ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযানে দুর্নীতি উদঘাটন

0
222

ডেস্ক নিউজ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)-এর আজিমপুর আঞ্চলিক অফিসে দুর্নীতির ঘটনা হাতেনাতে উদ্ঘাটন করেছে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রাপ্তির পরপরই দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে বুধবার তাৎক্ষণিক একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়।

এ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন সহকারী পরিচালক সেলিনা আখতার মনি ও মো. জাকারিয়াসহ পুলিশের সমন্বিত সাত সদস্যের একটি চৌকস টিম। টিমটি আকস্মিক আজিমপুর কর অঞ্চল-৩ এ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দেখতে পায়, অফিসটি দালাল নিয়ন্ত্রিত। দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে দালালরা পালিয়ে যায়, কিন্তু এক দালালের রেখে যাওয়া একটি ব্যাগ দুদক টিম হাতেনাতে জব্দ করে। জব্দকৃত দালালের ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, তাতে সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ১৬টি ট্রেড লাইসেন্স বই ও ব্যাংক চালান ফর্ম রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, রতন কুমার বাবু নামক একজন ব্যক্তির কাছ হতে সুপারভাইজার (লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন) চন্দ্র শেখর রায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি বাবদ বেআইনিভাবে সাত হাজার টাকা নিয়েছেন। এ ঘটনা উদঘাটন করার পর দুদক মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী আজিমপুর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবার নির্দেশ দেন। অতঃপর আজিমপুর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আনসারুজ্জামান (উপসচিব) -এর উপস্থিতিতে দুদক টিম দুর্নীতির প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করেন।

তিনি দুদক টিমকে আশ্বস্ত করেন, সিটি কর্পোরেশন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, সুপারভাইজার চন্দ্রশেখরকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতির কারণে শুধু মানুষের হয়রানিই হচ্ছে না, রাজস্ব আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুদক এসব ঘটনা প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় দুর্নীতিবাজদের তালিকা করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান কাজ শুরু করবে।’