বাতিল হচ্ছে বজ্রপাত মোকাবিলায় তালগাছ প্রকল্প

0
5

ডেস্ক নিউজঃ তালগাছ লাগিয়ে বজ্রপাত মোকাবিলার কৌশলে ইতি টেনে দিয়েছে সরকার। বজ্রপাত থেকে বাঁচাতে দেশজুড়ে এক কোটি তালগাছ লাগানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার, তা আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত আমরা’ শীর্ষক সংলাপে ওই কর্মসূচি বাতিল করার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান।

বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের উপস্থাপনায় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি তপন বিশ্বাস।

ডা. এনামুর রহমান বলেন, ৩৮ লাখের মতো তালগাছ লাগানোর পর দেখা গেল, যত্নের অভাবে মারা যাচ্ছে। তাই এটা বাতিল করে দিয়েছি। আর একটি তালগাছ বড় হতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগে। তাই এটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান মনে হচ্ছে না।

বজ্রপাতে প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালে সরকার ১০ লাখ তালগাছ রোপণের পরিকল্পনা নেয় সরকার। তখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রচুর পরিমাণে তালগাছ ও নারকেল গাছ রোপণ করা হলে সেগুলো বজ্রনিরোধক দণ্ড হিসেবে কাজ করবে।

এজন্য সরকারিভাবে সারাদেশে ১০ লাখ তালগাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। পরে সরকারের তরফে সারাদেশে কোটি তালের চারা রোপণের পরিকল্পনা জানানো হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও তালগাছ লাগানো হয়েছিল। এখন আর সেই প্রকল্প চলমান নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ডা. এনাম বলেন, ঢাকার জরাজীর্ণ সব ভবন ভেঙে দেশে ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, জরাজীর্ণ সব ভবন ভেঙে ফেলবো। জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় ভূমিকম্প-সহনীয় নকশায় এগুলো নতুন করে তৈরি করা হবে। নকশা এমনভাবে করা হচ্ছে যেন ভবনগুলোর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীলতা থাকে।

এরইমধ্যে নির্মিত কিছু ভবন আমরা পরীক্ষা করবো, কোনো দুর্বলতা থাকলে সেগুলো শক্তিশালী করা হবে। নতুন যেসব ভবন এখন হচ্ছে সেগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে বিএনবিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড) মানতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অবশ্য এক্ষেত্রে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঐতিহ্য ঘোষিত ভবনগুলোকে তালিকায় রাখা হয়নি। যেগুলো হেরিটেজ হিসেবে আছে সেগুলো স্পেসিফিক কাজে আছে। আমরা যেগুলোর কথা বলছি, আবাসিক ভবনের কথা। যেখানে মানুষ বাস করছে।

ডা. এনাম বলেন, বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে আশ্রয়কেন্দ্র ও লাইটনিং এ্যারেস্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে সচেতনতা, প্রচারণা ও আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম চালু করবো। ৪০ মিনিট আগেই মোবাইল অ্যাপে সতর্ক করতে পারবে।

খোলা জায়গায় যারা থাকবে তাদের জন্য ছোট করে লাইটনিং সেন্টার ও লাইটনিং এ্যারেস্টার স্থাপন করা হবে। ডিপিপি অনুমোদন হলে কাজ শুরু করব। তবে এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ৪০টি বজ্রপাত অ্যারেস্টার বসানো হয়েছে।