পান চাষ করে স্বাবলম্বী চৌগাছার উচ্চ শিক্ষিত যুবক নাজমুল হোসেন

0
400

রিয়াজুল ইসলাম ঃ যশোর:
যশোরের চৌগাছায় ব্যাপক হারে পান চাষ শুরু হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পান চাষে লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন চাষিরা ঝুঁকেছে পান চাষে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানচাষ ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। চৌগাছায় উৎপাদিত একটি রোল মডেল উপজেলা হিসাবে ইতোমধ্যে আতœপ্রকাশ করেছে। আজ থেকে ৬ বছর আগেও চৌগাছাতে তেমন কোন পান চাষ ল্যক্ষ করা যায়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্নভাবে কৃষকরা পান চাষ শুরু করেছেন। তবে স্বরুপদাহ ইউনিয়নে পান চাষ ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চৌগাছাতে ৯৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। এলাকার মাটির গুনাগুন বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন জাতের পান চাষ হয়ে থাকে। তবে দুটি জাত ঝাল ও পান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি দেশের বাইরে রপ্তানি হচ্ছে।
সূত্র জানা যায়, যশোরের চৌগাছা উপজেলা উন্নয়ন ও উৎপাদনের ভাবনা জাতের পান বেশি চাষ হয় বলে জানা গেছে। গতকাল উপজেলার স্ববরুপদাহ ইউনিয়নে খড়িঞ্চা ও সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামে গেলে দেখা যায় মাঠ কি মাঠ পান চাষ হচ্ছে। এ সময় স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, পান চাষ একটি লাভজনক ফসল। বছরে বার মাসই বাজারে এর চাহিদা থাকায় কৃষকেরা পান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হোসেন (২৬) এস এস সি পাশ করেন ২০০৭ সালে।তারপর ভর্তি হন কাটগড়া কলেজে।২০০৯ সালে কাটগড়া কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন।তার পর ভর্তি হন যশোর সিটি কলেজে।সেখান থেকে সমাজকর্মে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করেন ২০১৫ সালে।পরে ফিরে আসেন বাড়িতে।তিনি চাকুরীর পিছনে না ঘুরে গড়ে তোলেন পানের বরজ।সেই থেকে তাকে আর পেছনে তাকানো লাগে নি।বর্তমানে সে ২ বিঘা জমিতে পানচাষ করে সব খরচ বাদ দিয়ে ১ লক্ষ টাকা করে আয় করছে।এর পাশাপাশি সে ছাত্রছাত্রীদের পড়ায়ে মাসিক কয়েক হাজার টাকা আয় করছে। নাজমুল ইসলাম বলেন আমরা যদি চাকুরীর পিছনে না ঘুরে সবাই এমন উদ্দেগ নেয় তাহলে দেশে বেকারত্ব থাকবে না। একই গ্রামের পান চাষি শাহানুর রহমান চুন্নু বলেন, আমার ৩ বিঘা পান চাষ আছে।প্রথম বছর বাঁশ, খড়, ছলিসহ বিভিন্ন উপকরণের পাশাপাশি শ্রমিক বাবদ বেশ খরচ হয়। বছরের যে কোন সময় পানের চাষ শুরু করা যায়। পানের লতা জমিতে লাগানোর পর ৬ মাস কঠিন শ্রম দিতে হয় । এরপর থেকে শুরু হয় পান উঠা। তিনি জানান, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ দেখা না দিলে বছর শেষে সকল খরচ খরচা বাদ দিয়ে ৩ বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা লাভ করতে পারবো। বর্তমানে ১ পোন (৮০টি) পান বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়। এছাড়া অন্য সময় প্রতি পন পান বিক্রি করা হয় ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায়। চাষি জনাব আলী বলেন, আমি ২০০৫ সালে এক বিঘা পান চাষ করেছি। এখনও পর্যন্ত আমার সেই বরজ থেকে পান তোলা যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথমদিকের চেয়ে বর্তমানে যেন পান দেখতে ভাল ও বড় আকৃতির হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি লাভজনক চাষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া পান চাষে কৃষকের ক্ষতির সম্ভবনা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এক সময় চৌগাছাতে স্বল্প পরিসরে পান চাষ শুরু হলেও বর্তমানে এর ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। চাষিরা কোন সমস্যায় পড়লে কৃষি অফিস তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।
রিয়াজুল ইসলাম
০১৭১১১২৫৬৬১