পোকায় খাচ্ছে খুলনার সরকারি খাদ্য গুদামের গম

0
301

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
পোকায় খাচ্ছে খুলনার সরকারি খাদ্য গুদামের গম। ফলে মানুষের খাদ্যের অনুপযোগী হচ্ছে এসব গম। নগর ও জেলার ১০টি সরকারি খাদ্য গুদামে রক্ষিত ৩৪ হাজার মেট্রিক টন গমেই পোকার আক্রমণ হয়েছে। গুদামে মজুদকৃত গমের বাজার মূল্য ৯৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি গমের খুচরা মূল্য ২৮ টাকা।
এদিকে, পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতি মাসে কীটনাশক ব্যবহার করা হলেও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। আগামী দুই/তিন মাসের মধ্যে মজুদকৃত গম খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। গম বিতরণের কোনো খাত খুঁজে পাচ্ছে না খাদ্য অধিদপ্তর।
গত ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে জেলা খাদ্য অফিস এমন তথ্য খাদ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করছে। কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম ও উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকেও প্রতি মাসে এমন তথ্য জানানো হচ্ছে জেলা খাদ্য অফিসকে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। মজুদকৃত এ গম গত বছর রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়।
মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের ব্যবস্থাপক শেখ আনোয়ারুল করিম জানান, খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ না থাকায় মজুদকৃত গম বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মজুদকৃত গম গত বছর রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। মজুদকৃত গমে পোকার আক্রমণের বিষয়টি জেলা খাদ্য অফিসকে প্রতি মাসে জানানো হচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন জানান, সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় এবং কোনো খাত খুঁজে না পাওয়ায় মজুদকৃত গম বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ওএমএসের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ৬৭৫ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হচ্ছে। ৭৮ জন ডিলার প্রতিদিন ১ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করতে পারে না। দীর্ঘ দিন মজুদ থাকায় গমে পোকার আক্রমণ হয়েছে। জেলার ১০ গুদামে ৩৪ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন আমদানিকৃত গম মজুদ রয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরে পাঠানো জেলা খাদ্য অফিসের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম খুলনার ১০ গুদামে মজুদ করা হয়। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার ব্রিগেড, জেলখানায় ৬ হাজার মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়েছে। ১০ গুদামে রোববার পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মজুদ বয়রাস্থ খুলনা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামে। এখানে ১৬ হাজার মেট্রিক টন গম এবং মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামে ১২ হাজার মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে। বাকি গম উপজেলা পর্যায়ের আট গুদামে মজুদ রয়েছে।
জেলা খাদ্য অফিসের সূত্র জানান, রাশিয়া থেকে আমদানি করা লাল রংয়ের গমকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রিমিথাইল ও এগ্রিফস নামের কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।

খুবিতে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ

খুলনা ব্যুরো:
দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েকউজ্জামান প্রধান অতিথি থেকে এ আর্কাইভের উদ্বোধন করেন।
খুবির আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের ২০ ফুট ভূগর্ভে স্থাপিত এ আর্কাইভ বাংলাদেশ বনবিভাগের সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কারিগরি সহায়তায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডি-এর আর্থিক সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে।
আর্কাইভ উদ্বোধনের আগে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, দেশের প্রথম এ সয়েল আর্কাইভ স্থাপন একটি সবিশেষ উদ্যোগ। এর ফলে এক জায়গা থেকেই দেশের সমগ্র অঞ্চলের মাটির প্রকারভেদ, গুণাগুণসহ নানা তথ্য-উপাত্ত জানা যাবে।
তিনি বলেন, এই আর্কাইভ বনবিভাগ, কৃষি বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ, মৃত্তিকা সম্পদ বিভাগসহ কৃষির সব সেক্টরের জন্য গবেষণার একটি নতুন জায়গা তৈরি করবে। এর ভিত্তিতে দেশে কোন এলাকায় কী ধরনের মাটিতে কী ধরনের গাছ, ফসল ফলানো যাবে তার উপযোগিতা নির্ধারণ সহজ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষার্থীদের জন্যও এটা খুবই উপকারে আসবে।
ভিসি আরও বলেন, বেঁচে থাকার জন্য বৃক্ষরাজি গুরুত্বপূর্ণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। সেক্ষেত্রে বনবিভাগ বনজরিপের যে উদ্যোগ বাস্তবায়িত করছে তা খুবই সময়োপযোগী। তিনি বনবিভাগের সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ কার্যক্রমকে স্বাগত জানান এবং এই সয়েল আর্কাইভ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর এ কে ফজলুল হক, বাংলাদেশ বন বিভাগের খুলনা সার্কেলের বনসংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী এবং এফওএ’র আন্তর্জাতিক পরামর্শক ড. ক্রিস্টফার জনসন।
সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মো. ইনামুল কবীর। সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্টে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন খুবির ফউটে ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন এবং বিএফআই প্রকল্পের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর মো. জহির ইকবাল।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, বাংলাদেশ বন বিভাগ, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এই সয়েল আর্কাইভে বাংলাদেশ ফরেস্ট ইনভেন্টরি প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৬৯৮ প্লটের ৪ হাজার ২২৫টি মাটির নমুনা সংগৃহীত রয়েছে যা মাটি নিয়ে নানামুখী গবেষণার দ্বার উন্মোচন করবে