শৈলকুপায় ক্লিনিক প্লাস ঔষধ ব্যবহারে পেঁয়াজ চারার ক্ষতি, পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত

0
16

মফিজুল ইসলাম শৈলকুপা(ঝিনাইদহ) ঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কেমিষ্ট ক্রপ কেয়ারকোম্পানীর আগাছা দমনের বালাইনাশক ঔষধ স্প্রে করে পেঁয়াজের চারা মরার ঘটনা
ঘটেছে। ঘটনাটি উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কুশবাড়ীয়া গ্রামের কুশবাড়িয়া দক্ষিণ মাঠে।

এই ঔষধ ব্যবহার করায় ৬-৭ বিঘা জমির পেঁয়াজ চারা নষ্ট
হয়েছে বলে জানা যায়। এই চারা থেকে প্রায় ১০০বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগানো সম্ভব হত ।

চারা মরে যাওয়ার ফলে প্রায় কোটি টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলে পেঁয়াজ চাষীরা জানান। এদিকে এমন ক্ষতিতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন মাঠ ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার কুশবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার এই মাঠে ১৫ থেকে ২০ জন কৃষক লাল তীর কিংসহ অন্যান্য কোম্পানীর ৬০ কেজির মত পেঁয়াজ
বীজ বপন করেছিল প্রায় ৬-৭ বিঘা জমিতে।

কযেকদিন বাদেই পুরোদমে পেঁয়াজ লাগানোর জন্য মাঠ প্রস্তত হচ্ছে।

চারাগুলো ধীরে ধীরে বড় হওয়ায় এর মধ্যে আগাছা
জন্মায় । কেমিষ্ট ক্রপ কেয়ার কোম্পানীর ক্লিনিক প্লাস ঔষধ স্প্রে করার ৩-৪ দিন পর চারা মরে মাটির সাথে একেবারে মিশে আছে।

এই ঐষধ স্প্রে করায় আগাছা দমনের বদলে পেঁয়াজ চারা মরে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেল। এই প্রতিবেদক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার খবরে একে একে কৃষকরা মাঠে এসে ভীড় জমায় ও তাদের ক্ষতিগ্রস্থ জমিগুলো দেখান সেইসাথে তাদের অভিযোগ বলতে থাকেন।

সবার একই অভিযোগ কেমিষ্ট ক্রপ কেয়ার কোম্পানীর ক্লিনিক প্লাস ঔষধ ব্যবহারে আমাদের পেঁয়াজের চারা মরে সাফ হয়ে গেছে। এসময় কৃষকদের চোখে মুখে দুশ্চিন্তার
ছাপ দেখা যায়।

উপজেলার কুশবাড়িয়া গ্রামের খবির শেখ, মোঃ আজাদ, মোঃ রাজু , মোঃ ফজলু বিশ^াস,কুদ্দুস শেখ,সাবু শেখ, হারুন শেখ,মোঃ ইদ্রিস ,মোঃ জনি , মোঃ সনেট সহ ১৫ থেকে ২০ জন কৃষকের জমিতে এই ঔষধ প্রয়োগ করায় তাদের পেঁয়াজের বীজ তলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানা যায়।

কুশবাড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ পেঁয়াজ চাষী খবির শেখ জানান, আমি ৫ কেজি পেঁয়াজের বীজ প্রতি কেজি ৫ হাজার টাকা দরে কিনে ২৫ শতক জমিতে বপন করেছিলাম।

জমিতে আগাছা হওয়ায় কেমিষ্ট কোম্পানীর মার্কেটিং অফিসার মিল্টনের কথামত আগাছা দমন করার জন্য তাদের কোম্পানীর ক্লিনিক প্লাস ঔষধ স্প্রে করি এরপর ৩-৪ দিন পর এসে দেখি আমার পেঁয়াজের চারা সব মরে গেছে। এখন আমি কি করবো সেই চিন্তায় কোন কাজ করতে পাচ্ছি না। আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।

উপজেলার কুশবাড়িয়া গ্রামের আরেক পেঁয়াজ চাষী আজাদ বলেন,আমার ২০ শতক জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ছিল ও ১০ শতক জমিতে পেঁয়াজের বীজ বপন করেছিলাম যা বড় হয়ে গিয়েছিল। কয়েকদিন পরেই লাগানোর উপযোগী হয়ে উঠতো।

আগাছা দমনের জন্য আমিরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক দোকান থেকে কেমিস্ট ক্রপ কেয়ার কোম্পানীর ক্লিনিক প্লাস ঔষধ স্প্রে করায় পেয়াজের চারা সব মরে গেছে আমি এর ক্ষতিপূরন চায়।

আরেক কৃষক মোঃ জাকির বলেন, এই মাঠে কৃষকরা কমপক্ষে লাল তীর কিংসহ বিভিন্ন জাতের ৫০ কেজি পেঁয়াজ দানা বপন করেছিল ।

