শনিবার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের হুমকি–পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ

0
244

বার্তাবিডি২৪.ডেস্ক নিউজ:

সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের বেশ কিছু ধারার সংশোধনসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা বিভাগে চলছে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। আর দাবি না মানলে আগামী শনিবার থেকে সারা দেশে লাগাতার ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। কিন্তু সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এখনই আইন সংশোধনের সম্ভাবনা নাকচ করে মালিক-শ্রমিকদের প্রতি চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। আর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন প্রধান নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আইনের সংশোধনের দাবিতে বিভক্তিতে থাকা শাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ‘পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে গত রোববার থেকে ঢাকা বিভাগে পণ্য পরিবহন ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে। তাদের ডাকা সেই ধর্মঘটে সোমবার সমর্থন দিয়েছে অন্যান্য সংগঠনগুলোও। এখন জোটবদ্ধ মালিক-শ্রমিক নেতারা বলছেন, সরকার তাদের দাবি না মানলে এই ধর্মঘট আগামী ১২ অক্টোবরের পর থেকে সব ধরনের পরিবহনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, সরকার যে আইন করেছে সে আইন মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যায়। মালিক হিসেবে আমি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত, ঠিক তেমনি আমার গাড়ি যে চালাবে সেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমন আইন মেনে নিতে পারি না। তাই সরকার যদি আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে শনিবার থেকে যে ধর্মঘট হবে তাতে আমাদেরও সমর্থন থাকবে।

সরকারবিরোধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিজের সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম কাজল বলেছেন, সরকার সড়ক পরিবহন আইন নামে যে আইনটি পাস করেছে তাতে সাধারণ জনগণ, মালিক-শ্রমিক কারো স্বার্থই রক্ষা হয়নি। এই আইনটা করতে একটা বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটি সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে একটা আইন খসড়া করেছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে সেটা যাওয়ার পর প্রশাসনের কর্তারা তা পরিবর্তন করে নিজেদের মতো জগাখিচুড়ি করে রেখেছে। এই আইন আমরা মানি না। তবে দাবি না মানলে লাগাতর ধর্মঘটে সংগঠনটির অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলতে নারাজ এই নেতা। তিনি বলেন, সময় হলে দেখা যাবে কি করব।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ বলেন, সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনে মালিক ও শ্রমিকদের জন্য হুমকিস্বরূপ বেশ কিছু ধারা রয়েছে। আমরা এসব ধারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সংশোধন করতে চাই। আইনটা যাতে মালিক-শ্রমিকবান্ধব হয় সে চেষ্টা করছি। সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে দাবি আদায়ের নামে যারা ধর্মঘট করছে, সড়কে ভাঙচুর চালাচ্ছে তারা মূলত সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

ঐক্য পরিষদের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হলে লাগাতর ধর্মঘটে সমর্থন জানাবে বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনও। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধন করার কোনো বিকল্প নেই। এমন আইন মেনে নিয়ে আমরা রাস্তায় গাড়ি নামাতে পারি না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে সকল ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

এদিকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, পরিবহন শ্রমিকরা যে দাবিতে আন্দোলন করছে, আমরা পরিবহন আইনটি করার জন্য তিন বছর সময় নিয়েছি। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই আইনটি আমরা পাস করেছি।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলেছি এটা সদ্য প্রণীত একটি আইন; যদি বিধি প্রণয়ন করে তাদের জন্য কোনো সুযোগ সৃষ্টি করা যায় তাহলে আমরা করব। আমরা শ্রমিকবান্ধব সরকার। আমরা তো সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারার সরকার না। তাদের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আমরা সময়মতো দেখব। তবে তাদের ধর্মঘটটা এখন প্রত্যাহার করতে হবে। ধর্মঘট প্রত্যাহার করুক, তার পর আইনে তাদের জন্য কোনো বিধিবিধান করা যায় কি না দেখব। আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে দেখব।

ঐক্য পরিষদের লাগাতার হুমকির বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

গত শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনাল থেকে ‘পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ রোববার থেকে ঢাকা বিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়। একই দিন রাজধানীর ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে ‘সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ও সড়ক আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবি জানায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি আসে ওই সমাবেশ থেকেই।