যশোর জেলার সকল হাটবাজারে ছয়লাব ভারতীয় নিম্নমানের চায়ে

0
259

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ ভারতের কোলঘেষে যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর। এই স্থল বন্দর দিয়ে ক্রমাগত ভাবেই সীমান্তের ‘চোরাপকেট’ দিয়ে দেদারসে পাচার হয়ে আসছে ভারতীয় নিম্নমানের চা। এই সব চায়ে ছয়লাব সীমান্তবর্তী হাটবাজার। যার মধ্যে রয়েছে যশোরের ঝিকরগাছা, চৌগাছা, শার্শা, বাঁগআচড়া, মনিরামপুর ও কেশবপুরের হাটবাজারে এই সব চা গুনগত মান নির্নয় ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে হরহামেশা। ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য যা হুমকি স্বরূপ বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা।
ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা নিম্নমানের চা দেশিও চায়ের তুলনায় কম মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে বলে এ দেশের হাট-বাজার, শহর-বন্দর-গ্রামে প্রতিটা চায়ের দোকানে এটা ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন কিংবা সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের এব্যাপারে কোন মাথা ব্যথা নেই। এসব নিম্নমানের চা শুধু যশোরের সীমান্তবর্তী অঞ্চল নয়, খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার চায়ের বাজারও দখল করেছে বলে চা শিল্প ও ব্যবসার সাথে সংশি¬ষ্টরা ছাড়াও ভূক্তভোগীরা এই উদ্বেগজনক খবর জানিয়েছেন।
তাদের মতে, পাচার হয়ে আসা ভারতীয় নিম্নমানের এই চা স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং তা মেয়াদোত্তীর্ণ। ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের চা শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার পাশাপাশি নিম্নমানের এই চা ঢুকিয়ে দিয়ে চা পানে অভ্যস্তদের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে ।
চা ব্যবসার সাথে দীর্ঘকাল ধরে জড়িত ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ‘টি বোর্ড’র উদাসীনতা ও খামখেয়ালীপনা সিদ্ধান্তের কারণে ভারতীয় চায়ের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে। তাদের মতে, এদেশের ‘রপ্তানীমুখী’ চা শিল্পকে ধ্বংস করার ‘নীলনকশা’র পাশাপাশি নিম্নমানের ভারতীয় চা পান করার ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। অথচ পণ্যের গুণগতমান নির্ণয়কারী সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউট (বিএসটিআই) কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ বা মাথা ব্যথা নেই।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বেনাপোল সীমান্তের চোরাপকেট গুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতীয় এই নিম্নমানের চা পাচার হয়ে আসছে বাংলাদেশে। চা পাচারের সাথে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহিলা চোরাচালানীদের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। দেশের প্রধান স্থল বন্দর বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা খুলনা গামী কমিউটার ট্রেন ও বিভিন্ন্ পরিবহনে এসব মহিলারা খোলা ও অরক্ষিত অবস্থায় এসব নি¤œমানের চা এনে সীমান্তবর্তী উপজেলা গুলোর ছোট বড় সব বাজারে পৌছে দিচ্ছে। দেশিয় চায়ের গুনগতমান ঠিক থাকলেও ভারতীয় নিম্নমানের চায়ের অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে দেশিয় চায়ের বাজারে ক্ষতির প্রভাব পড়ছে। দেশিয় চা প্রতি কেজি ২শত ৫০ টাকা থেকে ৩শত ৫০ টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। অথচ ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা নি¤œমানের ভারতীয় চা প্রতি কেজি ১শত ৫০ টাকা থেকে ২শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এবিষয়ে কথা হয় ঝিকরগাছা পৌর বাজারের চা দোকানি উদয় কুমারের সাথে। তিনি জানান, অতি লাভের আশায় বাজারের অনেক দোকানিরা ভারতীয় নিন্মমানের চাপাতি দিয়ে চা বানান।
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ শরিফুল ইসলাম জানান, যেহেতু পাচার হয়ে আসা এসব চা নিন্মমানের। তাই এইসব চা পানে মানুষের স্বাস্থ্যহানীসহ বড় ধরণের রোগব্যাধী হতে পারে।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করা হবে। এবং শার্শা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সুবেদার মেজরসহ সংশ্লিষ্ঠদের পাচার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।