এই পেঁয়াজ দানার চারা দিয়ে কমপক্ষে ১০০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগানো সম্ভব হত।কিন্তু কেমিষ্ট ক্রপ কেয়ার কোম্পানীর এই ঔষধ স্প্রে করে সব চারা মরে গেছে, এই মাঠে এবার পেঁয়াজ লাগানো সম্ভব হবে না।

এই মাঠে সব মিলে কৃষকদের কোটি টাকার
মত ক্ষতি হয়ে গেল।

ক্লিনিক প্লাস ঔষধ বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, বিক্রয়ের জন্য আমার দোকানে আমি এই কেমিষ্ট ক্রপ কেয়ার কোম্পানীর কাছ থেকে ২৭ কার্টুন ঔষধ
ক্রয় করেছিলাম।

প্রতি বোতল ঔষধের দাম ১৩৫ টাকা ছিল। আমি ঔষধ বিক্রি না করায় কেমিষ্ট কোং মার্কেটিং অফিসার আমিরুল ইসলাম বললো ১০০ টাকা করে পিচ

বিক্রি করেন সেই মোতাবেক আমি অনেক কৃষকের কাছে এই ক্লিনিক প্লাস ঔষধ বিক্রি করেছি। এখন শুনছি এই ঔষধ ব্যবহার করায় পেঁয়াজের চারা সব মরে গেছে।

এব্যাপারে কেমিষ্ট কোম্পানীর মার্কেটিং অফিসার মোঃ মিলটন পেঁয়াজ চাষীদের কাছে ঔষধ বিক্রি করার কথা স্বীকার করে বলেন, এমন ক্ষতি হয়েছে আমি শুনেছি।

আমাদের কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা ২-১ দিনের মধ্যে আসবে তারা এসে সুরাহা করবে। আমি কোম্পানীর প্রতিনিধি আমার কোন দোষ নেই।

আমি তো আর ঔষধ তৈরী করিনি। কেমিষ্ট এ্যান্ড ক্রপ কোম্পানীর ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম বলেন,আমাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি।

কি কারনে এমন ক্ষতি হল তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি আগামী পরশু আসবো।

কোম্পানীর ক্ষতি হোক এমন কিছু লেখবেন না।শৈলকুপা কৃষি অফিসার মোঃ আনিসউজ্জামান বলেন , এব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি।

আমি সরেজমিনে মাঠে যাব , কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য কোম্পানীর কাছ থেকে কিছুটা রিকোভারী করা যায় কিনা সেদিকে আমার নজর থাকবে। সেইসাথে অবৈধ ঔষধ বিক্রেতাদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ বনি আমিন বলেন, এব্যাপারে অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে কৃষকদের স্বার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এটা মেনে নেয়া যাবে না।

কেমিষ্ট এ্যান্ড ক্রপ কোম্পানীর এই ক্লিনিক প্লাস ঔষধসহ অন্যান্য ঔষধ নিয়ে এলাকায় কৃষকদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে , তাদের দাবী এই কোম্পানীর সমস্থ ঔষধ বাজার থেকে তুলে নেওয়া হোক যাতে করে তাদের মত অন্যান্য কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এই কোম্পানীর এনকোজেব ব্লু, কেমোফুরান, ম্যাগপ্লাস, রেকা সালফার, জিংক মনো, দাজসহ আরো অনেক ঔষধ আছে যার কার্যকারিতা একেবারেই নেই বলে কৃষকরা জানান।

শৈলকুপা কৃষি অফিসার মোঃ আনিসউজ্জামান বলেন , এব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। আমি সরেজমিনে মাঠে যাব , কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়
সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য কোম্পানীর কাছ থেকে কিছুটা রিকোভারী করা যায় কিনা সেদিকে আমার নজর থাকবে। সেইসাথে অবৈধ ঔষধ বিক্রেতাদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ বনি আমিন বলেন, এব্যাপারে অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে কৃষকদের স্বার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এটা মেনে নেয়া যাবে না। কেমিষ্ট এ্যান্ড ক্রপ কোম্পানীর এই ক্লিনিক প্লাস ঔষধসহ অন্যান্য ঔষধ নিয়ে এলাকায় কৃষকদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে , তাদের দাবী এই

কোম্পানীর সমস্থ ঔষধ বাজার থেকে তুলে নেওয়া হোক যাতে করে তাদের মত অন্যান্য কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এই কোম্পানীর
এনকোজেব ব্লু, কেমোফুরান, ম্যাগপ্লাস, রেকা সালফার, জিংক মনো, দাজসহ আরো অনেক ঔষধ আছে যার কার্যকারিতা একেবারেই নেই বলে কৃষকরা জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here