যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে উন্নয়ন কমিটির নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

0
389

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আনুর বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তার এসব অপকর্মের সহযোগিতা করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাত হোসেন বাবু।

৪ নং মাহিদিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ অনুসারী ফারুক হোসেন জানান, চাঁচড়া ইউনিয়নে একাধিক প্রকল্পের কাজ না করে টাকা উত্তোলন করেছেন আনোয়ার হোসেন আনু। বেশিরভাগ প্রকল্প তার অনুসারী আব্দুল মান্নান ও সাজ্জাত হোসেন বাবুর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মাহিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরদার বাড়ির মোল্লাপাড়া মোড় পর্যন্ত ৬০০ ফুট প্লাট সলিং করার প্রকল্প পেয়েছিল আনু। তারমধ্যে শুধুমাত্র ১৭৫ ফুট করা হয়েছে। বাকিটা কাজ না করেই এ প্রকল্পের সব টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন। র্পূবপাড়ায় রাহাত আলী মিস্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে প্লাট সলিং করতে ২ লাখ টাকার প্রকল্প পেয়েছিল সাজ্জাত হোসেন বাবু। অর্থচ বাবু কোন কাজ না করেই সেই অর্থ দিয়ে আরটিআর কোম্পানির একটি বাইক কিনেছেন। ইউনিয়নে ১৫০ টি সোলার এসেছে। যাচাই-বাচাই না করেই আনুর পছন্দমত লোকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আনুর শির্ষ্য সাজ্জাত হোসেন বাবু মাহিদিয়া গ্রামে পশ্চিমপাড়ায় সবুজের কাছে ১৫ হাজার টাকায় সরকারি সোলার বিক্রি করেছে। তাছাড়া বাবু মনিরামপুরের গাঙ্গগুলিয়া গ্রামে তার শ্বশুর আব্দুর রশিদকে একটি সোলার উপহার দিয়েছে। এছাড়া মাহিদিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকাও আনু তুলে দিয়েছেন। ঈদগাহ কমিটিকে এক টাকাও দেওয়া হয়নি। এভাবে আনোয়ার হোসেন আনু ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামে ভুয়া প্রকল্পের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য তৈবুর রহমান বলেন, আনোয়ার হোসেন আনু ও তার দলবল ভুয়া প্রকল্পের নামে লুটপাত শুরু করেছে। কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা নিজেদের পকেটে ভরছেন। এরা আওয়ামী লীগের ভার্বমূতি নষ্ট করছে। এ ধরণের নেতাদের জন্য আওয়ামী লীগের বদনাম হচ্ছে। দলীয়ভাবে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আশরাফুল ইসলাম রিপন বলেন, আনোয়ার হোসেন আনুর কাজ না করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করেছেন একাধিকবার এসবের সত্যতা মিলেছে। কি কারণে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। তবে, আমি ব্যক্তিগত ভাবে এদের ঘৃণা করি।
উল্লেখ্য, এলাকাবাসী এদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।