আশাশুনিতে নাবালিকা স্কুল ছাত্রী অপহরণ,

0
10

মুহা: জিললুর রহমান,সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক নাবালিকা স্কুল ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় গত ২০ দিনেও মামলা হয়নি। এঘটনায় উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদে এক শালিসি বৈঠকে উভয় পক্ষকে ডেকে ওই স্কুল ছাত্রীকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার এক দিন পর চেয়ারম্যানের সমর্থকরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই মেয়েকে বাবার কাছ থেকে নিয়ে ফের অপহরণকারির হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই স্কুল ছাত্রীর ঠাকুরদাদা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে
মারা গেছেন।

আশাশুনি উপজেলার নয়াবাদ গ্রামের অসীম কুমার রায় জানান, তার ভাই ভদ্রকান্ত রায়ের মেয়ে শতাব্দী রায় পিএনএফ ধনীরাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার জন্ম তারিখ ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। গত ১৭ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তাকে বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তার বাবা ভদ্রকান্ত রায় দেয়াবর্ষিয়া গ্রামের রসিক মন্ডলের ছেলে মিলন মন্ডলের নামে থানায় এজাহার দায়ের করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে মামলা এড়াতে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিম ২৩ এপ্রিল উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে দুপুর ১২টার দিকে শতাব্দীকে শাখা ও সিন্দুর পরিহিত অবস্থায় তার বাবার হাতে তুলে দেন।

অসীম কুমার রায় আরো জানান, ২৫ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে চেউটিয়া গ্রামের কবীর হোসেন, আনিসুর রহমান, দীনেশ মন্ডল, পিএনএফ ধনীরাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পশুপতি রায়, কাপষন্ডা গ্রামের রোকনুজ্জামান, তার স্ত্রী ফতেমা, দেয়াবর্ষিয়া গ্রামের বিশ্বনাথ মন্ডল, ভোম্বল মন্ডল, তারক মন্ডল, মিলন মন্ডলসহ কয়েকজন সাতটি মোটর সাইকেলে তাদের বাড়ির সামনে আসেন। পরে বাড়িতে ঢুকে মেয়েকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দাদা ভদ্রকান্ত রায়ের উপর
চাপ সৃষ্টি করেন।

নিরুপায় হয়ে দাদা বিষয়টি তাৎক্ষণিক থানার উপপরিদর্শক নুরুন্নবীকে জানান। নুরুন্নবী মোবাইল ফোনে দীনেশ মন্ডলের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলেন। পুলিশে ফোন করায় তারা ভদ্রকান্ত রায়ের এর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিমের সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় চেয়ারম্যান ঝামেলা না করে মেয়েকে ওইসব লোকজনদের হাতে তাকে তুলে দিতে বলেন।একপর্যায়ে দীনেশ মন্ডলসহ তার সঙ্গে থাকা লোকজন শতাব্দীকে ঘর থেকে বের করে এনে বাবার সামনে দাঁড় করান। মেয়েকে অপহরণকারি মিলনের সাথে বিয়ে দিতে তার কোন আপত্তি নেই মর্মে বলতে বাধ্য করিয়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। এ নিয়ে থানায় কোন অভিযোগ করবেন না বলতেও বাধ্য করা হয়। এরপরপরই ওইসব লোকজন শতাব্দিকে নিয়ে চলে যান।

এদিকে এই অপমান সহ্য করতে না পেরে আমাদের বাবা মনোরঞ্জন রায় বড়দল ইউনিয়নের জেলপেটুয়া গ্রামে মেয়ের বাড়িতেম চলে যান। শোকে ও দূঃখে ২৯ এপ্রিল রাত পৌনে ১২টার দিকে জামাতার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। বিষয়টি জানার পরও পুলিশ গত  ২০ দিনেও অপহরণকারি ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আবার ওই মহলটির ভয়ে স্কুল ছাত্রীর বাবা ও স্বজনরা আদালতে মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না।

বিশিষ্ঠ মানবাাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, ১৬ বছর আট মাস বয়সের নাবালিকাকে বিয়ে দেওয়া বাল্য বিবাহ আইন পরিপন্থি। এরসঙ্গে জনপ্রতিনিধিসহ যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা নাহলে সমাজে এ ধরণের ঘটনার প্রবণতা বাড়তে থাকবে। বিয়ে বর্হিভুত মিলন ও শতাব্দীর এক জায়গায় অবস্থান করাটা ধর্ষণের শামিল।

এবিষয়ে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিম বলেন, প্রেমের টানে একজনের হাত ধরে চলে যাওয়া নাবালিকা শতাব্দীকে তিনি উদ্ধার করে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। অনেকেই তার কাছের লোক হতে পারে। আবারো ওই মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ কোন আইনগত ব্যবস্থা নিলে তিনি সব ধরণের সহায়তা করবেন। তার নাম ভাঙ্গিয়ে বেআইনি কোন কাজ করলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোমিনুর রহমান জানান,
বিষয়টি তার স্মরণে নেই। খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।