খুলনাঞ্চলে নির্বাচনকে ঘিরে সন্ত্রাসীদের উত্থান

0
316

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীরা মাথাচাড়া দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। খুলনাঞ্চলের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্ত্রধারীরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হচ্ছে। অস্ত্রধারীরা খুন ছিনতাই প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে প্রভাব বিস্তারের পায়তারা করছে। এর অংশ হিসেবে খুলনায় একের পর এর হত্যাকান্ড প্রকাশ্য দিবালোকে লাখ লাখ টাকা ছিনতাই নিত্যাদিনের ঘটনা। আর এসব অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত টিন এইজ ক্যাডাররা।
সূত্রমতে, গত বুধবার খুলনার তেতুল তলায় সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে মিঠুন (১৮) নামে এক তরুন কে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এসময় আরও একজন গুরুতর আহত হন। গত সোমবার বিকেলে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কিসমত ফুলতলা গ্রামে কাটাখালী গেটের পাশে প্রকাশ্য দিবালোকে ৬ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে। ছিনতাইকারীরা ব্যবসায়ী বিপ্রদাস সাহা (৪০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। ছিনতাই কারীরা ছিল টিন এইজ। এর এক মাস আগে একই স্থান থেকে ১৬ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। এছাড়া মঙ্গলবার খুলনার শৈলমারী ব্রীজের নিচে গলাকাটা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অস্ত্রধারীরা অজ্ঞাত (৩০) ব্যক্তিকে গলা কেটে বস্তাবন্দি করে উক্ত ব্রীজের নিচে ফেলে রেখে যায়। লাশের বস্তার ভিতর প্রায় ১৫টি লাউ ছিল। যাতে সাধারণ মানুষ লাশ পরিবহনের সময় সন্ত্রাসীদের সন্দেহ করতে না পারে।
অপরদিকে, বৃহত্তর খুলনার চরমপন্থী ও পলিটিক্যাল কানেকটেড ক্যাডাররা অধিকাংশই অশিক্ষিত ও টিন এইজ। কারো কারো অক্ষর জ্ঞান টুকু পর্যন্ত নেই। মার্কসবাদের চর্চা নেই। অথচ এরা ভয়ংকর। দিনে এবং রাত্রে, প্রকাশ্যে বা গোপনে সশস্ত্র অবস্থায় এরা গর্জে ওঠে। এদেরই হাতে এ অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর জিম্মি। র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার নাওয়া খাওয়া নেই। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যায় হচ্ছে এদের পিছে। রাজনৈতিক নেতা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি বিভিন্ন পেশাজীবী কেউই নিরাপদ নয় এদের হাতে। দফায় দফায় এ্যাকশন হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে। তবু যেন সুযোগ পেলেই অস্ত্রের ঝনঝনানিতে প্রকম্পিত করে তোলে জনজীবন। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে তাদের মধ্যে বামপন্থী মতাদর্শ খুঁজে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন গ্রুপের হয়ে সম্পদ দখল ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে কাজ করে। বাম মতদার্শের বিশ্বাসীরা তাদেরকে খুনি ও সন্ত্রাসী হিসেবে অখ্যায়িত করে।
অপরদিকে সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব-পুলিশের সাথে চরমপন্থীদের বন্দুক যুদ্ধে একাধিক জলদস্যু, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারী নিহত হয়েছে। বৃহত্তর খুলনায় তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী এসব টিন এজের সংখ্যা প্রায় ৬’শ । অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, উঠতি বয়সী এসব সন্ত্রাসীরা মুলত চরমপন্থী সংগঠনের হাতে তৈরী। যদিও এখন চরমপন্থী সংগঠনের কর্মকান্ড শিথিল। তবে বিভিন্ন কলাকৌশলে এরাই পলিটিক্যাল শেল্টারের সুযোগের অপেক্ষায়। চরমপন্থী বলে স্বীকৃত উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলো হচ্ছে, পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি (এম-এল), নিউ বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টি (মৃণাল), পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি (জনযুদ্ধ) ও কৃষক সংগ্রাম পরিষদ। এসব সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে এসব সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন নেতার সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য পাইপ লাইনে আছে।
খুলনা জেলার একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ইদানিং বেড়েছে। পুলিশ আরো বেশি সতর্ক হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য মাঠ পর্যায়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মানবাধিকার নেতা এ্যাড: কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে অপরাধ কর্মকান্ড ঘটিয়ে অনেক সন্ত্রাসীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমান করে। নির্বাচনের সময় এরাই ম্যাসেল ম্যান হিসেবে অনেকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। তাই বিষয়টি পুলিশকে এখনই খতিয়ে দেখতে হবে।
এছাড়া গত দু’মাস র‌্যাব পুলিশের অভিযানে কিছু সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা র‌্যাবের হুশিয়ারী উচ্চারনের কারনে অনেক রাজনৈতিক নেতা সন্ত্রাসীদের শেল্টার দিতে সাহস পাচ্ছে না। তবে এরই মাঝে কিছু সন্ত্রাসীরা আসন্ন নির্বাচনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় খুজে নিয়েছে।