মহেশপুরে মাদক সম্রাট মনিরের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ

0
368

মহেশপুর অফিসঃ- ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের শ্যামকুড় নিন্দাপাড়ার মৃত পেনতা হোসেনের পুত্র মনির হোসেন এলাকার চিহৃিত নেশাখোর মাদকসেবীদের সংগঠিত করে একটি মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেট তৈরী করে নিজে প্রধান সেজে ভারত থেকে ফেন্সিডিল, বাংলামদ, হুইস্কি, ইয়াবা এনে এলাকার যুব-সমাজ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে বলে এলাকায় ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার যুবসমাজ মারাত্মকভাবে প্রতারিত এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ধ্বংস হচ্ছে।
এলাকার অবিভাবক গন মনিরের অত্যাচারে তাদের কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের জন্য শংঙ্কিত।
এলাকা সুত্রে জানাগেছে উপজেলার শ্যামকুড় নিন্দাপাড়ার মৃত পেনতা হোসেন ছিল একজন দিনমজুর,পরের ক্ষেতে কাজ করে তিনি সংসার চালাতেন। তার পুত্র মনির হোসেন ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত,সেও দিনমজুরের কাজ করত। মনির যুুবক বয়স থেকেই ঝুকে পড়ে নেশার জগতে,হয়ে যায় একজন বখাটে মাদকসেবী। ঐসময় সে দিন মুজুরীর পাশাপাশি ভারত সীমান্ত নিকটবর্তী হওয়ায় চোরাই পথে ভারত থেকে ফেন্সিডিলসহ অন্যান্য নেশার পণ্য সামগ্রী এনে নিজে সেবন করতো পাশা পাশি এলাকার যুব সমাজের মাঝে বিক্রি করে তাদেরকে মাদকাক্ত করেছে। পরবর্তীতে মনির এলাকার কয়েকজনকে মাদকাসক্ত যুবকদের সংগঠিত করে গড়ে তোলেছে একটি মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেট। এসকল সিন্ডিকেট সদস্যদের দিয়ে ভারত থেকে আনা মাদকদ্রব্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আজ সে কোটিপতি বনে গেছে।
বর্তমান এলাকার বেকার যুবকরা মাদকের টাকা যোগাড় করতে না পেরে পিতা-মাতার অগোচরে গোলার ধান,ব্যারেলের চাল বিক্রি করে মদের টাকা যোগাড় করছে । ফলে অধিকাংশ পরিবার আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান মনিরের মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, প্রতিবাদ করলে সে বলে আমার বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে জানে মেরে ফেলবো। আরো বলে আমি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা করি। তোরা আমার কিছুই করতে পারবি না। মনির বর্তমানে মহেশপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের পাতিবিলা গ্রামের পুকুর পাড়ায় বসবাস করে। ওখান থেকেই সে তার সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় কমান্ড পদ্মপুকুর গ্রামের ওয়াহেদ দপ্তরীর ছেলে সন্ত্রাসী ইজাজুল হক রোগাকে দিয়ে পরিচালনা করে যাচ্ছে । পদ্মপুকুর গ্রামের সমাজ সেবক মিজানুর রহমান সরকার মনিরের মাদক ব্যবসায় বাধা প্রদান করলে মনির ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ত্রাসী রোগাকে দিয়ে গত ১০/০১৮/২০১৫ ইং তারিখে মিজানুর সরকার কে পিস্তল দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। এব্যাপারে ঝিনাইদহ কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। ইজাজুল হক রোগা বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজ্য কায়েম করে চলেছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না ।
এব্যাপারে এলাকাবাসী দেশের ছাত্র সমাজ এবং বেকার যুব সমাজকে বাঁচাতে মনির ও রোগার মত উচ্ছশৃংখল মাদক ব্যবসায়ীকে প্রসাশন কর্তৃক আটক করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছে ।