চৌগাছায় গডফাদার হাকিমের নেতৃত্বে চলছে ইয়াবা ও ফেনসিডিলেরর বাণিজ্য !

0
683
ফেনসিডিলেরর বাণিজ্য !

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের চৌগাছা উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের মাকাপুর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হাকিম(৩০) সে দীর্ঘদদিন যাবত ফেনসিডিল, গাজা,মদ,ইয়াবা, হিরোইনের ব্যবসা করে মাত্র ৫ বছরে অনেক টাকা ও সম্পদের মালিক বনে গিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্রে জানা যায়,আব্দুল হাকিম বর্তমানে ৪ টা গভীর নলকূপ,বিভিন্ন সরকারি বাওড়ের অংশিদার,আলিসিয়ান বাড়ি,এবং পিয়ারা বাগানের মালিক। এই পিয়ারা বাগানে বসে ইয়াবা ও ফেনসিডিল পাইকরি ও খুচরা বিক্রি করে থাকেন হাকিম।শুরুতে হাকিম মাদককারবারি চক্রের সাথে সখ্যতা করে ভারতীয় বিয়ার, মদ, ফেনসিডিল এবং ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসা করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছে। অভিযোগ রয়েছে বর্তমানে দেশ ব্যাপী মাদক নির্মূলের অভিযান চলা কালীন সময়েও অভিনব কায়দায় আব্দুল হাকিম ও তার সিন্ডিকেট মাকাপুর গ্রামের আমির হোসেন, মামুন, শুকুর আলী, শবদার এরা সবাই জেলে থাকলেও গডফাদার হাকিম আছে বাহিরে।বর্তমানে সে বল্ভবপুর গ্রামের শবদারের মাধ্যমে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছে।কিন্তু পুলিশ,র্যাব,ডিবি কেউ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না।কারণ তার সরকারদলীয় এক নেতার সাথে গভীর সখ্যতা আছে বলে গ্রামবাসি অভিযোগ করেন।প্রতিদিন জেলা শহর ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন প্রন্ত থেকে মাদকসেবীরা ছুটে আসে মাকাপুর গ্রামের গাবতলার পিয়ারা বাগানে।সেখানে আসলে পাওয়া যায় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। মাকাপুর এলাকা জুড়ে চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা।অনেক সময় দেখা যায় ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে ফেনসিডিল। প্রতি বোতল ফেনসিডিলের দাম ৮০০ টাকা। ইচ্ছা করলেই যে কোন চায়ের দোকান, মুদির দোকানে অনায়াসে ফেনসিডিল কিনতে পাওয়া যায়। কেউ কিছু বলার যেন নেই। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এই ফেনসিডিল বেচাঁকেনাকে এখানকার কেউ এখন আর অপরাধমুলক কাজ বা চোরাচালান বলে মনে করে না। সবাই এটাকে ব্যবসা বলে জানে। স্থানীয় সরকারী দলের আব্দুল হাকিম একজন ডাকসাইডের নেতা বড় ভাই যশোরের এক জন সাংবাদিকের ভাই পরিচয় দিয়ে এই ব্যবসা করে যাচ্ছে। যশোরের সীমান্ত উপজেলা চৌগাছা। দীর্ঘ প্রায় ৭৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এই উপজেলার সাথে। সীমান্তের ওপারে ভারতের উত্তর ২৪ চব্বিশ পরগোনা আর বনগাঁ মহাকুমা। এপারে বাংলাদেশের প্রায় ৩০টি গ্রাম। এসব গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ এই ফেনসিডিলের কারবারী। দিনের বেলায় এরা চাষাবাদের কাজ করলেও সন্ধ্যার পর এরা ব্যস্ত থাকে সীমান্তে এপার ওপার করতে।এদিকে সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে এই গ্রামের হাকিমের বাড়িতে দেখা গেল ৮/৯ টি মোটর সাইকেল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল এসব মোটর সাইকেলের মালিকরা সবাই ফেনসিডিলের ব্যবসায়ী ফেনসিডিলের বাজার চাঙ্গা হওয়ায় ও লাভ বেশির কারণে এই সিন্ডিকেট বর্তমানে ফেনসিডিল পাচারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ব্যপারে ভুক্তভোগি হাকিমের মোবাইলে ০১৭২৮৪৯৭২৯০ দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে ১ বার ১২ টা ৫০ মিনিটে ৩ বার,১ টা ২০ মিনিটে ২ বার এবং ২টার সময় ৪ বার ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন নি।এ জন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি। এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মনিরুজ্জামান জানান, আমি এই জেলায় যোগদানের পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। তার কারনে গোটা উপজেলা এখন ফেনসিডিল মুক্ত। ফেনসিডিলের ব্যবসা করেন এমন অনেককে আমি আটক করে জেলে পাঠিয়েছি। কিন্তু পরক্ষনেই তারা বের হয়ে এসেছে। আবার ব্যবসা করে যাচ্ছে।