চৌগাছার জগদীশপুর তুলা ফার্মের গেট বহাল রাখার দাবি

0
314

স্টাফ রির্পোটার,যশোর:যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর তুলা গবেষনা ও বীজ বর্ধন খামারের ৩৮ বছরের পুরাতন ৩নং গেইট বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীসহ গ্রামবাসী। মানববন্ধন শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর অর্ধ সহ¯্রাধীক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।
রোববার বেলা ১২টায় চৌগাছা উপজেলা পরিষদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন সকাল ১০টায় খামার ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন শেষে খামার ব্যবস্থাপকের নিকট গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দেন এলাকাবাসি। গ্রামবাসীর পক্ষে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানে নেতৃত্ব দেন ইউপি সদস্য বরকত আলী, সাবেক ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান হাসান, জিন্নত আলী, সহ-অধ্যাপক আব্দুল মাজিদ, বকুল হোসেন, আশিকুল ইসলাম, রনজু, সিরাজ উদ্দিন প্রমুখ। মানববন্ধনে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামের বিপুল সংখ্যক স্কুল শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন ১৯৮০ সালে উপজেলার জগদিশপুর ইউনিয়নের জগদীশপুরে এই খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আঞ্চলিক তুলা উন্নয়ন, তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধণ খামার বলে এর খ্যাতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতাকালীন সময়ে খামারের চার পাশে তারকাটা দিয়ে সীমানা প্রাচীর করার সময়ে তিন দিকে তিনটি গেইট রাখা হয়। সে সময়ে খামার এবং পার্শ্ববতী অপরাপর গ্রামের মানুষের মির্জাপুর গ্রামের সাথে যোগাযোগের জন্য খামারের উত্তর পূর্বকোনে ৩নং গেইট নামে একটি গেইট রাখা হয়। যা বর্তমানেও বহাল আছে। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর খামারটির চর্তুদিকে প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছে, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই প্রাচীর নির্মানের সাথে ৩নং গেইটটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে খামারের অপরপার্শে¦ অবস্থিত ৩টি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কান্দি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্বর্পরাজপুর দাখিল মাদ্রাসা ও জেএমএসকে কলেজে অধ্যায়ণরত মির্জাপুর গ্রামের পাঁচশতাধিক ছাত্র -ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহনে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চিয়তা। এই প্রতিষ্ঠান গুলো ছাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য আর কোন প্রতিষ্ঠান নেই। এছাড়া একই এলাকায় অবস্থিত স্বর্পরাজপুর একটি বড় বাজার। এটি মির্জাপুর গ্রামবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাকাটার একমাত্র বাজার। সবমিলিয়ে ৩নং গেইটটি যেন বহাল রাখা হয় সে দাবি করেন তারা।

উল্লেখ্য এর আগেও তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসি ব্যবস্থাপকের কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সে সময় খামার ব্যবস্থাপক শেখ আল মানুনের প্রতিশ্রুতিতে তারা শান্ত হয়। এ বিষয়ে খামার ব্যবস্থাপক শেখ আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। ১৭৬০ ফুট সীমানা প্রাচীর নির্মান শেষ হচ্ছে। এই মুহুর্তে মির্জাপুর গ্রামবাসী ৩য় গেটটি খোলা রাখার জন্য দাবি তুলেছে, এমনকি একটি স্মারকলিপি ও পেয়েছি। স্মারকলিপিটি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তরে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।