তানোরে জাল দলিলে সরকারি জায়গা দখল

0
6

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃরাজশাহীর তানোরে জাল দলিল সৃষ্টি করে পৌরসভার কালিগঞ্জ হাটের প্রায় দেড় কোটি টাকা মুল্যের জায়গা জবরদখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছরের গত ৫ জানুয়ারী বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষে প্রভাষক তাজেমুল ইসলাম ও পরবর্তীতে হাট কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোবারক হোসেন বাদি হয়ে সিদ্দিক হোসেনকে (দলিল লেখক) বিবাদী করে সরকারি জায়গায় এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও অপসারণ দাবি করে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভুমি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্ত্ত কোনো কিছুই ভুমিগ্রাসী সিদ্দিক মুহুরীর দখলবাজি করে মার্কেট নির্মাণ ঠেকাতে পারেনি।

এদিকে পৌরসভা জায়গা দখল বন্ধ করতে সিদ্দিককে নোটিশ দেয়া নিয়ে ইদুর-বিড়াল খেলা শুরু করেছে।সকালে নোটিশ দেওয়ার কথা বলা হলেও রহস্যজনক কারণে দেওয়া হয়নি।

এতে  পৌরবাসীর মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। গত ৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার পৌরসভার অফিস সহকারী ওমর আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইন্জিনিয়ার স্যার আসলে মার্কেট বন্ধের জন্য নোটিশ করা হবে।হাটের জায়গার প্ল্যান কিভাবে অনুমোদন দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের নামে খাজনা খারিজ আছে এজন্য প্ল্যানের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (অতিঃ) জাহাঙ্গীর  আলম সরদার বলেন, সিদ্দিক হোসেনকে নোটিশ দেয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, এটা মেয়র স্যার বলতে পারবেন। এবিষয়ে তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হয় মার্কেটের নির্মাণ কাজ বন্ধে নোটিশ দেওয়ার কথা ছিল,, কিন্তু কি কারনে দেওয়া হয়নি, তিনি বলেন তাদের নিজস্ব জায়গা আমি নোটিশ দিব কেন ?নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা জানান, বিগত ২০০৭ সাল থেকে ওই জায়গায় স্থাপণা নির্মাণ বন্ধ করা আছে, কিন্ত্ত বর্তমান মেয়র বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে মার্কেট নির্মাণে সহযোগীতা করেছে, সরেজমিন তদন্ত করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে

জানা গেছে তানোর পৌরসভার কালীগঞ্জ হাটের আয়তন এক একর ২০ শতক।হ এসব জায়গার মধ্যেস্থলে (সায়রাত ভুক্ত) জেল নম্বর ১২৯ রায়তানবর্ষ, দাগ নম্বর ১২৯১ পরিমাণ .০৭ শতক সম্পত্তি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে সিদ্দিক মহুরী। অভিযোগে প্রকাশ, বিগত ২০০৭ সালের ২৯ জানুয়ারী (তৎকালীন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুছ সাদাত জমির মালিক দাবিদার হাজী আইয়ুব মিঞাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ একই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী তার কার্যালয়ে উপস্থিত হতে নোটিশ দেন। তবে তারা ধার্য্য দিনে কাগজপত্রসহ উপস্থিত ব্যর্থ হয়। ফলে ২০০৭ সালের ৮ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদেশ দিয়ে বলেন, কালীগঞ্জে হাটের মধ্যে ব্যক্তিগত ভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এদিকে ২০০৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী তানোর পৌরসভার স্বারক নং তাঃপৌঃ/২০০৭/৬৯৫ এবং স্বারক নং তাঃপৌঃ/২০০৭/৬৮৩ তারিখ ১৩/০২/২০০৭ ইং মোতাবেক অবৈধ ভাবে নির্মিত দোকান ঘর অপসারণের জন্য নোটিশ দেন (তৎকালীন) মেয়র এমরান আলী মোল্লা। এ ঘটনার থেকে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর যাবত ওই জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণ বন্ধ ও হাটবার হাট বসে আসছে সবাই জানে এটা হাটের জায়গা এবং চারদিকে হাট মধ্যস্থলে ব্যক্তি মালিকাধীন জমি থাকার কোনো সুযোগ নাই।

কিন্ত্ত ২০২২ সালের ১লা জানুয়ারী সরনজাই কাচারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক মুহুরী জাল দলিল সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রয় সুত্র জমির মালিকানা দাবি করে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী জানান, ভুমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার নেপথ্যে যোগসাজশে চিহ্নিত জালিয়াত সিদ্দিক মুহুরী ও তার পুত্র আল-আমিন মুহুরী জাল দলিল সৃষ্টি করে তাদের নামে খাজনা-খারিজ করেছে, তারা বলেন, তাদের কাগজপত্র যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। এ

বিষয়েে জানতে চাইলে সিদ্দিক মুহুরী জানান আমার ক্রয়কৃত জায়গা এজন্য মার্কেট নির্মাণ করছি।কার কাছে কি ভাবে ক্রয় করলেন তিনি রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে। তবে দলিল দেখতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন খারিজের জন্য ভুমি অফিসে আছে ও লোনের জন্য ব্যাংকে দেওয়া আছে।আমার কাছে কোন কিছুই নেই।তার ছেলে মুহুরি আলামিন জানান চুরি করে মার্কেট করছি না।

জায়গা কিনে করছি এটা ইউএনও, মেয়র ও এসিল্যান্ড সবাই জানে। এবিষয়ে ভুমি অফিসের তহসিলদার লুৎফর রহমান জানান কাগজপত্র সঠিক পেয়েছি এই জন্য খারিজ করা হয়েছে। এদিকে কালিগন্জ হাট বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব  মোবারক হোসেন জানান যদি ওই জায়গায় মার্কেট করা যেত তাহলে অনেক আগেই জমির মালিকরা নির্মাণ করতে পারতেন।

কিন্ত দীর্ঘ এতো বছর পর মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে আমরা হতবাক। এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।