চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ(রা) মেলা :ব্যাপক প্রস্ততি:মঙ্গলবার থেকে মেলা শুরু

0
801

স্টাফ রির্পোটার যশোর: :
যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ দেওয়ানের মেলা মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। মেলা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বাংলা মাসের শেষ মঙ্গলবার পীর বলুহ দেয়ানের রওজা শরীফকে ঘিরে সপ্তাহ ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার রাত ১২ টা এক মিনিটে বলুর (রা:) মাজার পানি ধৌত পবিত্র করবেন তার ভক্তরা। এ দিনটি মূলতঃ পীর বলু(রাঃ) এর মৃত্যূ দিবস। এই মেলায় গত সোমবার থেকেই খুলনা সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর,কুষ্টিয়া, ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, মাগুরা, ঝিনাইদাহ, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে হাজার হাজার স্টল মেলায় বসানো হয়েছে।

যশোর জেলা থেকে ৩০ কিঃমিঃ দূরত্বে সীমান্তবর্তী উপজেলার নারয়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে পীর বলুর মাজারকে ঘিরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩শ বছর ধরে বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার আসলেই এ মেলা শুরু হয়।

এবারের মেলায় থাকছে মহিলাদের কসমেটিকস্্ের স্টল, শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী, সংসারিক ব্যবহার্য সরঞ্জাম, ঘর সাজানোর জন্য বাহারী ডিজাইনের নজরকাড়া আসবাবপত্র,শিশু বিনোদনের জন্য রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, নাগরদোলনা, পুতুল নাচ, যাদু ও খাবারের জন্য হোটেল ইত্যাদি। মেলা শুরু হবার ২দিন আগে থেকেই বিশৃংঙ্খলা এড়াতে মেলা স্থলে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ টহল দিচ্ছে। মেলা পরিচালনা কমিটি ও প্রশাসন অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মদ জোয়া গাজার আসরের বিরোধী ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে,এ মেলায় এ অঞ্চলের হাজার হাজার দর্শনার্থীরা এসে উপভোগ করে থাকে।

স্থানীয়রা অন্য কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত না করলেও এই এই মেলার উৎসবকে ঘিরে মেয়ে জামাই নগ্নি করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটছে না বলে পেটভরা গ্রামের আব্দুল গনি,শামিমসহ অনেকেই জানিয়েছেন। এই অঞ্চলের মানুষ মেয়ে জামাইসহ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এই মেলাকে ঘিরে আনন্দ আর উল্লাস বেড়েছে। মেলার রওজা শরীফে পীর বলু রাঃ এর মাজের এই দিনে বিভিন্ন উদ্দেশ্য মানত করা গরু,ছাগল,হাস-মুরগী,কবুতর,নগত টাকা ইত্যাদি পরিশোধের মাধ্যমে মুক্তি পায়।

পীর বলু(রা) ৩০০/৪০০ বছর আগে উপজেলা হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহন করেন বলে এলাকার প্রবীন লোকজনের ধারনা। তার পিতার নাম ছুটু বিশ^াস। ছোট বেলায় তার মামা বাড়ি হাজরাখানা গ্রামে আসেন। তার মাজার হাজরাখানা গ্রামছাড়াও যাত্রাপুর গ্রামে,ঝিনাইদাহ জেলার কালীগজ্ঞ উপজেলার বড়ধোপাদী বাজারে ২টি রওশা শরীফ এখনও বিদ্যামন আছে।সেখানেও একই দিনে অর্থ্যাৎ তার মৃত্যূ বার্ষিকীকে ঘিরে মেলা বসে আসছে। পীর বলুর জন্ম থেকে মৃত্যূ পর্যন্ত নানা রহস্য ঘেরা। এ অঞ্চলের বৃদ্ধদের মুখে জনশ্রুতি আছে পীর বলু(রা) অসংখ্য কিংবিদন্তি রয়েছে যা বর্ননাতীত। তিনি ছোট বেলায় যখন তার পিতা ছুটু বিশ^াসের সাথে যাত্রাপুর গ্রামের বেদন মিলে গরু চরাতে গিয়ে গরুগুলো বক তৈরী করে গাছে বসিয়ে রাখতেন।

একদিন গ্রামে এক ব্যাক্তির মাঠে সরিষার আগুন লাগিয়ে ভস্মিভূত করে দেন। তখন ওই ব্যক্তি ভেঙ্গে পড়েন যে আমার সরিষাগুলো বলু এভাবে পুড়িয়ে ফেললো।তখন বলু তাকে শান্তনা দিয়ে বললেন ভাই আপনার তো সরিষা পোড়েনি। শুধু সরিষার গাছ পুড়েছে। সরিষা নষ্ট হয়নি ভাই।

এ বিষয়ে মেলা কমিটির সভাপতি ও নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মুকুল ও সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জমান মিলন জানায়,এ বছর আমরা মেলা উপলক্ষে ১০ দিনের জন্য অনুমতি পেয়েছি।থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শামিম উদ্দিন ও নির্বাহী কর্মকর্তা ইবাদৎ হোসেন মেলাকে ঘিরে বিশৃংঙ্খলা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ সার্বিক খোঁজ খবর রাখছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শামিম উদ্দিন বলেন মেলা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মেলা স্থলে দূর্ঘটনা এড়াতে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।