খুলনা বেতারে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভাস্কর্যের ফলক উম্মোচন

0
184

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
খুলনা বেতার চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিভাস্কর্যের ফলক উম্মোচন করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ৮ কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভাস্কর্যের ফলক উম্মোচন করেন। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য উদ্বোধনকালে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যে বাংলাদেশ আজ আলোর পথে হাঁটছে, তাকে আর পেছনে যেতে দেবো না। দেশে আজ সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মাপকাঠি দিয়ে বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা পরীক্ষা করে নিতে হবে। পরীক্ষায় পাস করলে তা গ্রহণ করবো, নইলে তা প্রত্যাখ্যান করবো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন বাংলাদেশের এপিঠ-ওপিঠ। বঙ্গবন্ধু একটি পতাকা, তিনি একটি দেশ, তিনি একটি রাষ্ট্র, তিনি এক বিপ্লব, তিনি একটি অভ্যুত্থান। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তি, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের দোসরদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল। বিশেষ অতিথি ছিলেন- তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, খুলনার সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ। স্বাগত জানান বেতারের কর্মসূচি পরিচালক মো. জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন বাংলাদেশের সমার্থক। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্ন-অবিভক্ত। তিনি বিশ্বনেতা, শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক। আর শেখ হাসিনা হলেন আমাদের মাথার ছাতা।
তথ্য সচিব আব্দুল মালেক বলেন, বাংলাদেশের পতাকা আজ মহাসাগর থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আজ দেশের সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের এই পথচলাকে কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ বেতারের উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে সরকারের উন্নয়ন প্রচার করা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার মো. রকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ বেতারের উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) হোসনে আরা তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান, উপ-মহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) সালাউদ্দীন আহমেদ এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) খান মো. রেজাউল করিমসহ বেতারের সব কর্মকর্তা ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা বেতারের সামনে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভাস্কর্যে স্কাল্পচার বেইজ, এক্সিভিশন গ্যালারি, এম্ফি থিয়েটার, ফাউন্টেন, গ্রিন্ডল্যান্ড স্কেপিং, ইন্টারনাল রোড, প্লান্টার বক্স, ফ্লাওয়ার বেড, মডেল অব ট্রাকচার, স্কাল্পচার, আর্ট ওয়ার্ক, স্টোরেজ ও ভাস্কর্য বেদির চারদিকে ব্রোঞ্জের রিলিফ ওয়ার্কের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতারের সহযোগিতায় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ বঙ্গবন্ধু স্মৃতিভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছে।

জুলাইয়ে খুলনায় ৫ খুন, ৭ ধর্ষণ

খুলনা ব্যুরো:
খুলনায় জুলাই মাসে পাঁচ খুন ও সাত ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫১৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার নয়টি উপজেলায় একটি খুন, দু’টি ধর্ষণ ও ২৫৪ মামলা এবং মহানগরীর আটটি থানায় চারটি খুন, পাঁচটি ধর্ষণ ও ২৬১ মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন উল আহসান। আসন্ন ঈদুল আযহায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) অভিযান অব্যাহত করা, মাদকসহ অবৈধ হকার নিয়ন্ত্রণে আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় জুলাইয়ে একটি ডাকাতি, ছয়টি চুরি, একটি খুন, দু’টি ধর্ষণ। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন ১৩টি, নারী ও শিশু পাচার দু’টি, মাদকদ্রব্য ১৪২টি, অস্ত্র আইনে একটি ও অন্যান্য ৮৬টিসহ মোট ২৫৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। জুনে এ সংখ্যা ছিলো ২৯১টি।
মহানগরীর আটটি থানায় জুলাইয়ে দু’টি রাহাজানি, চুরি ১৪টি, খুন চারটি, অস্ত্র আইনে দু’টি, দ্রুত বিচার একটি, ধর্ষণ পাঁচটি, অপহরণ একটি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১০টি, নারী ও শিশু পাচার তিনটি, মাদকদ্রব্য ১৮৩টি এবং অন্যান্য আইনে ৩৬টিসহ মোট ২৬১টি মামলা দায়ের হয়েছে। জুনে এ সংখ্যা ছিলো ২৪৭টি।
সভায় খুলনা জেলা পরিষদ চেয়াম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, সিভিল সার্জন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও ও কেএমপির প্রতিনিধিসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।