খুলনায় প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ঝরে পড়ছে ৪০ ভাগ শিক্ষার্থী

0
232

 

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
খুলনায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খোন্দকার মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে খুলনায় প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ৪০ ভাগ। মাধ্যমিকের কোনও পরিসংখ্যান করা হয় না। মূলত অভিভাবকদের অসচেতনতা, বাল্যবিয়ে ও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের কারণে ঝরে পড়া থামছে না।’
জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ২০১৩ সালে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০১৭ সালে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৯ জন। ২০১৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণিতে রিপিটার ছিলেন ৬৬ হাজার ২৭৪ জন। ২০১৭ সালে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২০১৩ সালের আগে শিক্ষার্থী ছিল ৮ হাজার ১৩৫ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৪৯ জন।
ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয়ে তারা লেখাপড়া ভাল বুঝতে পারে না। পরীক্ষায় পাশ করতে পারে না। এ কারণে লজ্জা বোধ হয়। শিক্ষকরা জানান, নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা শিক্ষার্থীরাই মূলত অকৃতকার্য হয়। অভিভাবকদের অসচেতনতায় তারা নিয়মিত ক্লাসে আসে না।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন বলেন, এক সময় প্রাথমিকে ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ দারিদ্র। কিন্তু বর্তমানে এটি সবচেয়ে দুর্বল কারণ। অন্যতম কারণ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা।
খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান বলেন, ‘বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানের পাশাপাশি কিছু সামাজিক কার্যক্রমও রয়েছে। বিশেষ করে মা সমাবেশের প্রতি গুরুত্ব দিলে ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব।’
প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালক মেহেরুন নেছা বলেন, ‘খুলনায় ঝরে পড়ার হার আগের চেয়ে কমেছে।’ সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া হার শূন্যের কোটায় আসবে বলে তিনি আশা করেন।