ছাত্র আন্দোলনে অচল খুলনা

0
300

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশের মতো খুলনায়ও আন্দোলন করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এতে মহানগরজুড়েই সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে মহানগরের প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ির মোড়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো শহর। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও এর বিচার দাবি করছেন। একইসঙ্গে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
শিববাড়ির মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় আশপাশের সব সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রিকশা কিংবা হেঁটে শিববাড়ির মোড় বাদ দিয়ে অন্য রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।
গতকাল রোববারও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছেন। তবে আজ কোনো স্কুল কিংবা কলেজের শিক্ষার্থী নয়, আন্দোলন করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা জিলা স্কুলসহ বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও আন্দোলনে দেখা গেছে।
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা শিববাড়ির মোড়ের দিকে আসার পথে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় তাদের প্রতিহত করতে কয়েকশ পরিবহন শ্রমিক অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিশাল মিছিল দেখে তারা চলে যান। এছাড়া সকাল থেকে শিববাড়ি মোড়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিশাল মিছিল দেখে তারাও কেটে পড়েন। যদিও স্কুল শিক্ষার্থীদের শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বাধায় প- হয়ে যায়। শিববাড়ি মোড় এলাকায় সকালে জল কামান নিয়ে শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাব অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবস্থানে তারা কোনো বাধা দিচ্ছে না।
সকালে অবস্থান নেওয় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তা প্রতিরোধে তাদের আমরা এখানে এসেছিলাম।