খুলনার বাজারে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া

0
232

 

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
ভরা মৌসুমেও এক কেজি ওজনের ইলিশ দেড় হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। যা গত বছর ছিলো ৭০০-৮০০ টাকা। খুচরা বাজারে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। একই অবস্থা পাইকারী বাজারে। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের রাজা ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু মোকামগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইলিশ আমদানি হচ্ছে না। তাই কোটি কোটি টাকা লোকসান হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা। তাদের মতে, প্রতি বছর এই সময় নদী ও সাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়েছিলো। কিন্তু চলতি বছরে ঘটছে এর উল্টো। ভরা মৌসুমেও তেমন ইলিশ মিলছে না। যে কারণে দাম এত বেশি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমদাদুল নামের এক ক্রেতা বলেন, গত বছরের মতো এবার বাজারে দেখা নেই রূপালী ইলিশের। যদিওবা মেলে, তাতে হাত ছোঁয়াতে গেলেই ছ্যাঁকা লাগছে। অগ্নিমূল্য ইলিশ। আকারে ছোট হলেও দামটা অনেক বড়। অতো দাম দিয়ে যে ভালো ইলিশ মিলবে তারও কোনো গ্যারান্টি নেই।
কেসিসি রূপসা পাইকারি মৎস্য আড়তের মুজাহিদ ফিসের আড়তদার আবু মুসা বলেন, ইলিশের মৌসুম চললেও সরবরাহ কম। মেঘনায়ও ইলিশ ধরা পড়ছে না। যে কারণে আমাদের পাইকারি বাজারেও ইলিশের আকাল, তাতে দাম বেশি। তিনি জানান, প্রতি কেজি ৫০০ গ্রামের (পাইকারি) ইলিশ ৬০০-৬৫০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ৮শ’ টাকা ও ৮০০/৯০০ গ্রামের দাম হাজার টাকা, এক কেজি সাইজের ১২শ’ টাকা, এক কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মূল্য ১৬০০-১৭০০ টাকা, আর দেড় কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের মূল্য ২ হাজার টাকা। প্রকারভেদে গত বছর এ সময়ে ইলিশের মূল্য ছিলো অর্ধেক। তিনি বলেন, পাইকারি বাজার বলে এখানে মাছের মূল্য একটু কম। খুচরা বাজারে আমাদের এখানের চেয়ে প্রতিটি মাছের কেজি প্রতি ২০০-৩০০ টাকা বেশি।
এস বেঙ্গল ফিসের প্রোপ্রাইটর প্রকাশ বাবু বলেন, ভরা মৌসুমেও চলছে ইলিশের আকাল। এ সময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু উপকূলের নদ-নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না। ভোলা ও বরিশালের মোকামে আমাদের অনেক টাকা দেওয়া। সেখানেও মাছ নেই। চরদোয়ানিতে কিছু মাছ আছে। মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি।
কেসিসি রূপসা সাদামাছ আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুর রহমান জন্টু বলেন, ইলিশ না পেয়ে নদী থেকে প্রতিদিনই জেলেদের প্রায় শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর এখন পযর্ন্ত ইলিশ কম ধরা পড়েছে। প্রতিবছর আমাদের বাজারে যে মাছ আসে এবার তার চারভাগের এক ভাগ আসছে। বরিশালের নদ-নদীতে তেমন মাছ ধরা পড়ছে না। পায়রা, বিশখালী, বলেশ্বরের মাছ তেমন ধরাই পড়ছে না। চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমুদ্রের কিছু মাছ আসছে। তার স্বাদ না থাকায় ক্রেতারা কিনছেন না।

খুলনায় ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের
দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

খুলনা ব্যুরো:
মাত্র ১৭ দিন মেয়াদ বাকি থাকতে অছাত্র ও মাদক বিক্রেতাদের দিয়ে খুলনা মহানগর, চারটি থানা ও একটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল নেতারা। গতকাল রোববার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ কমিটি বাতিল করে গঠণতন্ত্র মোতাবেক কমিটি গঠন না করলে শীর্ষ নেতাদের কাছে অভিযোগ দাখিল, মানববন্ধন ও অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এ কমিটিকে অবৈধ দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান এবং পাল্টা কমিটি গঠন করে প্রতিরোধের ঘোষণাও দেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে পদবঞ্চিত নেতাদের পক্ষে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। দুই বছর মেয়াদী এ কমিটি পরিপূর্ণ রূপ পায় ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। সংগঠনের গঠণতন্ত্র মোতাবেক এ কমিটির মেয়াদ আছে মাত্র ১৫-১৬ দিন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ত্যাগি নেতা-কর্মীরা এ কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি। অছাত্র ও মাদক বিক্রেতাসহ একাধিক মামলার আসামিদের ওই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে অসাংগঠনিক পন্থায় তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে সকলের অগচরে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রদল নেতা মো. শহিদুল ইসলাম বাবু, মারুফুর রহিম দিপু, সৈয়দ মো. তানভির আহমেদ, মো. জসিম খান, আসলাম হোসেন রনি প্রমুখ।