নান্নুর কথায় আশাহত নন আশরাফুল

0
227

বার্তাবিডি ডেস্ক : রাত পোহালেই পাঁচ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষ, ১৩ আগস্ট সোমবার সব রকমের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। তারপর জাতীয় দল ও বিপিএল সহ যে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর খেলার অবাধ সুযোগ মিলবে। মোদ্দা কথা, আগের পাঁচ বছর যে হাতে-পায়ে, গায়ে তথা ক্রিকেট ক্যারিয়ারে শেকল পরানো ছিল, সে শেকল মুক্তি ঘটবে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই অন্য যে কোন দিনের চেয়ে ফুরফুরে, নির্ভার ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। অন্যরকম এক প্রাণচাঞ্চল্যতা ও রোমাঞ্চ কাজ করছিল মনে ও শরীরে। দেশের বাইরে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে লন্ডনে বসেও ১২ আগস্ট সোমবার ঢাকা তথা বাংলাদেশে অনেক স্বজন-প্রিয়জন, বন্ধু, সুহৃদ ও সাংবাদিকের সাথে কথা বলেছেন। কয়েকটি মিডিয়া হাউজে ইন্টারভিউও দিয়েছেন হাসিমুখে।

এর মধ্যে বাংলাদেশ সময় দুপুরের পর থেকে রাত ১১ টা অবধি একটি টুর্নামেন্টে ৪০ ওভারের ম্যাচও খেলেছেন। খেলার মাঠের পারফরমেন্সও ছিল দারুণ। অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও ৯৪ রানের ঝকঝকে তকতকে ইনিংস বেড়িয়ে আসে তার ব্যাট থেকে। সব মিলে দারুণ ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন আশরাফুল।

বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার (লন্ডনে তখন সবে সন্ধ্যা সাতটা) অল্প সময় পর ম্যাচ শেষে ফেসবুকে যোগাযোগ জাগো নিউজের সাথে। সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার পর মানে ১৩ আগস্ট প্রথম প্রহরে জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোন আলাপ। সেখানেই প্রথম জানলেন তার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক সোজা বলে দিয়েছেন, ‘আশরাফুলকে নিয়ে এখন আমাদের চিন্তা ভাবনা নেই।’

অনেক আশায় বুক বেঁধে আছেন তিনি আর প্রধান নির্বাচক বললেন আশরাফুল আমাদের চিন্তাভাবনাতেই নেই। বুকে ‘শেল’ বিধলো? মনটা খারাপ হয়ে গেল? আশা ভঙ্গের বেদনায় নীল আশরাফুল?

খুব জানতে ইচ্ছে করছে, তাইনা? তাহলে শুনুন, প্রধান নির্বাচক এই বলেছেন শুনে আশরাফুলে কণ্ঠটা একটু ধরে আসলো। তবে নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রেখে মুখে বললেন, ‘নাহ নান্নু ভাইয়ের কথা শুনে মন খারাপ হয়নি। তিনি যা বলেছেন, সেটা মিথ্যে নয় একচুল। খুবই স্বাভাবিক। নান্নু ভাই প্রধান নির্বাচক, তার অবস্থান থেকে অমন কথা শতভাগ সত্য এবং বাস্তব। আমি এখন টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক ও বোর্ডের চিন্তায় নেই। থাকার কথাও নয় সেটাই সব থেকে বড় সত্য। পাঁচ বছর জাতীয় দলের বাইরে আমি। খুব স্বাভাবিকভাবে সময়ের প্রবাহতায় একটা জাতীয় দলের সেট আপ গড়ে উঠেছে। একেক ফরম্যাটে একেক রকম লাইন আপ হয়েছে। কোন দলে কারা থাকবে, কারা খেলবে, টিম কম্বিনেশন কেমন হবে? এগুলো মোটামুটি ঠিক করাই হয়ে গেছে। সেখানে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়েছি বলেই যে আমি হুট করে ঢুকে যাব, এমন নয়। আমি জানি আমাকে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়েই দলে ঢুকতে হবে।’

