অভিভাবকদের বিক্ষোভ: তানোরে  তিন শিশু শিক্ষার্থীকে পাষবিক নির্যাতন

0
14
তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরে ইদুল-ফিতরের আগের দিন (চাঁদরাত) পটকা (বাজি) ফোটানোর অপরাধে তিন শিশু শিক্ষার্থীর ওপর পাষবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
তানোরের সরঞ্জাই ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনের ভাই ও সরঞ্জাই-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া তিন শিশু শিক্ষার্থীর ওপর পাষবিক নির্যাতন করেছে।
এ ঘটনায় ৫মে বৃহস্পতিবার অভিভাবকগণ বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
গত ৪মে বুধবার গ্রাম্য সালিশ আহবান করা হলেও ইউপি সদস্য মতিনের দাপট দেখিয়ে অভিযুক্ত জিয়া সেখানে উপস্থিত না হয়ে সালিশদারদের অকথ্য গালাগালি করেছে।
জানা গেছে, সরঞ্জাই গ্রামের মুরাদুল ইসলামের পুত্র ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বিল ইসলাম (১২), আলহাজ্ব আলীর পুত্র ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম আলী (১০) এবং আতাউর রহমানের পুত্র ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তুহিন আলী (৯)। তারা তিন বন্ধু গত সোমবার ইদের আগের দিন সন্ধ্যায় ইদের চাঁদ দেখে পটকা (বাজি) ফুটিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে।
এতে শিক্ষক জিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে পটকা ফুটাতে ও হৈ-হুল্লোড় করতে নিষেধ করতে করতেই রাব্বি আরো একটি পটকা ফোটায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় শিক্ষক জিয়া শিশু রাব্বি ইসলামকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারে। তার বন্ধু শিশু তুহিন প্রতিবাদ করলে তাকেও তুলে আছাড় মারে ও বেত্রাঘাত করে এবং শিশু সিয়ামকে বেত্রাঘাত করে ঘাছে বেঁধে রাখে। এসময় খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকগণ তাদের উদ্ধার করে গ্রাম প্রধানের কাছে নালিশ করেন।
গত ৪ মে বুধবার রাতে সালিশ আহবান করা হয় তবে জিয়া উপস্থিত না হওয়ায় সালিশ পন্ড হয়। এ সময় গ্রামের শতাধিক অভিভাবক জিয়ার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে  সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এবিষয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাব্বি জানান, জিয়া স্যার তাকে জোরে জোরে কিল ঘুষি মেরেছে এখানো তার পিঠে কালো দাগ হয়ে আছে, এমনকি গলা চেপে ধরে  কয়েকটি আছাড় মেরেছে, আমি এই কথা বাড়িতে বললে আমাকে জানে শেষ করে দিবে বলেছে।
এবিষয়ে অভিভাবক মুরাদুল ইসলাম বলেন, তারা অবুঝ শিশু ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা নাই, তাই বলে সামান্য  পটকা ফুটানোর জন্য তার ছেলেকে মেরে মারাত্মক জখম করেছে, এখানো তার পিঠে কালশিরা দাগ রয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান তিনি এখানো কোন লিখিত অভিযোগ পাননি, অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্হা নেওয়া হবে।তার পরেও এবিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।
এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থী পিটিয়ে জখম করা গুরুত্বর অপরাধ, এটা সে ঠিক করেনি, তিনি বলেন, মেম্বার মতিনের ভাই বলে জিয়া আমাদের কথা আমলে নেয় না।এবিষয়ে স্কুলের সভাপতি মুকুল বলেন, অভিভাবকরা তাকে ঘটনা বলেছে,  অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, তাদেরকে পটকা ফুটাতে নিষেধ করলেও তারা না শোনার জন্য তাদের একটু শাসন করা হয়েছে। তিনি বলেন,একটি মহল ছোট ঘটনাকে বড় করছে।