খুলনা বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স করার চাপ

0
319
খুলনা বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স করার চাপ
খুলনা বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স করার চাপ

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
গাড়ি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের কাগজপত্র নবায়ন করতে খুলনা বিআরটিএ অফিসে হঠাৎ করেই আবেদনের হিড়িক পড়েছে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা শুরু করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পার করছেন ব্যস্ত সময়।
এদিকে গতকাল বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের আদেশে অফিসের কর্মঘন্টা বাড়িয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা করা হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহের শনিবার অফিস খোলা রাখতে বলা হয়েছে। শুধু শুক্রবার বন্ধ থাকবে।
গতকাল খুলনা বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রুট পারমিট, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এদিন দুপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১৫০ জন শিক্ষানবীস ড্রাইভার পরীক্ষার অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পরীক্ষার পরিদর্শনে ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংগাজাই মারমা, জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তালুকদার বেলায়েত হোসেন ও বিআরটি’র পরিদর্শক মোঃ সাইফুল ইসলাম।
সরেজমিনে গতকাল দেখা যায়, খুলনা বিভাগীয় ও জেলা বিআরটিএ কার্যালয় কর্মকর্তারা ব্যস্তময় সময় কাটাচ্ছেন। সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের জন্য জমায়েত হয়েছে বিআরটিএ কার্যালয়ে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যারা দীর্ঘদিন অসচেতন ও অবহেলায় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স করেনি তারা ভীড় জমিয়েছেন। ফলে শুধু বিআরটিএ অফিসেই নয় কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে বিআরটি’র ব্যাংকের দু’টি শাখাতেও।
বিআরটি’র পরিদর্শক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে খুলনা বিআরটিএ অফিসে স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রাকটিক্যাল ও মৌখিক পরিক্ষার নিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়। কোন অবস্থাতেই পরিক্ষা না দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়না।
বিআরটিএ তে সেবা নিতে আসা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সময় করে উঠতে না পারায় এতদিন লাইসেন্স করার জন্য আসতে পারিনি। কিন্তু হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের কঠোর আন্দোলনে কাগজ ছাড়া রাস্তায় নামা মানেই বিপদ। এ জন্য লাইসেন্স করতে এসেছি।’ অপর এক ব্যক্তি শান্তনু ভদ্রা জানান, লাইসেন্সের জন্য দীর্ঘ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে সব কাজ করতে হচ্ছে। বিআরটিএতে আসা মোঃ মানিক বলেন, এখানে কর্ম ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে দালালদের দৌরাত্ম। এখানে কাজ শেষ করতে গেলে দালালদের দিতে হয় টাকা।
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, হঠাৎ করে কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সপ্তাহের শনিবার অফিস খোলা রাখা ও কর্মঘন্টা বাড়িয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই-এর জেলা সাধারন সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, নাগরিকদের মধ্যে হঠাৎ করে লাইসেন্স মুখী হওয়া ভালো দিক। কিন্তু এই সুযোগে যেন দালালদের তৎপরতা বৃদ্ধি না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে বিআরটি এ কর্তৃপক্ষের।