আলোচনায় সমাধান খুঁজতে মুসলিম বিশ্বকে আহ্বান শেখ হাসিনার

0
213

বার্তাবিডিডেস্ক নিউজ:

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা দ্বিপাক্ষিক কিংবা আঞ্চলিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।”
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্যাতন নিয়ে ওআইসি কনটাক্ট গ্রুপের বৈঠকে একথা বলেন তিনি।
মুসলমানদের এই অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসিকে আরও কার্যকর ভূমিকার রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা ।
তিনি বলেন, “সারা বিশ্বে কেন মুসলমানরা দমন, নির্যাতন ও নির্বাসনের শিকার হচ্ছে; তা ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকেই খুঁজে বের করতে হবে। কেন মুসলিমরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে?” বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গাদের তার আবাসভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে মুসলিম দেশগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। যতদ্রুত সম্ভব এই সমস্যা সমাধানে জোরও দেন তিনি।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর জাতিগত নিপীড়ন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার মুখে সেখান থেকে পালিয়ে এসে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে ছিল। তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বার বার আহ্বান জানানো হলেও মিয়ানমার তাতে সাড়া দেয়নি।
এরপর ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর নির্যাতনের মুখে আরও ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, “এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানরা গণহত্যার শিকার হয়ে তাদের শতাব্দীর পুরনো আবাসভূমি ছেড়ে সীমান্ত অতিক্রম করতে শুরু করে।”
একে মানব ইতিহাসের বৃহত্তম বাস্তচ্যুতির ঘটনাগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা জোরপূর্বক নির্বাসিত রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে উপেক্ষা করতে পারি না।”
শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “এই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে যৌথ দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারে নিহিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুতরাং মিয়ানমারকেই এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের নাগরিকদেরও দুর্ভোগ পোহানোর কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এই মানবিক আচরণের সুযোগ নেওয়া ঠিক হবে না।
“বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি আমাদের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।”
দায়িত্বশীল প্রতিবেশী দেশে বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে আসছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে তা কার্যকরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
“আন্তর্জাতিক চাপই এই জাতিকে ধ্বংসে মিয়ানমারের সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরাতে পারে।” এই বৈঠকে ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ আল ওসমীন উপস্থিত ছিলেন।