আওয়ামী লীগ:প্রার্থী বদল হচ্ছে ৭৩: চুড়ান্ত দেড়শতাধিক আসনে

0
726

বিশেষ প্রতিনিধি:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সার্বিক প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে। নির্বাচন পরিচালনায় কমিটি গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরুর উদ্যোগও চলছে। এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে দেড় শতাধিক আসনে দলীয় প্রার্থী তালিকা। ওই তালিকা অনুযায়ী সারা দেশে ৭৩টি আসনে প্রার্থী বদলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে।

বিশেষ সংস্থা ও প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন নেতাদের পরিচালিত আলাদা আলাদা জরিপে অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নিজের সংসদীয় আসনে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ওইসব আসনে আরো যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীদের সুযোগ দিয়ে দলের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ভালো ইমেজের নেতা বাছাই করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত চার হাজার জনের তালিকা থেকে। এবার তাই প্রায় ৪২টি জেলার ৭৩ আসনে নতুন মুখ দেখা যাবে। যদিও শেষ মুহূর্তে অনেক আসনে মনোনয়ন নির্ভর করবে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর ওপর।

শেখ হাসিনা ছয়টি মাঠ জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে আলাদা দুটি তালিকা করেছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি শেষ পর্যন্ত জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে এলে প্রথম তালিকা আর খণ্ডিত হয়ে অংশ নিলে দ্বিতীয় তালিকাটি বিবেচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী দুই বছর আগে থেকেই প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিবিড় জরিপ চালানো হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী মিলিয়ে অন্তত ৮০ জনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য উঠে এসেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ৭৩টি আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের মাঠ গোছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তাদের ‘সবুজ সঙ্কেত’ দেওয়া হয়েছে। যদিও তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে নতুন হওয়ায় অনেককে আগেভাগে নিজ নিজ আসনে কাজ শুরুর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সূূত্র জানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুজ্জামান শিখর এবার হজে যাওয়ার আগে শেখ হাসিনা নিজেই তাকে মাগুরা-১ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। ওই আসনে তার মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত বলে মনে করেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থীর ১০০ জনের চূড়ান্ত তালিকা হয়েছে। তাতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের নাম রয়েছে।’

টাঙ্গাইল-৩ আসনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের নাম আছে চূড়ান্ত তালিকায়। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আমানুর রহমান খান রানা হত্যা মামলায় জেলহাজতে।

ব্র্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও বাফুফের সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি’র মনোনয়ন পাওয়া প্রায় চূড়ান্ত।

যশোর-৬ আসন থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বদল হবে। এক সময়ের দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী শাবানা গত বছরের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের জন্য ওই আসন থেকে মনোনয়ন চান। প্রধানমন্ত্রী তখন শাবানাকে রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দেন। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক (প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী) সম্পর্কে ওয়াহিদ সাদিকের ভাবি। ইসমাত আরা নিজের এলাকায় নিয়মিত না যাওয়ায় স্থানীয় জনগণের তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছে, প্রধানমন্ত্রীর পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে বলে সূত্র জানায়।

আরো যেসব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত, সেগুলোর মধ্যে আছে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মুন্সীগঞ্জ-২, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে হাবিবে মিল্লাত মুন্না, বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কুমিল্লা-৭, আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সলান রাজবাড়ী-২, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক কিশোরগঞ্জ-২, শফিকুল আলম কুমিল্লা-১, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম শরিয়তপুর-২, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ফেনী-৩, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রাম-৯, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন নেত্রকোনা-৫, চিত্রনায়ক ও প্রযোজক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক গাজীপুর-৫, অভিনেত্রী অঞ্জনা সুলতানা চাঁদপুর-৩, নাট্যাভিনেত্রী শমী কায়সার নোয়াখালী-১, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন পটুয়াখালী-১, দলের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী লক্ষ্মীপুর-৪, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম টাঙ্গাইল-৬।

এ ছাড়া ঢাকায় চারটি, চট্টগ্রামে তিনটি, কুষ্টিয়ায় একটি, চুয়াডাঙ্গায় একটি, পিরোজপুরে একটি, বরিশালে একটি, ঝালকাঠিতে একটি, কক্সবাজারে একটি, লক্ষ্মীপুরে দুটি, শেরপুরে একটি, ময়মনসিংহে দুটি, মানিকগঞ্জে একটি, ফরিদপুরে একটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুটি ও চাঁদপুরে দুটি সংসদীয় আসনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদলে যেতে পারে।