বিপর্যস্ত সড়ক যোগাযোগের কারণে সাতক্ষীরা পথে সুন্দরবনে আসতে ক্রমশঃ আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা

0
387

মুহা: জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা:
“সাতক্ষীরার আকর্ষন সড়ক পথে সুন্দরবন” এই কথাটি এখন ¯œান হতে বসেছে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের কারনে। প্রয়োজনীয় সংষ্কারের অভাবে সাতক্ষীরা শহর থেকে সুন্দরবন ঘেষা মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এই সড়কের বড় একটি অংশ জুড়ে গর্ত আর গাড্ডায় পরিণত হয়েছে। সড়কটি সুন্দরবনের সাথে সরাসরি সংযোগ হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। ফলে বিপর্যস্ত এই এই সড়ক যোগাযোগের কারনে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন যেতে পর্যটকরা ক্রমশঃ আগ্রহ হারাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কুলিয়া, পারুলিয়া, নলতা, চৌমোহনী, ভাড়াশিমলা, কালিগঞ্জের নারায়নপুর মোড়, ভ্রুরুলিয়া মোড়, শ্যামনগর, মহসিন কলেজ মোড়, হায়বাতপুর মোড়, বংশীপুর, মুনছুর সরদারের গ্যারেজ এলাকা, শ্রীফলকাটি মোড়, ফুলতলা ও কলবাড়িসহ প্রায় ২০ থেকে ২২টি স্থানে অন্ততঃ ৩০ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। শহরের অদূরে বাঁকাল চেকপোষ্ট থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত পুরো রাস্তার পিচ উঠে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা হলেও এসব গর্ত পানিতে ভরে থাকে। ফলে চরম ঝুকি নিয়ে চলছে বাস, মিনিবাস, ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন। চলতি বর্ষা মৌসুম শেষ হতে এই সড়কের অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে নিয়মিত বাস চালক মুনছুর আলী জানান, রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীবাহি বাস চালানো খুবই ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া অত্যন্ত ঝাকুনির কারনে যাত্রী সাধারণ সিটে ঠিকমতবসতে পারেনা। জেলার ব্যস্ততম এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য জেলা চিংড়ী চাষী কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক ডা: আবূল কালাম বাবলা জানান, শুধু মুন্সিগঞ্জ-সাতক্ষীরা সড়কই নয় সাতক্ষীরা পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে সুন্দরবনের সাথে সরাসরি সংযোগ হওয়ায় মুন্সিগঞ্জ-সাতক্ষীরা সড়কটি অত্যন্ত গুরত্বপুর্ন। বর্তমানে এই সড়ক পথে সাতক্ষীরা থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত গেলে আর দ্বিতীয় বার যেতে ইচ্ছে করে না। এ সড়কটি ভালো হলে পর্যটকের সংখ্যা যেমন বাড়বে তেমনি সুন্দরবনের গুরত্বও বাড়বে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরার স্থানীয় বরসা ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহ আমান জানান, সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়ক চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিপর্যস্ত সড়ক যোগাযোগের কারণে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবনে আসতে পর্যটকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। অথচ সাতক্ষীরা দিয়েই সড়ক পথে সুন্দরবন দেখার সবচেয়ে ভাল সুযোগ রয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকষর্ণ করছি।
সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের বহু স্থানে রাস্তা অত্যান্ত ঝুকিপুর্ন হয়ে পড়েছে। যাত্রীবাহি বাস চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে মারাত্মক ঝুকি নিয়ে চলছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আপাতত মুন্সিগঞ্জ থেকে বংশ্বীপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ১৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাশ হয়েছে। এর বরাদ্ধ এলেই টেন্ডার আহবান করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তাছাড়া ভেটখালী-সাতক্ষীরা সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামতের জন্য ১১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে একটি প্রাকল্প করে পাঠানো হয়েছে মন্ত্রনালয়ে। এ প্রকল্পটি পাশ হলে সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক আর খারাপ থাকবে না বলে জানান তিনি।