তিনি আরও জানান, ‘এটা একটা দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাপার। রাতারাতি কিছু হবেনা। সেই কৈশোর পার করেই জাতীয় দলে ঢুকেছি একটানা ১২ বছর তিন ফরম্যাটে খেলেছি। এ দীর্ঘ সময় জাতীয় দলে খেলার কারণে শুধু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাই হয়নি। অনেক কিছু দেখেছি, জেনেছি ও শিখেছি। অভিজ্ঞতাও হয়েছে প্রচুর। সেই থেকেই বলছি আমি খুব ভাল করেই জানি, আমার জাতীয় দলে ঢোকা সহজ হবেনা।’

জাতীয় দলে ফিরতে হলে যে নিজেকে আরও অনেক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে সেই কথা জানেন আশরাফুলও। প্রাথমিকভাবে ফিটনেস টেস্টে পাশ করতে হবে, পরে দেখাতে হবে পারফরম্যান্স। এসব শর্ত পূরণ করে তবেই যে জাতীয় দলে ফিরতে সেটিও ভালোভাবেই জানা আশরাফুলের।

‘আমাকে আবার সব কিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ফিটনেস লেভেলকে নিয়ে যেতে হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। পারফরমেন্সটাও হতে হবে সেইরকম। তারপর বিবেচনায় আসার প্রশ্ন। এখন হুট করে আমাকে নেয়া হবে, আমি তা স্বপ্নেও ভাবিনা, কল্পনাতেও নেই। কাজেই আমার কানে যখন আসে, ‘আশরাফুল তো আমাদের চিন্তাভাবনাতেই নেই’ তখন মন খারাপ হয়না। দুঃখও লাগেনা। তবে একটা অন্যরকম বোধ ও অনুভব হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিতো বলিনি এখনই দলে নেয়া হোক। এমন কথা বলা বহুদুরে, আমার ভাবনায়ও নেই তা। আমি খুব ভাল করেই জানি , কখন কি কি করলে তারপর ডাক পেতে পারি। সবচেয়ে বড় কথা আমি সেই ২০১৩ সালে (৮ মে জিম্বাবুয়ের সাথে বুলাওয়েতে) জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছি। এ দীর্ঘ সময়ে সব ফরম্যাটে দলের রুপ রেখা তৈরী হয়ে গেছে। একটা সেট আপও চুড়ান্ত হয়ে গেছে। কে কে ওপেন করবে, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয় ও দশ নম্বরে কে কে ব্যাট করবে, কজন পেসার, কজন স্পিনার খেলবে? অলরাউন্ডার থাকবে কজন- এসব ঠিক করাই আছে। সেখানে আমি হুট করে ঢুকতে পারবোনা। সেটা আমার খুব ভাল জানা ও বোঝা। কাজেই আমি যে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের চিন্তায় নেই, সেটাই স্বাভাবিক। তাই প্রধান নির্বাচক নান্নু ভাইয়ের মুখে ঐ কথা শুনে দুঃখ পাইনি। আর তিনিতো বলেছেন, হ্যা নিষেধাজ্ঞা আগে উঠুক। আশরাফুল খেলুক। তারপর দেখা যাবে।’

‘তাই মন খারাপ হয়নি। হতোদ্যম হবার প্রশ্নই আসেনা। আমি সামর্থের শেষ বিন্দু দিয়ে জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা করে যাব। সেটাও একটা প্রক্রিয়ায় হবে। যা রাতারাতি বা একদিন দুদিনের নয়। একটু সময় সাপেক্ষ। এ বোধ-অনুভব ও উপলব্ধি আছে আমার। আর তা আছে বলেই আমিও হিসেব কষে, ভেবে চিন্তে আগানোর কথা ভাবছি।’