জাতিয় নির্বাচন: চৌগাছা-ঝিকরগাছায় বিলবোর্ড প্রচারণার পেরেকে গাছের সর্বনাশ

0
675

বিশেষ প্রতিনিধি :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে যশোর -২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে প্রায় দেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে তাঁরা গাছগুলোতে পেরেক ঠুকে প্রচারণা বোর্ড ঝোলাচ্ছেন। এতে একদিকে সরকারি বনজসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা-ঝিকরগাছা উপজেলার প্রতিটি রাস্তার দুই পাশের গাছ ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত ঢেকে ফেলা হয়েছে প্রচার বোর্ডে। বিগত দিনগুলোতে অল্প শুভেচ্ছা বার্তার বিলবোর্ড দেখা যেত। এবার তা বেড়েছে। অন্য দলের দু-একজনের প্রচার বোর্ড খুবই সীমিত দেখা গেলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রাদেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী সক্রিয়।

এছাড়া উদীয়মান অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিধিরা বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে তাঁদের রং-বেরঙের প্রচার বোর্ড লাগাতে মূল্যবান গাছগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে থেমে নেই শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও তাদের প্রচার বোর্ড গাছে গাছে ঝুলিয়ে প্রচারনা চালিয়ে আসছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, চৌগাছা-যশোর,চৌগাছা-ঝিকরগাছা,চৌগাছা-কোটচাদপুরসহ সকল সড়কের দুই পাশের গাছ, শহর এবং গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারের মধ্যবর্তী একেকটি গাছে ১০-১২টি পর্যন্ত প্রচার বোর্ড ঝোলানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছায়াবেষ্টিত দাঁড়িয়ে থাকা গাছেরও একই অবস্থা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে, সড়কের মোড়ে বড় বড় প্রচার বোর্ড স্থাপন করায় চালকরা সামনে বেশি দূর দেখতে পারেন না। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সেই সাথে সরকারের বনোজ সম্পদের লাখ লাখ ক্ষতি হচ্ছে উপজেলার কৃষিবিদ রইচ উদ্দিনসহ সচেতন মহল মনে করছেন।

গাছে পেরেক মেরে প্রচারণা চালানোদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রয়েছেন সংসদ সদস্য (এমপি) এ্যাড.মনিরুল ইসলাম মনির, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমান,আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক এ্যাড. আহসানুল হক আহসান,সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সাবেক মোজর জেনারেল ডা: নাছির উদ্দিন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন,জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান,বিএনপির চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপরি জহুরুল ইসলাম,ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান, জাতিয় পাটির জেলা যুগ্ন সম্পাদক নুরুল কদর, জাতিয় পাটির নেতা বি এম সেলিম রেজা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এছাড়াও এ অঞ্চলের অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা নিজের অবস্থান শক্ত ও পরিচিতি লাভ করতে আসন্ন জাতিয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন দিবসকে ঘিরে গাছে গাছে পেরেক ঠুকে বিল বোর্ড ও পোস্টার সেটেছেন। তারা হলেন উপজেলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী,উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক দেবাশীষ মিশ্র জয়, জেলা পরিষদের সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমান, পৌর মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি শাহাজান কবির, আওয়ামলীগ নেতা শাহা আলম সরকার, জেলা আইনজিবী সমিতির সাধারন সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাড.শাহিনুর রহমান শাহিন,আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মজিদ,যুবলীগ নেতা মমিনুর রহমান মমিন,উপজেলা যুবলীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান,যুবলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম,যুবলীগ নেতা আনিসুুর রহমান,যুবলীগ নেতা শাহা আলম,উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন খান,উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক বি এম শফিকুজ্জামান,উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহাম্মদ,ছাত্রলীগ নেতা শফিক হায়দার লাভলু, ছাত্রলীগ নেতা শামিম রেজা শামিমসহ আরও অনেকে।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী জহুরুল ইসলাম বলেন,‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে আমরা প্রচার বোর্ড মারার জায়গাই পাচ্ছি না। আমার প্রচার বোর্ড যা সাঁটানো হয়েছে তা বাঁশের সাহায্যে। কর্মীদের বলা আছে, পেরেক ঠুকে প্রচার বোর্ড গাছে না ঝোলাতে।’

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন বলেন, ‘গাছে গজাল বা পেরেক ঠুকলে এখনি এর ক্ষতি বিষয়টি বোঝা যাবে না। এতে গাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষমতা হারাবে। অতিরিক্ত মাত্রায় বড় পেরেক ঠুকলে ধীরে ধীরে গাছ শুকিয়ে মারা যাবে।’সড়কের পাশের গাছগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত। যেমন পৌরসভা, জেলা পরিষদ, বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আমার আওতাধীন কিছু গাছ আছে ইউনিয়নের মধ্যে। আমরা সম্মিলিতভাবে গাছে পেরেক ঠুকানোর বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করি।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবাদৎ হোসেন বলেন, ‘নেতারা গাছে পেরেক টুকে বিল বোর্ড মেরে ব্যাপক ক্ষতি করছেন। এগুলো তো জনসচেতনতার অভাব। এসব গাছ রাষ্ট্রের সম্পদ । তাই এ সব গাছ রক্ষার জন্য সকলকে এগিয়ে আসা একন সময়ের দাবী বলেই মনে করি।

এ বিষয়ে যশোর-২(চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. এনিরুল ইসলাম মনির বলেন,গাছে পেরেক ঠুকে গাছে প্রচার বোর্ড ঝুলানো বন্ধ হওয়া উচিত। এতে গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার কর্মীদের বাঁশ মাটিতে পুঁতে প্রচার বোর্ড ঝুঁলানোর কথা বলা হয়েছে। শুধু তাই না এখন থেকে কেউ কাছে পেরেক ঠুকে বিল বোর্ড মারলে বা ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।