রাজশাহীতে দুটি পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে গ্রামবাসী

0
293

বার্তাবিডি ডেস্ক : কথিত চুরির অভিযোগে রাজশাহীর দুর্গাপুরে দুই কৃষক পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের লক্ষীপুরের পরিবার দুটি। বাইরে বেরুতে না পারায় দিনমজুর পরিবার দুটি পড়েছে চরম বিপাকে। এ নিয়ে অভিযোগ দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। কিন্তু এখনও মেলেনি সুরাহা।

জানা গেছে, গত ১১ জুলাই লক্ষীপুরের জাহাঙ্গীর আলম ফরমান নামের এক ব্যক্তির ইজিবাইক হারিয়ে যায়। এর ৭ দিন পর ১৮ জুলাই একই গ্রামের ইদ্রিস ও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনেন মালিক। এনিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহের আলী, গ্রামের মাতবর ওয়াজ আলী খাঁ ও আবুল হোসেন শালিসে বসান। সেখানে স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে দুজনকে বেদম মারধর করা হয়। নির্যাতনের মুখে বাধ্য হয়ে স্বীকারোক্তি দেন ওই দুই কৃষক

পরে ইদ্রিস ও শফিকুলকে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন মাতব্বররা। জরিমানা পরিশোধে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময়েও বেধে দেয়া হয়। কিন্তু সময়মতো জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন এ দুই ভুক্তভোগী। ওই দিন থেকেই সমাজপতিরা এ দুই পরিবারকে একঘরে করে দেয়।

এ দুই পরিবারের অভিযোগ, তাদের লোকজনকে বাড়ির বাইরে যেতে বাধা দিচ্ছে। গ্রামের টিউবওয়েলেও পানি নিতে পারছেন না নারীরা। বাড়ির বাইরে কাজে যেতে পারছে না পুরুষরা। শিশুদের সঙ্গে গ্রামের অন্য শিশুদের খেলাধুলা করতে দিচ্ছে না।

অবরুদ্ধ কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, অবমানবিক নির্যাতন করে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও ১০ দিন ধরে তার পরিবার একঘরে। তার এক ছেলে ভ্যান চালান। সেই ভ্যানে লোকজনকে উঠতে দিচ্ছে না সমাজপতিরা। তারা কাজে বাইরে যেতে পারছেন না। চরম বিপাকে পড়েছেন পরিবার নিয়ে।

শালিসে উপস্থিত ছিলেন ওয়াজ খাঁ ও আবুল হোসেন। তারা এ দুই পরিবারকে একঘরে করে রাখার কথা স্বীকার করেন। তারা বলেন, ওই দুজন প্রকাশ্যে ইজিবাইক চুরির দায় স্বীকার করেছেন। এরপর তাদের জরিমানা করা হয়। কিন্তু পরে তারা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেনি। এরপর সবাই মিলে তাদের একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, এমন অভিযোগ তার কাছে নেই। তবে এ ঘটনা অমানবিক উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

মুঠোফোনে সংযোগ না পাওয়ায় অভিযোগ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা লিটন সরকারের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।