ শয্যার হোস্টেল নির্মাণ। ২০০টি সরকারি কলেজে আইসিটি উপকরণ, আসবাবপত্র, অফিস ইকুইপমেন্ট সরবরাহ। ২০০টি কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুইমিংপুল, টিএসসি কমপ্লেক্স, মাল্টিপারপাস ভবন ও ভেহিকেল পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রস্তাব করা হলেও কলেজে যেসব ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে তার পুরোটাই শুধু বিজ্ঞান শিক্ষায় ব্যবহার না করে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার পাঠদানে ব্যবহার করা হবে। চলতি মাসে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হবে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর ব্যয় আট হাজার ১৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সারা দেশে পল্লী অবকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প চলমান থাকা সত্ত্বেও আবারো তিনটি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা তিনটি প্রকল্প নেয়া হয়। এ ছাড়া ৬৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ের সর্বজনীন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও সম্প্রসারণ নামে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। অন্য দিকে, শিক্ষা খাতে সারা দেশে ৩ হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে যাচ্ছে। প্রতি সংসদীয় আসনে ১০টি করে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। প্রতি স্কুলে অবকাঠামো খাতে পাবে গড়ে ৩ কোটি টাকা এবং সম্পদ সংগ্রহ ও ক্রয়ে ৩৭ লাখ টাকা। এতে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৬৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা। নির্বাচনের আগে বিশাল ব্যয়ের এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ কতটুকু গুণগতভাবে সঠিক মানের হবে এবং সঠিকভাবে অর্থ ব্যয় হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনে আগ মুহূর্তে সরকারের শেষ বছরে এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় এ অর্থের অপচয় হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকবে। নির্বাচনী ডামাডোলে এসবের তেমন কোনো খোঁজ না থাকাটাই স্বাভাবিক।