বাঁচাতে হবে কালীগঞ্জের শতবর্ষী গাছ শুকনো ডাল কেটে মানুষকে করতে হবে ঝুঁকিমুক্ত

0
378

মোঃ হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা ও শহরের সংযোগকারী ঝিনাইদহ -যশোর ,কালীগঞ্জ -কোটচাদপুর,মহাসড়কের শতবর্ষী বড় বড় গাছগুলো দেখভালের অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শহরের ভিতরের অনেক গাছের গোড়ায় বিভিন্ন অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারনে গাছের গোড়ায় পানি প্রবেশ করতে পারছে না। আর শহরের বাইরের অংশের মহাসড়কের পাশের বড় বড় গাছগুলোর গোড়ায় মাটি না থাকায় শিকড়গুলো ভেসে উঠে গাছ দূর্বল হয়ে পড়ছে। আবার পুরাতন এ সকল গাছগুলোর মোটামোটা ডালে পরজীবী গুল্ম জাতীয় বিভিন্ন উদ্ভিদ গজিয়ে উঠে পচে যাচ্ছে। অন্যদিকে বয়সের ভারে অনেক ডালে পঁচন ধরেও ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে। আর এগুলো ভেঙ্গে নীচে পড়ার কারনে পথচারীরা হতাহতের শিকার হচ্ছেন। সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর শহরের নতুন বাজারের একটি গাছের শুকনো ডাল ভেঙ্গে মাথায় পড়ে কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল রউফের স্ত্রী ফাহমিদা খাতুন(৩৫) নিহত হয়েছেন।
সরেজমিনে শনিবার দিনভর কালীগঞ্জ শহরের নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায়,মহাসড়কের পাশের গাছগুলোর গোড়ায় বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান। এ কারনে গাছের গোড়াগুলো এমনভাবে ঘেরা হয়েছে কোন রকমে পানি গাছের গোড়ায় প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে এখানকার গাছগুলো দূর্বল হয়ে ডালপালা শুকিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর পাশেই জিন্নাত আলীর ইলেকট্রনিক্স্রের দোকানের সামনের একটি গাছ সম্পূর্ণটা মরে শুকিয়ে গেছে। এ গাছটির কান্ডের ছাল খসে পড়ে ডালের সাদা কান্ড বের হয়ে গেছে। এ গাছটিও যখন তখন ভেঙ্গে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও এর আশপাশের নতুন বাজারের সংলগ্ন অনেক গুলো গাছের ডাল শুকিয়ে গেছে। যে কোন সময় পড়ে পথচারীসহ লোকজন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন। এখান থেকে একটু এগিয়ে মেইন বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমপাশের একই সড়কে সিটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সামনের বড় গাছটির গোড়ায় এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালাচ্ছেন। গরম চায়ের পানি আর গরম চুলার গরমে এ গাছটি শেষ পর্যন্ত মারাই গেছে। গত বছর এ মরা গাছটির ডালপালা কেটে নেয়া হলেও শুকনো উচু গাছের কান্ডটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যবস্থা না নিলে যখন তখন জনবহুল এলাকার এ গাছটি পড়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কালীগঞ্জ- যশোর মহাসড়কের শহরের মাইক্রো স্ট্যান্ড সংলগ্ন এস,বি এন্টার প্রাইজের সামনের গাছটির গোড়া প্লাষ্টার করে দেয়ায় গাছের গোড়ায় পানি প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। ফলে গাছটি মরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এ গাছের বেশ কিছু মোটা মোটা ডাল পালা শুকিয়ে লোক সমাগমের এ স্থানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শহরের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের মিলগেট এলাকার মহাসড়কের পাশের গাছগুলোর গোড়ায় তেমন একটা মাটি নেই। এখানকার বেশ কিছু গাছেরও মোটামোটা ডাল শুকিয়ে একই অস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নলডাঙ্গা ভ’ষন সরকারী পাইলট হাইস্কুলের সামনের ব্রিটিশ আমলের গাছেগুলোরও একই অবস্থা। এ এলাকার পথচারীসহ সড়কের পাশের ভবনগুলোও বাড়তি ঝুঁকি বহন করছে। এ ব্যাপারে একাধিক পৌর নাগরিক বলেন, তারা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করেন। জনবহুল এ শহরের প্রাণকেন্দ্রের বড় বড় গাছের শুকলো ডাল পড়ে প্রায়ই পথচারীরা আহত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের উচিত গাছের ঝুঁকিপূর্ণ শুকনা ডালগুলো কেটে ফেলার ব্যবস্থা করা।
দৈনিক মানবকণ্ঠের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি শাহাজান আলী বিপাশ জানান, সম্প্রতি যে গাছের ডালটি ভেঙ্গে পড়ে গৃহিনী ফাহামিদা নিহত হয়েছেন এ গাছের শুকনা ডালের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের দৃষ্টি কেড়ে তিনিসহ একাধিক সংবাদকর্মী ঈদের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে সচিত্র পোষ্ট দিয়েছিলেন। কিন্ত কেউ এগিয়ে আসেননি। অবশেষে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি সন্তানকে মা হারা হতে হলো।
কালীগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা আব্দুল জলিল বলেন,গত বছরও মুগার মিল এলাকায় একটি গাছের শুকনা ডাল ভেঙ্গে পড়ে বলিদাপাড়া গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক মহিলা মারা যান। এভাবে ডাল পড়ে প্রতিদিনই কোন না কোন সড়কের পথচারীরা আহত হচ্ছে। ফলে এখনই ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া উচিত।
কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জামির হোসেন বলেন, গাছ মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এ গাছ যাদের কারনে এবং যে যে কারনে মারা যাচ্ছে সেটা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তিনি বলেন, পূর্বে দেখা গেছে ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে শুকনো ডালের সাথে ভালে ভালো মোটা সতেজ ডালও কেটে প্রভাবশালীরা নিজেদের পেট ভরেছেন। এদিকটা মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেন দূর্ঘটনা এড়াতে অতি শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা না হলে বর্ষায় পঁচা গাছের শুকনো ডাল পড়ে আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহা বলেন, গাছের শুকনো ডাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন সড়কের গাছগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ও গাছের ডাল কাটার জন্য ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ সচিব মহোদয়কে অবহিত করেছেন। আশা করছেন খুব তাড়াতাড়ি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।