মাগুরায় ২৯ কর্মকর্তার মধ্যে ২১ জনই অনুপস্থিত

0
282

মাহামুদুন নবী(মাগুরা):–
ঘড়ির কাটায় তখন ঠিক ১২ টা। মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের অধিকাংশ দপ্তরে কর্মকর্তার উপস্থিতি নেই। কয়েকটি দপ্তরে অফিস পিয়ন এবং অধিনস্ত কয়েকজন কর্মচারীদের ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। বেশির ভাগ অফিসেই ঝুলছে তালা। আবার কয়েকটি অফিসের দরজা খোলা থাকলেও চেয়ার-টেবিল ফাঁকা। বেলা ০১ টা পর্যুন্ত অপেক্ষা করেও দেখা মেলেনি উপজেলা পরিষদের ২১ জন কর্মকর্তার । অভিযোগ আছে বেলা ১২ টার পর অফিসে আসেন কর্মকর্তারা এবং দুই এক ঘন্টা কাজ করেই আবার ফিরে যান বাড়িতে। কিন্তু এদিন একেবারেই অফিসে আসেননি ২১ কর্মকর্তা। অধিকাংশই কর্মকর্তা ঠিকমত কখনওই অফিস করেননা বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক কর্মচারি। কর্মকর্তাদের এমন অনিয়মের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে আসা দুরাগত সাধারন মানুষ।
বিভিন্ন কাজে আসা সাধারন মানুষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ রোববার দুপুরে সরেজমিনে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। এই চিত্র প্রতিদিনের হলেও বাসাবাড়ি দুরে এবং নানা অজুহাতের কথা মোবাইল ফোনে জানান দপ্তরে অনুপস্থিত ওই সকল কর্মকর্তারা। এর ফলে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শিকার হতে হয় দুর-দুরান্ত থেকে আগত অফিসগুলোতে সেবা নিতে আসা লোকজনের। তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কারো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৯টায় অফিস সময় শুরু হলেও এদিন অধিকাংশ কর্মকর্তাই ছিলেন অনুপস্থিত। অনেককে ১২ টার পর অফিসে আসতে দেখা যায়। আবার হাজিরা খাতায় সই করে দুপুরের মধ্যেই অফিস ত্যাগ করেন। দুপুরের খাবার ও নামাজের অজুহাতে অফিস ত্যাগ করেন তারা। ফলে কর্মকর্তাকে না পেয়ে বিভিন্ন কাজে আসা দুরাগত মানুষ বাধ্য হয়ে অনেকেই ফিরে যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় ঐ দিন কর্মকর্তারা দেরি করে অফিসে আসেন। এবং বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় দুপুরের পরপরই মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের অধিকাংশ অফিস ফাঁকা হয়ে যায়।
অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষায় সরকারি আদেশে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান লন্ডনে চলে যাওয়ায় এবং নতুন ইউএনও স্থায়ীভাবে পরিষদে যোগদান না করায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সুযোগ বুঝে অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আবার মাগুরা জেলা সদরের ইউএনও মো: আবু সুফিয়ান মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ায় আরো ভোগান্তীতে রয়েছে স্থানীয়রা। কারন বেশিরভাগ সময়ই তিনি থাকেন অনুপস্থিত ।

রবিবার বেলা ১২ টার সময় সরজমিনে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা যায় সাবরেজিষ্ট্রার মাহামুদা খানম, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মানবেন্দ মজুমদার, মৎস কর্মকর্তা মীর লিয়াকত আলী, হিসাবরক্ষন অফিসার স্বপন কুমার বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তহমিনা আফরোজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মীরাজুল ইসলাম, আনসার বিডিবি কর্মকর্তা ফরিদ আলম, উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল হাসান , মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রোগ্রামার এস এম আসাদুজ্জামান, উপ-সহকারী আবুল ফজেল, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার অফিসার অপুর্ব লাল ভট্রাচার্য্য,সহকারী ডেভোলপমেন্ট অফিসার বায়েজিদ মোস্তফা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহ আলম, নির্বাচন অফিসার আবু দাউদ, শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার গোস্বামী, পরিবার পরিকল্পনা অফিসার হাসানুল হকসহ মোট ২১ কর্মকর্তাকে অফিসে অনুপস্থিত দেখা যায় । তাদের বেশিরভাগ কর্মকর্তাদেরই অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায় এছাড়া বাকিদের অফিস খোলা থাকলে ও চেয়ার টেবিল ফাঁকা দেখা যায়। অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভুমি), উপজেলা পরিসংখ্যন কর্মকর্তা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (শিক্ষা), উপজেলা সামাজিক ও বনায়ন কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শুণ্য আছে।

বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তার অনিয়মের বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃদঃ) আবু সুফিয়ানের সাথে কথা বললে তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘কর্মব্যস্ততার কারণে কোন দপ্তরের খোঁজ নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। সরকার নিয়ম করে দিয়েছে সকলকেই অফিসিয়াল সময়মত অফিস করতে হবে। নিজের দায়িত্ব বোধ থেকে কেউ যদি কাজ না করে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে জানানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে আপনারা আজ যে নাড়াটা দিলেন, এতে সকল কর্মকর্তারা সচেতন হবেন বলে আমি আশা করি। সবাইকে ডেকে জানিয়ে দিব প্রতিদিন সময় ও নিয়ম কানুন মেনেই অফিস করার কথা। এছাড়া পরিষদের মাসিক সভায় অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
মাগুরা জেলা প্রশাসক মহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ইউএনও অবর্তমান থাকায় কর্মকর্তারা অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে। তবে অনুপস্থিত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।