ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধন চায় ইইউ

0
255

বার্তাবিডিডেস্ক নিউজ:

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে এ আইন বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে বাধাগ্রস্ত করবে উল্লেখ করে আইনটি নিয়ে আরো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইইউভুক্ত দেশগুলো।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইইউ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মিশনপ্রধান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদল, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড মিশনপ্রধান এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮ পাস হয়েছে। এ আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি, যেগুলো স্বাধীন গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা এবং বিচার প্রক্রিয়াকে নিশ্চিতভাবে অবমাননা করবে। এ আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা এবং মানুষের স্বাধীনতার বৈধ চর্চাকে দমন করার কাজে ব্যবহার হতে পারে। ফলে এটি নেতিবাচক এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ জোগাবে।

এ আইনের বিষয়ে আরো আলোচনা অব্যাহত এবং গত মে মাসে ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউতে (জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ৪-৫ বছর অন্তর সংস্থার মানবাধিকার কাউন্সিলের পর্যালোচনা বৈঠক) দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অনুসরণ করতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে। ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস, দ্য ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আদলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরির সুপারিশ করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ জানিয়েছিল ইইউ। তীব্র সমালোচনা উপেক্ষা করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এ আইন পাস হয়। মানবাধিকারকর্মীরা এই আইনকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে।

এর আগেও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের চারটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ইইউ ও ১০টি দেশ। গত ২৫ মার্চ ইইউসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত এসব দেশের রাষ্ট্রদূত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা আইনটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং আইনটির কিছু ধারা সংশোধনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ, ইতালি, স্পেন, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত এবং ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্বাক্ষর করেন।