রোনালদোর জন্য রিয়ালে হাহাকার!

0
269

খেলা ডেস্ক : সাজানো সংসার ভালোই চলছিল। সংসারের অধিকর্তা জোর গলায় ঘোষণা করে যাচ্ছিলেন, বড় ছেলে চলে গেছে তো কি হয়েছে, বাকিরা তো দাপিয়েই বেড়াচ্ছে। কিন্তু বিপত্তি বাধলো, তখনই যখন হোঁচট খাওয়া শুরু হলো। তখন, চারদিক থেকে হাহাকার শুরু হয়ে গেলো, ‘আহারে! বড় ছেলেটা নেই। থাকলে তো আর এমন হতো না। এতটা বিপর্যয়ে কি তার থাকার সময় হয়েছিল কখনও?’

পাঠক! এখানে সাজানো সংসার বলতে রিয়াল মাদ্রিদ আর সেই সংসারের বড় ছেলে হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মৌসুমের শুরুতেই রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন জুভেন্টাসে। রিয়াল ছাড়ার পর ক্লাবটির কোচ হুলেন লোপেতেগুই থেকে শুরু করে অনেকেই বলেছেন, ‘রোনালদো চলে গেছে তো কি হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ মানে রিয়াল মাদ্রিদই। তাদের শ্রেষ্ঠত্ব কেড়ে নেয়ার সাধ্য কারও নেই।’

লা লিগার শুরুতে বেনজেমা-বেল কিংবা আসেনসিওদের উজ্জীবিত ফুটবল বেশ কয়েকটি জয় এনে দিয়েছে রিয়ালকে। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শুরুতে এএস রোমার বিপক্ষেও ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ের পর মাদ্রিদিস্তারা বগল বাজাতে শুরু করে, আমরা তো এমনিতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। কে গেলো আর কে আসলো- তাতে কিছু যায় আসে না।

বিপত্তিটা শুরু হলো সেভিয়ার মাঠে গিয়ে ৩-০ গোলে হেরে আসার পর থেকেই। এরপর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ডার্বি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র এবং সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রাশিয়ার মস্কোয় গিয়ে স্থানীয় ক্লাব সিএসকেএ মস্কোর কাছে ১-০ গোলে হেরে আসলো লজ ব্লাঙ্কোজরা। টানা তিন ম্যাচে গোল নেই মাদ্রিদের বিখ্যাত (!) সব স্ট্রাইকারদের পায়ে। বেনজেমা, বেল, আসেনসিও। রোনালদো চলে যাওয়ার পর রিয়ালে এ তিনজনকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বিবিএ।

মাদ্রিদ ভিত্তিক বিখ্যাত ক্রীড়া দৈনিক মার্কার রিপোর্ট, রোনালদোর আমলে কখনোই রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিন ম্যাচ গোলহীন থাকতে হয়নি। এমনকি এসব পরিস্থিতিতে রিয়ালের সব সময়ই ত্রাণকর্তা ছিলেন রোনালদো। তিনিই কোনো না কোনোভাবে গোল করে দলকে জয়ের রাস্তায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারতেন।

শুধু তাই নয়, ২০০৭ সালের পর এই প্রথম রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম দুই ম্যাচের মধ্যে অন্তত একটিতে হেরে গেছে। কারণ, ২০০৭ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম দুই ম্যাচের কোনোটিতে কখনও হারেনি রিয়াল। সেখানে এবারই প্রথম বড় ধরনের হোঁচট খেয়ে গেলো লজ ব্লাঙ্কোজরা।

দৈনিক মার্কার রিয়াল মাদ্রিদ বিশেষজ্ঞ কার্লোস কারপিও একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন। যেখানে তার শিরোনামই হচ্ছে, ‘এ ধরনের ম্যাচে রোনালদোর পক্ষেই জেতা সম্ভব এবং তার জন্যই এটা স্বাভাবিক।’ তিনি সেখানে লিখেছেন, ‘সিএসকেএ মস্কো ম্যাচের প্রথম মিনিটে নাকি শেষ মিনিটে গোল করেছে সেটা নিয়ে আমি ভাবছি না। আমি ভাবছি, কেন রিয়াল একটি গোলও করতে পারলো না পুরো ম্যাচে? আমি এটাও জানতে চাই না যে, তাদের মনযোগের কোনো কমতি ছিল কি না। আমি শুধু এটা জানি, পরপর দুই ম্যাচে জয় বঞ্চিত থাকার পর তাদের মধ্যে ফিরে আসার যে মানসিকতার প্রয়োজন ছিল, সেটার প্রচুর ঘাটতি দেখা গেলো।’

কারপিও আরও লিখেন, টানা তিন ম্যাচ গোলশূন্য রয়েছে রিয়াল। অথচ দলটিতে রয়েছেন করিম বেনজেমা, মার্কো আসেনসিও কিংবা গ্যারেথ বেলের মত ফুটবলার। যাদের গোল করতে না পারাটা হয়তো বা কখনও কখনও অ্যাকসিডেন্ট। অথচ, দুর্ভাগ্যক্রমে এই তিনজনের উপস্থিতি সত্ত্বেও গত ১০ বছরে সবচেয়ে কম গোল স্কোরিং দিয়ে মৌসুম শুরু হলো রিয়ালের।

গত মৌসুমের কথা যদি বলি, বেল গোল করেছেন ২১টি, বেনজেমা ১২টি এবং আসেনসিও ১১টি। সব মিলিয়ে ৪৪টি। আর রোনালদো একাই গোল করেছিলেন ৪৪ ম্যাচে ৪৪টি। ফুটবলে এ ধরনের কোনো দুর্ভাগ্যকে হিসেবে আনা হয় না। বিতর্ক করা যায়। অথচ, দুই সপ্তাহ আগে রোমারাকে হারিয়ে আসার পর লোকে বলতে শুরু করেছিল, রোনালদো ছাড়াই এই দলটা কতটা গোছালো, কতটা শক্তিশালী- সেটা দেখো।’

রিয়ালের গোলরক্ষক কেইলর নাভাস স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন, রোনালদোর তাদের লেভেলটা এমন এক পর্যায়ে সেট করে দিয়েছেন যেটা সত্যিই অনেক উুঁচুতে। যেটা গোপনীয় কিছু নয়। সিএসকেএ মস্কোর কাছে হারের পর কেইলর নাভাস সংবাদ সম্মেলনে এসে স্বীকার করলেন, রোনালদো চলে যাওযার নেতিবাচক প্রভাবটা পড়েছে দলের ওপর। তিনি বললেন, ‘এটা তো অস্বীকার করা কিছু নেই। রোনালদোই ছিলেন এই ক্লাবের সেরা ফুটবলার। তবে এসব তো এখন অতীত। আমাদেরকে বর্তমান নিয়েই বাঁচতে হবে।’