পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটে বলে দাপট দেখিয়েছেন যশোরের মঈনুল

0
467

ইমরান হোসেন পিংকু
মালয়েশিয়া যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের উর্বর ভূমি। ১৯৯৭ সালে এ মাটিতে কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি অর্জন মধ্যে দিয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। আর ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার মাটিতেই প্রমীলা এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের টাইগ্রেসরা। ভিন দেশিদের জন্য ঊর্বর ভূমি মালয়েশিয়া নিজ দেশের ক্রিকেটকে বটবৃক্ষ রূপে দেখতে পারছে না। তবে চেষ্টার কমতি নেই তাদের। এজন্য মালয়েশিয়ান ক্রিকেট বোর্ড ঘরোয়া ক্রিকেটকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তাইতো ঘরোয়া লিগের দলগুলোতে একাধিক বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর অনুমতি দিয়েছে ওই দেশের ক্রিকেট বোর্ড। এই বিদেশি কোটায় এবারই প্রথম খেললেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার। যশোরের মঈনুল ইসলাম, পিনাক ঘোষ ও ইনামুল মোস্তাগিন। মঈনুল ইসলাম যশোরে ভেকুটিয়ার শফিকুল ইসলাম কামালের ছেলে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া মালয়েশিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ইউনিভার্সিটি কেবাংশন মালয়েশিয়ার হয়ে খেলেছেন যশোরের ক্রিকেটার মঈনুল ইসলাম। আর এই দলে খেলেছেন পিনাক ঘোষও। মঈনুল ইসলাম ব্যাটে বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। তবে ফাইনালে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মঈনুলদের। দল চ্যাম্পিয়ন না হলেও পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটে বলে দাপট দেখানোর ফলস্বরূপ ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট ও সর্বোচ্চ ২৫ উইকেটের শিকারি হয়েছেন মঈনুল ইসলাম।
৮ ম্যাচের বল হাতে নিয়ে ৩ বার দেখা পেয়েছেন ৫টি করে উইকেটের। তবে তার ১৩ রানে ৫ উইকেট সর্বোচ্চ সাফল্য। এছাড়া ব্যাট হাতে ৮ ম্যাচে ২৯ গড়ে ২০৩ রান এবং ২৫ উইকেট নিয়েছেন। ব্যাট হাতে খেলেছেন সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস।
মালয়েশিয়ান ক্রিকেট লিগে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হলেও এ লিগটিতে বিদেশি বহু ভালো ক্রিকেটার খেলেছে। এই লিগে সেরা পারফর্ম করা তাদের সহজ ব্যাপার ছিলো। কিন্তু সেই কাজটিই করে দেখিয়েছেন যশোরের ক্রিকেটার মঈনুল ইসলাম।
মালয়েশিয়া প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে বর্তমানে যশোরের অবস্থান করছেন মঈনুল। যশোর ক্রিকেট ক্লাবের সাথে নিয়মিত অনুশীলন করছেন এই ক্রিকেটার।
অনুশীলনের এক ফাঁকে মালয়েশিয়া প্রিমিয়ার লিগে সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী মঈনুল ইসলামের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকে ইচ্ছা ছিলো ভালো ক্রিকেট খেলার। বাবা, মা ও ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় আজ এত দূর পর্যন্ত আসতে পেরেছি। সালাউদ্দিন স্যার (কোচ কাজী সালাউদ্দিন) আমাকে মালয়েশিয়ায় খেলার সুযোগ করে দেয়। সেখানেই চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ দিয়ে খেলার। আমার দলের সকল কর্মকর্তা অনেক আন্তরিক ছিল। যার কারণে ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছি।
মইনুল ইসলাম খুলনা বিভাগের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ৩টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ২৯টি ঘরোয়া ক্রিকেট এ ম্যাচ খেলেছেন। ২৯ ম্যাচে দুই ফিফটিতে ২৬.৬৪ গড়ে ৪৫৩ রান করার পাশাপাশি ৩৭.৩০ গড়ে বল হাতে ২৬ উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া তিনটি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ৭৫ ও বল হাতে ৪ উইকেট শিকার করেছেন।