যশোরে জাতীয় ট্রায়াথলন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন খেলাধূলায় বিশ্বে স্থান করে নিবে বাংলাদেশ : হানিফ

0
302

#দলগত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি
স্টাফ রির্পোটার,যশোর ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ মহাশূন্য অবস্থান করছে। খেলাধূলায়ও বিশ্বে একদিন ভাল স্থান করে নিবে। শনিবার যশোরে ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার প্রাঃ লিমিটেড দ্বিতীয় জাতীয় ট্রায়াথলন (পুরুষ ও মহিলা) ও প্রথম জুনিয়র জাতীয় ট্রায়াথলন (বালক/বালিকা) প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হানিফ আরও বলেন, ট্রায়াথলন খেলাটি বর্তমানে বাংলাদেশে পরিচিতি নয়। সাধারণ দর্শকদের এই খেলা সম্পর্কে ধারণা নেই। বিশ্বে এই খেলাটির অনেক জনপ্রিয়তা আছে। বাংলাদেশেও এক সময় ভাল আর্কষনীয় খেলা হিসেবে পরিচিতি হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে খেলাধূলায় ছেলেদের সাথে মেয়েরাও ভাল করছে। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এশিয়ার সেরা হয়েছে, ফুটবলেও মেয়েরা সুনাম অর্জন করছে। শেখ হাসিনা আন্তরিক না হলে এটা সম্ভাব হত না। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্রায়াথলন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বশির আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার, জাগরণী চক্র যশোরের নির্বাহি পরিচালক আজাদুল কবির আরজু, উপশহর ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু, যশোর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আবাহনী ক্রীড়া চক্র সমর্থক গোষ্ঠির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু, বাংলাদেশ ট্রায়াথলন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পদাক মাহমুদুল করিম ও যশোর ট্রায়াথলন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এসএম আল মামুন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের ৩৭ দলের হয়ে শতাধিক প্রতিযোগি জাতীয় ট্রায়াথলনে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় এলাকা ঘিরে নানা বয়সের পুরুষ-মহিলা, তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীরা ব্যাতিক্রম এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। সিনিয়র পুরুষ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সাজ্জাদ হোসেন, দ্বিতীয় হয়েছেন ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার রফিকুল ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ আনসারের মাহবুবুর রহমান।
সিনিয়র মহিলা বিভাগে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সুমাইয়া আক্তার, দ্বিতীয় হয়েছেন একই দলের মুক্তি খাতুন এবং তৃতীয় হয়েছেন দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নাজনীন নাহার।
জুনিয়র বালক গ্রুপে বগুড়ার রানা ট্রায়াথলন ক্লাবের রায়হান প্রথম, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির আশিক রানা দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন রাজশাহী ট্রায়াথলন ক্লাবের আল আমিন। জুনিয়র বালিকা গ্রুপে ঝিনাইদহ পূর্বাঞ্চল সুইমিং ক্লাবের তানিয়া খাতুন প্রথম, যশোর সুইমিং ক্লাবের ফারজানা আক্তার সোনালী দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ফারজানা রুমি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতায় দলগত চ্যাম্পিয়ন হবার কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি।
বিকালে চ্যাম্পিয় দল ও বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যশোর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আবাহনী ক্রীড়া চক্র সমর্থক গোষ্ঠির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু।

যশোর শামস্-উল-হুদা একাডেমীর কাছে প্রীতি ফুটবল
ম্যাচে হারালো ভারতের কল্যাণী মিউনিসিপ্যালিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি ও ভারতের কল্যাণী মিউনিসিপ্যালিটি স্পোর্টস একাডেমী ফুটবল দলের মধ্যে একদিনের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার হামিদপুরস্থ একাডেমীর নিজস্ব মাঠে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমী ৫-০ গোলে জয় লাভ করে। খেলার শুরু থেকে চেনা মাঠ হওয়া দারুণ ছন্দময় খেলা উপহার দেয় শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়রা। এই ছন্দ পুরো সময় জুড়েই ছিল জাহিদ, রিমনদের পায়ে।
যশোর শামস্ উল হুদা ফুটবল একাডেমি প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। খেলার ২০ মিনিটে লেফট উইং থেকে জাহিদের পাসে বল পেয়ে গোল করেন আরিফ হোসেন লাল। ৩২ মিনিটে রিমন হোসেনের একক প্রচেষ্টায় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু করে ভারতের কল্যাণী মিউনিসিপ্যালিটি স্পোর্টস একাডেমী। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি গোল হজম করে ভারতের কল্যাণী মিউনিসিপ্যালিটি স্পোর্টস একাডেমী। শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমীর এনামুল হক দ্বিতীয়ার্ধের ১৭ ও ২৮ মিনিটে দুটি এবং রিমোন হোসেন ২৯ মিনিটে একটি গোল করেন।
খেলার মধ্যবিরতির সময় দু’দলের খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ও ভারতের কল্যাণী মিউনিসিপ্যালটি স্পোর্টস একাডেমির সভাপতি ড. নিলিমেশ রায় চৌধুরী ও শিল্পী রায় চৌধুরী। শামস্-উল- হুদা ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শফিক উজ্জামান ও ইয়াকুব কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম আখতারুজ্জামান ও এমএ আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল, রাহুল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শামস্ উল বারী শিমুল, শামস্ উল হুদা ফুটবল একাডেমির সচিব মাসুদুর রহমান টনি প্রমুখ। খেলার শুরুতে শামস্ উল হুদার সদ্য প্রয়াত বড় ছেলে কামরুল বারী লাট্টুর স্মৃতির উদ্দেশ্য এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এর আগে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে খেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রীতি এই ফুটবল ম্যাচ দেখতে হাজারো দর্শক উপস্থিত ছিল মাঠে। খেলা রেফারি দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল রাসেদ। তাকে সহায়তা করেন জিল্লুর রহমান, সালাউদ্দিন দিলু ও নিবাস হালদার।