আওয়ামী লীগের গোছানো মাঠ নস্টের অভিযোগ

0
8
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১ ভিআইপি এই সংসদীয় আসনে একশ্রেণীর বগী (আক্যামা) মনোনয়নের ধোঁয়া তুলে আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময় গোছানো ভোটের মাঠ নস্টের অভিযোগ উঠেছে। আবার কেউ কেউ বলছে, বিএনপি-জামাতের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের বি-টিম হয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এরা কাজ শুরু করেছে।
এরা কখানো দলীয় মনোনয়ন পাবেন না, তাদের নেতাকর্মীদের মেনে নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। অথচ এরা নির্বাচনের সময় আসলেই মনোনয়নের গুজব তুলে দলে কোন্দল ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময় ভোটের মাঠ নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। এদের এসব অপতৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে  উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন , দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।
জানা গেছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় এলাকা বিএনপি-জামাতের আঁতুড় ঘর। কিন্ত্ত আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী তার রাজনৈতিক দুরদর্শীতায় বিএনপি-জামাতের আঁতুড় ঘর তছনছ করে আওয়ামী লীগের বসতঘর পরিণত করেন। বিএনপির হেভিওয়েট নেতা সাবেক মন্ত্রী ও অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলামকে পরাজিত করে ফারুক চৌধুরী পরপর তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখানে ফারুক চৌধুরীর কোনো বিকল্প নাই তার মনোনয়ন নিশ্চিত। আপরদিকে এখানে ফারুক চৌধুরীর থাকলে তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তি নাই। বিষয়টি উপলব্ধী করতে পেরে ফারুক চৌধুরীকে সরাতে বিএনপি-জামায়াত অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। এর জন্য তারা আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর বিপদগামী নেতার পেছনে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে তাদের মাঠে নামায়।  আওয়ামী লীগের ছায়াতলে থেকে তারা  বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। তারা মনোনয়ন পাবেন না এটা নিশ্চিত হয়েও মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময় ভোটের গোছানো মাঠ নষ্ট করে বিএনপি-জামাতের সুবিধা করে দেয় বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসন আয়তনের দিক থেকে দেশের ৮ম বড় সংসদীয় আসন। বিশাল আয়তন, নিভৃত ও দুর্গম পল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসন। রাজনীতির প্রথম শর্ত হলো  সাধারণ মানুষের পরিচিত ও আমজনতার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা। এখানকার মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে নতুন একজন মানুষের কমপক্ষে ১০ বছর সময় প্রয়োজন। অথচ এখানে রাজনীতি নিয়ে শুরু হয়েছে ‘রঙ্গমঞ্চ’ বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। কারণ ইউপি সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন এমন ব্যক্তিও এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে পোস্টার সেঁটেছে, আবার সারাদেশের মানুষের কাছে যিনি বিতর্কিত ও ঘৃনিত তিনিও এমপি হবার খোয়াব দেখছে। আবার নির্বাচনী এলাকায় এক জনের দাদার বাড়ি তাই তিনি এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন।  অন্যজনের নানার বাড়ি তাই তিনিও এখানে এমপি হবার স্বপ্ন দেখছেন। অথচ মানুষ নিজের বাবা ও পরিবারের পরিচয়ে পরিচিত হয়। কিন্ত্ত এরা বাবা-মা-পরিবারের পরিচয় গোপণ করে রাজনীতিতে আসতে চাই কিন্ত্ত কেন ? অন্যদিকে পাঁচবার দলীয় মনোনয়ন, একবার প্রতিমন্ত্রী, তিনবার নির্বাচিত সাংসদ, একবার জেলার সভাপতি ও সম্পাদক, সিআইপি, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি এমন  আদর্শিক”  পরীক্ষিত ও হেভিওয়েট নেতৃত্ব ফারুক চৌধুরীকে কেনো মনোনয়ন বঞ্চিত করে বগী আওয়াজ দেয়া স্বপ্নবাজদের মনোনয়ন দেয়া হবে তার ব্যাক্ষা এই জনপদের মানুষ জানতে চাই। কারণ পরীক্ষিত নেতৃত্বের প্রতিপক্ষ হবে পরীক্ষিত নেতৃত্ব। এখন যে কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসে যদি পরীক্ষিত নেতৃত্ব সরিয়ে নিজে সেই স্থান নিজে নিতে চাই, তাহলে তার সেই চাওয়াই তো অপরাধ বা সীমালঙ্ঘন বলে মনে  করছে তৃণমুল। অথচ নির্বাচনী মৌসুম এলেই একশ্রেণীর মতলববাজ বগী আওয়াজ দিয়ে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী দাবি করে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দু’একজনের সঙ্গে কথা বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে গণসংযোগ। কিন্ত্ত তানোরের দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউপির ৮১ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কোনো নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে নাই,তাহলে তারা ভোট করবেন কাদের নিয়ে, আর তার সঙ্গে আছে যারা তারা কারা। এসব বিবেচনায়  বগী আওয়াজধারীদের নিয়ে সাধারণের মাঝে নেতিবাচক আলোচনা ও নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সূত্রপাত বলে মনে করছে সাধারণ নেতাকর্মীরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here