কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন কলেজ জাতীয়করনের ইতি কথা

0
451

মোঃ হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঃ
দেশ স¦াধীনের পর দীর্ঘ ৪৩ বছরে অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছে আবার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু ৫৩ বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজটি সরকারীকরনের মূখ দেখেনি। কিন্তু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছায় শেষ পর্যন্ত কলেজটি সরকারিকরন ঘোষিত হলো। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে উপজেলা পরিষদের সামনে চিত্রা নদীর উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ও ঐতিহ্যবাহী মাহতাব উদ্দিন কলেজ ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজ পর্যন্ত ঐতিহ্য ও সাফল্যের সাথে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে। সড়ক, ট্রেন ও নৌ পথে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার কারনে অতিসহজেই কলেজে যাতায়াত করা যায়। এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম বটগাছ, বার আওলিয়ার মাজার, গাজী-কালু-চম্পাবতীর মাজার, মোবারকগঞ্জ সুগারমিলস্ লিঃ, নলডাঙ্গা রাজবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত হয়ে কলেজটিকে আরও স্মরনীয় করেছে।

এক সময় এখানে এসএসসি পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। যার ফলে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঝিনাইদহ কেসি কলেজ এবং যশোর এমএম কলেজে যেতে হতো। সে কারনে গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো। এমনি প্রেক্ষাপটে কালীগঞ্জ থানা সদর ১৯৬৫ সালে কিছু বিদ্যোৎসাহী ও শিক্ষানুরাগি ব্যক্তি একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন। জানা যায় ঐ সময় আইন সভার সদস্য এই এলাকার কৃতি সন্তান নূর আলী মিয়া এ বিষয়ে উদ্যোগী হন। তার এই মহতী উদ্যোগে কালীগঞ্জের আরও কিছু বিদ্যোৎসাহী ব্যাক্তি শামিল ছিলেন তাদের মধ্যে আফসার উদ্দিন আহমেদ, রফি উদ্দিন আহমেদ, ডাঃ এসএমএ করিম, বাবু সতীশ চন্দ্র সাহা, কাজী নওশের আলী, নূর উদ্দিন আহমেদ, বাবু নন্দলাল দত্ত।
কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৬৫ সালের শেষ ভাগে নূর আলী মিয়ার আহ্বানে স্থানীয় হাট চাঁদনীতে সর্বস্তরের এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারন সভায় নূর আলী মিয়াকে আহ্বায়ক মনোনীত করে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। ঐ সভায় কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি কে দেবেন এমনি এক আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন আফসার উদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রায় ৬.৫৫ একর জমি ও বিশহাজার টাকা দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে কারনে তার বদন্যতার স্বীকৃতি স্বরূপ কলেজটির নামকরণ আফসার উদ্দিন সাহেবের মরহুম পিতা মাহতাব উদ্দিন সাহেবের নামানুসারে মাহতাব উদ্দিন কলেজ নাম করনের সিদ্ধান্ত হয়। তারই ধারা বাহিকতায় ১৯৬৬ সালের ১লা আগষ্ট কালীগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ডে রফি উদ্দীন আহমেদের বাড়ীতে (ভাড়ার বিনিময়ে) মাহতাব উদ্দিন কলেজের কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন হয়। এরপর ধীরে ধীরে কলেজটি সুনামের সাথে মাথা উঁচু করে বিদ্যা শিক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যায়। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর এমনকি প্রায় সাড়ে তিন যুগ পার হলেও জাতীয়করনের মুখ দেখেনি। অথচ এই জনপদ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন যে সমস্ত ব্যক্তিরা তারা কলেজটি সরকারি করন কথা দিয়েও কেওই কথা রাখেনি। অবশেষে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যান্ত আস্তাভাজন ঝিনাইদহ-৪ আসনের তরুণ জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা আনোয়ারুল আজীম (আনার) অনেক দেন দরবার করে তার দলীয় নেত্রী ও শিক্ষা বান্ধব সরকারের কাছ থেকে আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটি জাতীয়করন করতে। একই সাথে এমপি আনার আরো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করন করতে সক্ষম হয়েছেন। নাম তার সরকারী নলডাঙ্গা ভূষন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কালীগঞ্জ বাসী তরুন এই জননেতা নামটি আজীবন স্মরন রাখবে। কালীগঞ্জের ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে তার নামটি। শহরবাসীর দাবী পৌর এলাকার আরো দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে আলহাজ¦ আমজাদ আলী এন্ড ফাইজুর রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও ঐতিহ্যবাহী সলিমুনেচ্ছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি জাতীয়করনের আওতায় আনা হোক।