আট মেগা প্রকল্পের গড় অগ্রগতি ৬৯ শতাংশ

0
6

ডেস্ক নিউজঃ সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত) মেগা ৮ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড় ভৌত অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৬৯ (৬৮ দশমিক ৬১) শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৬১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।

এখন পর্যন্ত (ফেব্রুয়ারি) খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৫০ শতাংশের বেশি খরচ হয়েছে। সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল প্রকল্প। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

অগ্রাধিকার পাওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে-পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।

আরও জানা যায়, ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টিতে (রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ছাড়া) চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩৮ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে সংশোধিত এডিপিতে এই বরাদ্দ কমিয়ে ধরা হয় ৩৫ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা। এদিকে চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এসব প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই কোনোটির বাস্তবায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে।

শ্রীলংকার মতো অবিবেচনাপূর্ণভাবে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়নি। প্রত্যেকটি প্রকল্পই জনগণের এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে যেগুলো পিছিয়ে আছে সেগুলোর বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো খুবই প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রীলংকা প্রকল্প নেওয়ার আগে ঠিকমতো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেনি। ফলে তাদের গভীর সমুদ্রবন্দর কার্যকর হয়নি।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চীনের কাছে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এমন কোনো মেগা প্রকল্প নেয়নি যেগুলো কার্যকর হবে না।

পদ্মা সেতু প্রকল্প : ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু। এ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এখন আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৬ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে পুরো প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯১ শতাংশ।

আগামী জুনে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম এর আগে যুগান্তরকে বলেন, আমরা আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প : ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটি। এটির বাস্তবায়ন মেয়াদ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে।

শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প : ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি। এটির বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। মেয়াদ রয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে খরচ হয়েছে ৪৯ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

মেট্রোরেল প্রকল্প : ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। ২০১২ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে। শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ৩৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ০৪ শতাংশে। তবে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশ পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়ায় এ অংশ নির্মাণে প্রকল্পটি সংশোধন করার কারণে ব্যয় বাড়ছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে। আগের ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বরেই প্রথম অংশ খুলে দেওয়া হবে।

এজন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য অংশের কাজও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশ পরবর্তী সময়ে প্রকল্পে যুক্ত হওয়ায় এ অংশটি শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প : ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প : ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে এটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প : ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধাদির উন্নয়ন প্রকল্প। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭২ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প : ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এ প্রকল্পটি। এটির মেয়াদ শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাই থেকে।

২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৩৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতির পরিমাণ অনেক বেশি-প্রায় ৬৮ শতাংশ।