ঠাকুরগাঁওয়ে রাত পোহাতেই ‘হালচাষে’ ৩০০ টাকা বাড়ল

0
8
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ হঠাৎ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। আয়-ব্যয়ের ডামাডোলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এমনকি সাধারণ মানুষও।
হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেড়ে গেছে কৃষকের খরচ। এক বিঘা জমিতে হালচাষ দিতে ৫০০ টাকা নিলেও রাত পোহাতেই তা বেড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে কৃত্রিম সংকটে সার-কীটনাশক ব্যবহারে খরচ বেড়েছে কৃষকের। কৃষকদের দেয়া তথ্যমতে, চলতি আমন মৌসুমে এক বিঘা জমিতে খরচ গুনতে হবে ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হবে ২০ থেকে ২২ মন ধান।

প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে বলে জানান ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। আর বর্গাচাষিদের ক্ষেত্রে আবাদ নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। তেলের দাম বাড়ায় কোনোভাবেই খরচ উঠবে না বলে দাবি তাদের।

অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত ভাড়া নির্ধারণ করা না হলে যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে জেলায় ভাড়ায়চালিত অনেক যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন চালকরা।

এ ছাড়া সবকিছুর মূল্য বাড়ায় সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবু হোসেন জানান, কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ধানের মূল্যও বাড়ানোর প্রয়োজন হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

তা না হলে কৃষক চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

একই অবস্থা কৃষিপ্রধান জেলা নীলফামারীতে। সারের দাম বৃদ্ধির পর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।
চলতি আমন মৌসুমে আকাশের বৃষ্টি না হওয়ায় সেচযন্ত্র ব্যবহার করে সেচ দেয়ার খরচে যোগ হওয়া সারের মূল্য বৃদ্ধির কয়েক দিন যেতে না যেতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভাবিয়ে তুলেছে কৃষকদের। হঠাৎ করে তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে ট্রাকটরের ভাড়া বাড়ায় প্রতি বিঘা জমিতে চাষ দিতে অতিরিক্ত খরচ হবে ১২ শত টাকা।
নীলফামারী সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে জমিতে গিয়ে দেখি, ট্রাকটরের মালিক বলছে- বিঘা প্রতি ৩ শত টাকা বেশি দিতে হবে জমি চাষ করতে। হঠাৎ করে এত টাকা জোগাড় করা কষ্টসাধ্য। আমার ৫ বিঘা জমি চাষ করতে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার টাকা জোগাড় করতে হবে।’