খুলনায় তেল ডিপোতে অগ্নিকান্ড নিহত ২, দগ্ধ ৯

0
345
খুলনায় তেল ডিপোতে অগ্নিকান্ড নিহত ২, দগ্ধ ৯
খুলনায় তেল ডিপোতে অগ্নিকান্ড নিহত ২, দগ্ধ ৯

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
খুলনায় মেঘনা তেল ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ে দুইজন নিহত হয়েছে। দগ্ধ হয়েছে আরও নয়জন। গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মহানগরীর খালিশপুরের নতুন রাস্তা বিএল কলেজ সংলগ্ন ডিপোতে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা চেষ্টার পর সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজু (২৫) ও কামাল (৫০) নামে নিহত দু’জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এখানে তাদের লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরদার মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মেঘনা অয়েল কোম্পানি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্যাংকলরিতে তেল দেওয়ার সময় অপারেটিং নজেল হাত থেকে নিচে পড়ে যায়। এ সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে পুরো অপারেটিং শেডে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী ও পাশ্ববর্তী রাস্তার পথচারীরা ভয়ে ভীত হয়ে দিক বিদিক ছুটো ছুটি করে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কয়েকজন সাহসী শ্রমিক আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম পর্যায়ক্রমে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা চালায়। প্রায় পৌনে এক ঘন্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে কাশিপুর পদ্মা রোডের বাসিন্দা ট্যাংকলরিকর্মী মো. রাজু (২৫) ও মেঘনা অয়েলের মিটারম্যান মো. কামাল (৫০) নিহত হয়।
দগ্ধ নয় শ্রমিকের মধ্যে সাত জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- মোজাম্মেল হক (৩৫), আ. ওহাব (৪৫), আনোয়ার হোসেন (৪০), অনু (২৫), ইসমাইল (৫৫), রুবেল মীর (২৬), মো: সুজন (২৬)। তাদের খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বার্ন ইউনিটের নার্স ইনচার্জ নওরিন সুলতানা বলেন, সুজন, রুবেল ও ইসমাইলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের শরীরের ৬০ শতাংশের কিছু বেশি পুড়ে গেছে। অগ্নিদগ্ধ ইসমাইল, রুবেল মীর ও মো: সুজন কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে।
ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনাম মুন্সি জানান, ডিপো থেকে ডিজেল ও অকটেন গাড়িতে লোড দেওয়ার সময় হঠাৎ করেই বিস্ফোরণ এবং এর পর অগ্নিকা- ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে যায়। তবে তাৎক্ষনিকভাবে আরো বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা থাকলেও আল্লাহর রহমতে তা হয়নি। খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হতাহতদের উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট সকলে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহন করে। যে কারণে অগ্নিকান্ড পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণ করা যায়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির খুলনা বিভাগীয় মহাসচিব আজগর হোসেন বলেন, গোটা বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখা উচিত।