চৌগাছার ‘তথ্য সৈনিক’

0
646

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়? সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য কী পরিমাণ ওষুধ আসে? ভূমি কার্যালয়ে জমির নামজারি করতে সরকারি ফি কত? এসব জানার আগ্রহ থেকেই শুরু তাঁর তথ্য পাওয়ার লড়াই। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি তথ্য ও সেবা পেতে তিনি জনগণকে সহায়তা করে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দিনে দিনে তিনি ‘তথ্য সৈনিক’ হিসেবে এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। এই তথ্য সৈনিক হলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার জামলতা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আশরাফ হোসেন (৫০)।

স্থানীয় এই কাঠ ব্যবসায়ী উপজেলার দুর্নীতিবাজ, অনিয়মকারী সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের কাছেও মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কমে আসবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে বেসরকারি সংগঠন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)।

জানা গেছে, তথ্য জানার অধিকার সম্পর্কে প্রবল আগ্রহ থেকে আশরাফ হোসেন ২০১৫ সালে এমআরডিআইয়ের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দেন। তিনি বলছিলেন, এর আগে সরকারি কার্যালয়গুলোতে তথ্য চেয়েও তিনি পাননি, বরং তাঁকে তথ্য চাওয়ার কারণে নানা কথা শুনতে হয়েছে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করে।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘তথ্য অধিকার ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রতিটি সরকারি অফিসে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয় তা জানতে পারি। কোন তথ্য জানা জনগণের অধিকার সেটা বুঝতে পারি।’ তিনি জানান, ক্যাম্প শেষে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৩০ জন মিলে তাঁরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য চেয়ে ৩৯টি আবেদন করেন। এই আবেদনের পর হুলুস্থুল পড়ে যায়। বিষয়টি তাঁকে তথ্য জানার ব্যাপারে আরো আগ্রহী করে তোলে।

আশরাফের ভাষায়, ‘জনগণের তথ্য জানার যে ভীতি ছিল সেই ভীতি আমি দূর করার চেষ্টা করছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর মধ্যে চৌগাছা উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতাল, বেসরকারি সংস্থা শিশু নিলয়, সমাজসেবা অফিস, ধুলিয়ানী ইউনিয়ন সচিব, সিংহঝুলী ইউনিয়ন সচিবের কাছে তথ্য চেয়ে পাননি আশরাফ। তথ্য অধিকার আইনে আপিল করলেও নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পেয়ে হতাশ হন তিনি। ফলে আইনের ২৫-এর ক ধারায় তিনি তথ্য কমিশনে ডাকযোগে অভিযোগ পাঠান। পরে কমিশনে শুনানির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির করে ভর্ত্সনা করা হয়। একই সঙ্গে তথ্য দিতে তাঁরা বাধ্য হন। এখন যেখানেই অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখেন, সেখানেই তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে তিনি তথ্য চান। এ পর্যন্ত তিনি চৌগাছা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অফিস, বেসরকারি সংগঠন আশা, ব্র্যাক, জেলা ভূমি কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য চেয়ে ৪০টি আবেদন করেছেন।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমি গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ। আমি বুঝি, জনগণ যদি তথ্য জানতে পারে, তাহলে অনিয়ম ও দুর্নীতি কম হবে। বিভিন্ন অফিসে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।’ আশরাফের এই কাজ জনগণের বেশ উপকারে আসছে বলে জানা গেছে। উপজেলার লস্কারপুরের আহাদ আলী (৫৫), জামলতার খাইরুল হোসেন (৫০), নারায়ণপুরের সাহারবানু (৬৫) জানান, আশরাফ হোসেনের পরামর্শে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। তাঁর নাম বলায় কর্মচারীরা দ্রুত তাঁদের চিকিৎসক দেখাতে সহায়তা করেন। পাওয়া গেছে বিনা মূল্যের ওষুধও।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশরাফ হোসেন এখন ওই অঞ্চলের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের বন্ধুতে পরিণত হয়েছেন। তিনি এখন দৃষ্টান্ত।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবাদত হোসেন বলেন, ‘আশরাফ হোসেন যে কাজটি করছেন, তা সত্যি ভালো লাগার বিষয়। জনগণকে সচেতন হতে হবে। তাহলে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।’

ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়? সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য কী পরিমাণ ওষুধ আসে? ভূমি কার্যালয়ে জমির নামজারি করতে সরকারি ফি কত? এসব জানার আগ্রহ থেকেই শুরু তাঁর তথ্য পাওয়ার লড়াই। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি তথ্য ও সেবা পেতে তিনি জনগণকে সহায়তা করে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দিনে দিনে তিনি ‘তথ্য সৈনিক’ হিসেবে এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। এই তথ্য সৈনিক হলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার জামলতা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আশরাফ হোসেন (৫০)।

স্থানীয় এই কাঠ ব্যবসায়ী উপজেলার দুর্নীতিবাজ, অনিয়মকারী সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের কাছেও মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কমে আসবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে বেসরকারি সংগঠন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)।

জানা গেছে, তথ্য জানার অধিকার সম্পর্কে প্রবল আগ্রহ থেকে আশরাফ হোসেন ২০১৫ সালে এমআরডিআইয়ের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দেন। তিনি বলছিলেন, এর আগে সরকারি কার্যালয়গুলোতে তথ্য চেয়েও তিনি পাননি, বরং তাঁকে তথ্য চাওয়ার কারণে নানা কথা শুনতে হয়েছে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করে।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘তথ্য অধিকার ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রতিটি সরকারি অফিসে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয় তা জানতে পারি। কোন তথ্য জানা জনগণের অধিকার সেটা বুঝতে পারি।’ তিনি জানান, ক্যাম্প শেষে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৩০ জন মিলে তাঁরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য চেয়ে ৩৯টি আবেদন করেন। এই আবেদনের পর হুলুস্থুল পড়ে যায়। বিষয়টি তাঁকে তথ্য জানার ব্যাপারে আরো আগ্রহী করে তোলে।

আশরাফের ভাষায়, ‘জনগণের তথ্য জানার যে ভীতি ছিল সেই ভীতি আমি দূর করার চেষ্টা করছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর মধ্যে চৌগাছা উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতাল, বেসরকারি সংস্থা শিশু নিলয়, সমাজসেবা অফিস, ধুলিয়ানী ইউনিয়ন সচিব, সিংহঝুলী ইউনিয়ন সচিবের কাছে তথ্য চেয়ে পাননি আশরাফ। তথ্য অধিকার আইনে আপিল করলেও নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পেয়ে হতাশ হন তিনি। ফলে আইনের ২৫-এর ক ধারায় তিনি তথ্য কমিশনে ডাকযোগে অভিযোগ পাঠান। পরে কমিশনে শুনানির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির করে ভর্ত্সনা করা হয়। একই সঙ্গে তথ্য দিতে তাঁরা বাধ্য হন। এখন যেখানেই অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখেন, সেখানেই তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে তিনি তথ্য চান। এ পর্যন্ত তিনি চৌগাছা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অফিস, বেসরকারি সংগঠন আশা, ব্র্যাক, জেলা ভূমি কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য চেয়ে ৪০টি আবেদন করেছেন।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমি গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ। আমি বুঝি, জনগণ যদি তথ্য জানতে পারে, তাহলে অনিয়ম ও দুর্নীতি কম হবে। বিভিন্ন অফিসে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।’ আশরাফের এই কাজ জনগণের বেশ উপকারে আসছে বলে জানা গেছে। উপজেলার লস্কারপুরের আহাদ আলী (৫৫), জামলতার খাইরুল হোসেন (৫০), নারায়ণপুরের সাহারবানু (৬৫) জানান, আশরাফ হোসেনের পরামর্শে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। তাঁর নাম বলায় কর্মচারীরা দ্রুত তাঁদের চিকিৎসক দেখাতে সহায়তা করেন। পাওয়া গেছে বিনা মূল্যের ওষুধও।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশরাফ হোসেন এখন ওই অঞ্চলের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের বন্ধুতে পরিণত হয়েছেন। তিনি এখন দৃষ্টান্ত।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবাদত হোসেন বলেন, ‘আশরাফ হোসেন যে কাজটি করছেন, তা সত্যি ভালো লাগার বিষয়। জনগণকে সচেতন হতে হবে। তাহলে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।’